০২:২৬ পি.এম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ‘বাংলাদেশে সামুদ্রিক ভূ-দুর্যোগ ও আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল সামুদ্রিক ভূ-দুর্যোগ, উপকূলীয় ঝুঁকি এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা। যৌথভাবে প্রতিবেদনটি আয়োজন করে বাকৃবি এবং চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফি।
বুধবার (১০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন হয়েছে।
এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির অধ্যাপক ড. জিন শান, অধ্যাপক ড. ইয়ংগুই ইউ এবং বিজ্ঞানী ড. শুমিন জিয়াং।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর
এ কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাতেন। এছাড়াও সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খান। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালা চলাকালীন, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির অধ্যাপক ড. জিন শান আলোচনা করেন, বাংলাদেশ একটি নদী ও প্লাবনভূমি-নির্ভর দেশ হওয়াতে এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প এবং অন্যান্য বিভিন্ন দুর্যোগ প্রতিবছর দেশের জনগণের জীবন এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, নদ-নদীর প্রবাহ এবং সমতল ভূমির গঠন, হিমালয় সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত টেকটোনিক প্লেটের দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক বিবর্তনের ফল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষ এবং স্থানচ্যুতির কারণেই ভূমিকম্প সহ নানা ভূ-তাত্ত্বিক ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি সমুদ্রতলের ভূমিধস এবং শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সুনামির মতো দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চল ও সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা জন্য বড় ধরনের হুমকি। এসব ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন তিনি।
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা খুবই সীমিত। তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করছে, যা খুবই প্রশংসনীয়। গবেষণার ক্ষেত্রে কাজ করার মানুষ খুব কম। তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন। দুই দেশের গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন চীন ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করুক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন নতুন গবেষণার ক্ষেত্র উন্মোচিত হোক।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের কর্মশালা গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব সহকারে ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন