০৪:৪০ পি.এম
মাদারীপুর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে অন্তত ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এইসব রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এই ঘটনায় দুজন রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফকিরহাটে প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন নেভাতে এসে মুসার প্রাণ গেল
রোগীদের অভিযোগ, শহরের আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ রোগীরা হলেন– মাদারীপুর শহরের ১ নম্বর শকুনি এলাকার হাফসা আক্তার (১৮), জান্নাত (১২), ফাতেমা বেগম (১৪), জেসমনি আক্তার (৩৫), পুরানবাজার এলাকার কুতুবউদ্দিন (৪৫), রোকসানা বেগম (৪০), নাবিল মাহামুদ (১১), পাঁচখোলা এলাকার রাবিক হোসেন (২২), তালতলা এলাকার ইব্রাহীম (১৮), ঘটমাঝি এলাকার তানিয়া (২৩), শরীফবাড়ি এলাকার লুবনা আক্তার (২৫), পূর্ব রাস্তি এলাকার আমির হাওলাদার (৯), চর কালিকাপুর এলাকার শাওন ঘরামী (১৮) এবং শরীয়তপুরের মাতালমার ব্রিজ এলাকার সাইফ হোসেন (১৫)। এছাড়াও, শহরের কুলপদ্বী এলাকার সুমাইয়া আক্তার (১৭) ও মিম আক্তার (১৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরানবাজার এলাকার অবস্থিত আরএফসি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে বেশ কয়েকজন ক্রেতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ৯টা থেকে পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন রোগী।
তাদের অভিযোগ, আরএফসি রেস্টুরেন্টের অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন।
তারা এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন সড়কে চাঁদাবাজদের ভাঙচুর, ঠিকাদারের স্কেভেটর ক্ষতিগ্রস্ত
অসুস্থ শিশু আমির হাওলাদারের মা কবিতা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে আরএফসি থেকে নান রুটি ও গ্রিল খেয়েছে। তারপর থেকেই খুব অসুস্থ। ১০ বার বমি করেছে। অনেকবার টয়লেটে গেছে।
ছেলেটার অবস্থা ভালো না। ডাক্তার চিকিৎসা দিচ্ছে। বলছে, সুস্থ হতে সময় লাগবে।’
তালতলা এলাকার রকিবউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চারজনই গতকাল আরএফসিতে খাবার খেয়েছিল। চারজন ডায়রিয়াতে আক্রান্ত। এরপর থেকেই বমি ও পাতলা পায়খানা। সবাইকে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আদালত ও অধিদপ্তরের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরএফসি রেস্টুরেন্টের মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে হাসপাতালে ছুটে গেছি। তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নেব। আমার রেস্টুরেন্টের খাবারে কোনো ত্রুটি ছিল কিনা জানি না। কিন্তু আমরা এরপর থেকে আরো সতর্ক হয়ে ক্রেতাদের খাবার পরিবেশন করব।
আরও পড়ুন: দিরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার জানান, ‘ফুড পয়জনিং নিয়ে হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারা এখন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ রোগীরা আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তারা অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তারপরেও বিষয়টি আমরা নজরদারি করব। আমরা ওই রেস্টুরেন্ট পরিদর্শনে যাব এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন