ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালকিনিতে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা


কালকিনিতে গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের কালাই সরদারের চর গ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে মনি বেগম (১৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মনি বেগম কালাই সরদারের চর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাবুল বেপারীর মেয়ে। তিনি এনায়েতনগর ইউনিয়নের সস্থাল (ফাঁসিয়াতলা) গ্রামের আল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে মনি বেগম তার বাবার বাড়িতে নিজ কক্ষের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। প্রতিবেশী মলিনা বেগম ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে তিনি মনি বেগমকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন।

আরও পড়ুন: জকিগঞ্জে পালিত হলো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস

পরে স্থানীয়দের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে অবহিত করেন।নিহতের বাবা হাবুল বেপারী জানান, “আমি, আমার মেয়ে মনি এবং তার স্বামী একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাই। এরপর আমি ভ্যান চালাতে বের হয়ে যাই। আমার ধারণা, আমি চলে যাওয়ার পর মনির সঙ্গে তার স্বামীর কোনো কথাকাটাকাটি হয়ে থাকতে পারে। পরে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি, আমার মেয়ের স্বামী বাড়িতে নেই এবং মনি ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছে।

খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার প্রদর্শনী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪৮ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ৬ জেলের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


৪৮ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ৬ জেলের সন্ধান

পটুয়াখালীর গলাচিপার ১১ জন জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও নিখোঁজ ৬ জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) রাতে রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়। এসময় ট্রলারটিতে মোট ১১ জন জেলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া আহত জেলেদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া জেলে বায়েজিদ বলেন, ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর তারা ট্রলারের কিছু অংশ ও একটি বয়া ধরে প্রায় ছয় ঘণ্টা সাগরে ভেসে ছিলেন। শেষপর্যন্ত অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের উদ্ধার করে।

নিখোঁজ ৬ জেলেদের মধ্যে আছেন— পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি গ্রামের মৃত গেদু হাওলাদারের ছেলে মো. হারুন হাওলাদার, পানপট্টি গ্রামের মো. ইমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম, মো. আল আমিন এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নে উদ্ধার হওয়া ৫ জেলে ও নিখোঁজ ৬ জেলের পরিবারের প্রত্যেককে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং শুকনো খাবার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজার মো. ইজাজুল হক। তিনি জানিয়েছেন, আমরা নিয়মিত কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আহত জেলেদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে স্বজনরা পৃথক একটি ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের নির্দেশনায় ইউএনও আবুজার মো. ইজাজুল হকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া জেলেদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদ

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এসিবি)।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগ এলাকার ভেসেলা মেডোজে অবস্থিত তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তাকে এসিবির বিশেষ আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তা হলেন- ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সংকিরেড্ডি ভীম রেড্ডি, যিনি হায়দরাবাদের পুলিশ কম্পিউটার সার্ভিসেস (পিসিএস)-এ কর্মরত ছিলেন।

এসিবির অভিযোগ, চাকরিকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে ভীম রেড্ডি তার বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

এর আগে, গত ২ জুলাই এসিবি একযোগে তার বাসভবনসহ তেলেঙ্গানা ও কর্নাটকের মোট ১৬টি স্থানে অভিযান চালায়। এসব স্থানের মধ্যে তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, কথিত বেনামি মালিক এবং সহযোগীদের সম্পত্তিও ছিল।

তল্লাশিতে কর্মকর্তারা নিম্নলিখিত সম্পদের সন্ধান পান- হায়দরাবাদের ভেসেলা মেডোজে একটি বিলাসবহুল ভিলা।

টেলিকম নগরে জি+২+পেন্টহাউস বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন। সাই প্রভা রেসিডেন্সিতে একটি ফ্ল্যাট। গাচিবাউলির ক্রান্তি সিওন অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট। মানিকোন্ডার ল্যাঙ্কোহিলস রোডে ৫০০ বর্গগজ জমির ওপর নির্মিত একটি জি+৫ বাণিজ্যিক ভবনের অংশীদারত্ব। মানিকোন্ডা মারিচেত্তু জংশনের কাছে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা।

টেল্লাপুরের অভিনন্দা রেসিডেন্সিতে দুটি ফ্ল্যাট। প্রগতি রিসোর্টস এলাকায় ৫০০ বর্গগজের একটি খালি প্লট। সাঙ্গারেড্ডির জহিরাবাদে সাড়ে ৩ একর কৃষিজমি। কর্নাটকে ৬ একর কৃষিজমি। কর্নাটকেই আরও ৩৮ একর কৃষিজমি।

ব্যাঙ্গালোরের দেবনাহাল্লিতে ১ একর জমি। নাগোলের কামিনেনি হাসপাতালের কাছে ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুর জিপিআর হাউজিং সোসাইটির কাছে ৪০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুতেই আরও ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। বিকারাবাদের মোমিনপেটে ১ হাজার বর্গগজের একটি জমি। মোমিনপেটে ২ একর কৃষিজমি।

শ্রী রাঘবেন্দ্র রক স্যান্ড মিনারেলস নামের প্রতিষ্ঠানে ৭৫ লাখ রুপির বিনিয়োগ। সিসি কুন্তা এলাকার মুচিন্তালা গ্রামে ৪ দশমিক ২০ একর কৃষিজমি। নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপা।

তল্লাশিতে ভীম রেড্ডির বাড়ি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে একটি ব্যক্তিগত হাতে লেখা ডায়েরি উদ্ধারের পর। চারধাম তীর্থযাত্রায় যাওয়ার আগে ভীম রেড্ডি ওই ডায়েরিতে নিজের সম্পদ, বিনিয়োগ, দায়-দেনা এবং কথিত বেনামি ব্যক্তিদের নাম লিখে রেখেছিলেন বলে দাবি করেছে এসিবি।

পরে তিনি ডায়েরিটির স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার দুই ছেলের কাছে পাঠান।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই ডায়েরি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে বেশ কয়েকটি সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র পাওয়া গেছে।

এসিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের অভিযানে জামালপুরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


পুলিশের অভিযানে জামালপুরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

 

জামালপুর শহরের একটি মার্কেটে অভিযান ঘটেছে, যেখানে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি পাইপগান, গোলাবারুদ, ককটেল, পেট্রোলবোমা ও বিদেশি মদের বোতল। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার সময় শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকার মনোয়ার আলী মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি অফিসে অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয় দুটি পাইপগান, চার রাউন্ড গোলাবারুদ, ছয়টি ককটেল, ছয়টি পেট্রোলবোমা এবং ছয় বোতল বিদেশি মদ। তবে অভিযানের সময়ে সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম বলেন, 'অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ককটেল, পেট্রোলবোমা ও বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

মনোয়ার আলী মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে। ওই অফিসটি কার, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপের সেরা ফ্যান কি তারাই?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


বিশ্বকাপের সেরা ফ্যান কি তারাই?

মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা, মায়ামি হয়ে কানসাস সিটি; গত তিন সপ্তাহ ধরে কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা উত্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে গ্যালারিতে হলুদ জার্সির জোয়ার বেড়েছে। এবার সেই ‘হলুদ জ্বর’ কানাডায় আছড়ে পড়তে চলেছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হতে চলেছে নেস্টর লরেঞ্জোর শিষ্যরা। আর প্রিয় দলকে উৎসাহিত করতে ভ্যাঙ্কুভারের রাস্তায় হাজার হাজার কলম্বিয়ান সমর্থক ভিড় জমাচ্ছেন।

সমর্থকদের এমন অভূতপূর্ব দেশান্তরটি শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। দীর্ঘ এক প্রজন্ম পর কলম্বিয়া বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ায় এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ব্রাজিলে লাখো সমর্থক ছুটে গিয়েছিলেন। এবারের আসরে দলের অধিনায়ক হিসেবে উত্তর আমেরিকায় আসার আগে হামেস রদ্রিগেস সমর্থকদের সংযত ও ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কারণ ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। রদ্রিগেস আশ্বস্ত করেছিলেন যে খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের সবটুকু দিয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত এবং গ্যালারির এই ইতিবাচক শক্তি তাদের মাঝেও সংক্রামিত হবে।

চলতি বিশ্বকাপে রদ্রিগেস হয়তো এখনো পুরোপুরি চেনা ছন্দে ফিরতে পারেননি। ঘানার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্রথমার্ধের পর তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তবে তার অনুপস্থিতিতে দলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন লুইস দিয়াস, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাদের অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেছেন। কানসাস সিটির মতো কলম্বিয়ান জনসংখ্যা কম থাকা শহরেও ম্যাচের আগের রাতে হোটেলের বারান্দায় এসে ফুটবলারদের গান গেয়ে শোনান ভক্তরা, যা দেখে খেলোয়াড়রা বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

কলম্বিয়ার ম্যাচ দেখতে আসা ৫৪ বছর বয়সী হুয়ান কার্লোস মিলা জানান, এটি তার জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা। পুরো পরিবার নিয়ে মেক্সিকো সিটিতে প্রথম ম্যাচ দেখার পর তারা একটি মিনিভ্যান ভাড়া করে আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রায় সাত হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছেন। যাতায়াত ও হোটেলের খরচ মেটাতে মিলার উদ্যোক্তা সন্তানরা স্টেডিয়ামের বাইরে কলম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী টুপি, টি-শার্ট ও পতাকা বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, পুরো পরিবারকে একসাথে ফুটিয়ে তুলতে তারা ছয় মিটার লম্বা একটি বিশাল পতাকা তৈরি করেছেন, যাতে ছয়টি মাথা গলানোর জন্য ছিদ্র রয়েছে এবং সেখানে লেখা ‘কলম্বিয়া বিশ্বকাপ ২০২৬’।

গ্যালারিতে কলম্বিয়ানদের এই গগনবিদায়ী চিৎকার প্রতিপক্ষ দলগুলোকে রীতিমতো ভড়কে দিচ্ছে। মায়ামিতে ম্যাচের আগে পর্তুগালের কোচ রবের্তো মার্তিনেস স্বীকার করেছিলেন যে এত বিপুল সংখ্যক কলম্বিয়ান সমর্থকের সামনে খেলাটা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ ছিল। অন্যদিকে, ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ, যিনি একসময় কলম্বিয়া দলের দায়িত্বে ছিলেন, ম্যাচ হেরে আক্ষেপ করে বলেন যে স্টেডিয়ামের ৬০ হাজার হলুদ জার্সির গর্জন জাতীয় সংগীতের সময় থেকেই তাদের অনভিজ্ঞ দলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল। কলম্বিয়ার এই 'দ্বাদশ খেলোয়াড়' তাদের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে এই বিশ্বকাপ উম্মাদনার মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কলম্বিয়ার জার্সি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের শুরুর সময়টাই ছিল দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। ডানপন্থী নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েয়া নির্বাচনী প্রচারণায় কলম্বিয়ার জার্সি পরে হাজির হলে তার বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদা এর তীব্র সমালোচনা করেন এবং ফুটবলকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। যদিও পরবর্তীতে ফুটবল ফেডারেশন এ বিষয়ে কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেপেদা নিজেও জার্সি পরে প্রচারণায় নামেন।

রাজনৈতিক বিতর্ক যাই থাক না কেন, ফুটবল পুরো কলম্বিয়াকে এক সুতোয় গেঁথেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভ্যাঙ্কুভার স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও গ্যালারি জুড়ে থাকবে কেবল হলুদ জয়জয়কার। সমর্থক হুয়ান কার্লোস মিলার কথায়, খেলোয়াড়রা মাঠে তাদের জীবন বাজি রেখে লড়বেন আর গ্যালারি থেকে কোটি ভক্তের প্রার্থনা ও ভালোবাসা তাদের সেই শক্তি দেবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%