বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:২৭ এম
ফেনীতে পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূ ও এক যুবকের।
বুধবার (২২ জুলাই) জেলায় সোনাগাজী এবং পরশুরামে দুপুর ও সন্ধ্যার সময় এসব ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে, পরশুরামের মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি বিয়ের স্টেজে লাইটিংয়ের বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটে সাইমন মজুমদার (২০) নামক এক যুবকের।
নিহত সাইমন মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি ‘সায়মন্ড ইভেন্ট’ নামে একটি ইভেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করতেন যা পরশুরাম বাজারের কলেজ রোডে অবস্থিত। ব্যক্তিগত জীবনে সাইমন বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানে স্টেজে লাইটিংয়ের সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে গিয়ে গুরুতর আহত হন সাইমন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সাইমনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালে স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয়রা ভিড় জমান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তার স্বজনরা আপত্তি জানান। এক পর্যায়ে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে।
এ সংক্রান্ত পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, "পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে স্বজন ও স্থানীয়রা এতে আপত্তি জানান।" তিনি আরও জানান, "একসময় বিপুলসংখ্যক মানুষ এসে হাসপাতালের সামনে মরদেহ ময়নাতদন্তে নিতে বাধা দেন। এরপর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
এদিন সোনাগাজীতে নিহত গৃহবধূর নাম রুমা আক্তার (৩৫)। তিনি নবাবপুর ইউনিয়নের মহাদিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নিজের বাড়িতে ঘরের কাজ করতে গিয়ে রুমা আক্তার অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্বজনরা দ্রুত তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোমিনুল হক বলেন, "হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।" পরে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বজন কোহিনূর বলেন, "আকস্মিক দুর্ঘটনায় সব এলোমেলো হয়ে গেছে। এমন মৃত্যু কখনো কাম্য নয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৪৯তম বিশেষ বিসিএস (২০২৫)-এর সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সাময়িকভাবে মনোনীত হওয়া দুই প্রার্থীর ফলাফল এবং সাময়িক মনোনয়ন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বাতিল করে দিয়েছে। এই বাতিলের পেছনে কারণ হলো, স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার ফল মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশিত হওয়ায় প্রার্থীদের কাছে প্রয়োজনীয় সনদপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ হয়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরিনের সই করা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১২০২৭১৩০ ও ১৫৬০৩৭০৫ এর অধিকারী দুই প্রার্থী ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫–এর সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ‘অবতীর্ণ প্রার্থী’ (এপিয়ার্ড) হিসেবে সাময়িকভাবে মনোনীত হয়েছিলেন। তবে তাদের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার ফল ৪৯তম বিসিএস-এর মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে প্রকাশিত হয়েছে।
পিএসসি জানায়, মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডের সামনে ওই দুই প্রার্থী স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার সনদপত্র দেখাতে পারেননি। কমিশনের নবম বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে তাদের ফলাফল এবং সাময়িক মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১০টি জেলার ওপর দিয়ে সকালের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আনুমানিক এই সময়ের মধ্যে এসব এলাকার নৌবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া এসব এলাকার নৌবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে আবেগঘন এক বিবৃতি দিয়েছেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জকারী দিল্লি পুলিশ সদস্যদের তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই এজেন্টদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ক্ষুব্ধ এই বার্তায় প্রবীণ এই অভিনেতা জানান, আন্দোলনের দৃশ্য দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন এবং রাগান্বিত হয়েছেন। কিন্তু তিনি তরুণদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জের একদিন পর এই ঘটনা নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন নাসিরুদ্দিন শাহ। মঙ্গলবার রাতে ককরোচ জনতা পার্টির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। অভিনেতা উর্দুতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘যদি একজন মূর্খ এই দেশ পরিচালনা করে, তাহলে তার মন চাইবে যেন পুরো দেশটাই তার মতো মূর্খ, বোকা, অযোগ্য এবং নির্দয় হয়ে যায়।’
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের প্রসঙ্গ তুলে শাহ আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনটাও ভারাক্রান্ত, আবার রাগেও ফুটছি আমি। কারণ, আমাদের সন্তানদের সঙ্গে যেভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে, তা দেখে আমার যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই এজেন্টদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, মুখে মুখোশ পরা, হাতে লাঠি নেওয়া সেই গুন্ডাদের হাতে। কখনো নিজেদের সন্তানদের কথাও ভাবো, আর এটাও ভাবো যে একদিন তোমাদেরও তোমাদের প্রাপ্য মিলবে।’
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন এই প্রবীণ অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘এই সন্তানদের সবাইকে আমি বলতে চাই, সাহস হারিয়ো না। অনেক মানুষের সহানুভূতি তোমাদের সঙ্গে আছে। অনেক মানুষ তোমাদের পাশে আছে। তোমরা লড়াই চালিয়ে যাও, আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার সবসময়ই আশা ছিল, আর এখন সেই আশা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তোমরা নিজেদের লড়াই লড়ে যাও, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি।’
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সোমবার দিল্লি পুলিশ সদস্যরা তাদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে, যাতে তাদের পক্ষেও অনেকে আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা যায় যে, দিল্লি পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করছেন এবং কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করছেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের পরিচয়পত্রবিহীন কিছু সাধারণ পোশাক পরিহিত মানুষও তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ, বিশেষ করে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে সিজেপির নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন। এ মাসের শুরুর দিকে, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে যোগ দেন এবং জন্তরমন্তরে তিনি অনশন শুরু করেন।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিক্ষোভকারীরা, তবে আন্দোলন এখনও চলছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের একাধিক নেতার সঙ্গে বিক্ষোভে বসেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কিন্তু দ্রুতই পুলিশ তাকে আটক করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডীয় গবেষকদের পরিচালিত সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা ও মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে যে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘জিএলপি-১’ গোত্রের ওজন কমানোর ইনজেকশন ব্যবহারে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুরা ওজন কমাতে এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
৬ থেকে ১৮ বছর বয়সি ৭৫০ জনেরও বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে আয়োজিত ৯টি পৃথক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জিএলপি-১ ওষুধগুলো কেবল অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে না, বরং এটি অংশগ্রহণকারীদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাজ্যে সীমিত কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক স্থূলতায় ভোগা অনুর্ধ্ব-১৮ রোগীদের চিকিত্সার জন্য ‘মাউনজারো’ ও ‘ওয়েগোভি’-এর মতো জিএলপি-১ ওষুধগুলো প্রেসক্রাইব করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে যখন অতিরিক্ত ওজনের কারণে শরীরে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং অন্যান্য সাধারণ চিকিৎসা বা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন কার্যকর হয় না, তখনই দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা-র বিশেষায়িত সেন্টারগুলো থেকে এগুলো প্রদান করা হয়।
আরও পড়ুন
অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে ঝিনুকের নির্যাস, বলছে গবেষণা।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ইনজেকশন গ্রহণের পর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা গেছে বমি বমি ভাব।
তুলনামূলক অন্যান্যদের তুলনায় ওষুধ গ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে এই উপসর্গটি অধিক পরিমাণে দেখা গেছে।
তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কেবল বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে ও নির্দেশনায় এই ওষুধগুলো ব্যবহার করা উচিত।
এ ছাড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর জিএলপি-১ চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এসব ওষুধ মারাত্মক স্থূলতার চিকিত্সায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে, তবে এটি কোনোভাবেই সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম কিংবা সুস্থ জীবনযাত্রার বিকল্প হতে পারে না।
ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বজায় রাখা সমান জরুরি।
সূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ