প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিটি করপোরেশনে তালাকের নোটিশ বা কাগজ না পৌঁছানো সত্ত্বেও, তালাক আইনগতভাবে বৈধ বলে বিবেচিত হবে– এমন যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ নিয়ে বহুল আলোচিত মামলায় খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি।
প্রথম স্বামী রাকিব হাসানকে তালাক না দিয়ে বিয়ে করার যে অভিযোগ তামিমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল, সেটি আইনিভাবে নাকচ করে আদালত নাসির ও তামিমার বিয়েকে বৈধ ঘোষণা করেছেন।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময়ে নাসির ও তামিমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সিটি করপোরেশনে তালাকের কাগজ বা নোটিশ কোনো কারণে না পৌঁছালেও, তালাক প্রক্রিয়টি অবৈধ হয়ে যায় না। এটি আইনত বৈধ হিসেবেই গণ্য হবে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৫০০ ধারায় আনীত অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত নাসির ও তামিমাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
আইনজীবী আজিজুর রহমান আরও জানান, ‘আদালত এই মামলায় নাসির ও তামিমাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আদালত রায়ে বলেছেন রাকিবের সঙ্গে তামিমার তালাকটি বৈধ ছিল। ফলে এখন আর কারো বলার সুযোগ নেই যে, নাসির-তামিমার বিয়ে অবৈধ। এই রায়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’
এদিকে, আদালতের এই রায়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে ন্যায়বিচার পাননি দাবি করে বাদী রাকিব হাসানের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এই রায় দেয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’ বাদী রাকিবও জানিয়েছেন कि, তিনি ন্যায়বিচারের আশায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত তার আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের একটি আট বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। রাকিবের অভিযোগ ছিল, সেই বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ভালোবাসা দিবসে (১৪ ফেব্রুয়ারি) নাসির-তামিমার বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন। রাকিবের দাবি ছিল, নাসিরকে বিয়ের পর তামিমা একটি ভুয়া বা ব্যাকডেটেড তালাকনামা তৈরি করেছেন।
মামলাটি তদন্তের পর ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়, তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
২০২৩ সালের ২০ মার্চ মামলার বাদী রাকিব হাসানের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার ট্রায়াল শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানিতে আদালত মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। চলতি বছরের ১০ মার্চ আত্মপক্ষ শুনানিতে নাসির ও তামিমা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। এরপর ৩০ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তামিমা। আজ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি লড়াই ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে কলঙ্কমুক্ত হলেন নাসির-তামিমা দম্পতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন