০৫:৩২ পি.এম
জার্মানি বর্তমানে চরম সেনাসংকটে ভুগছে। তাদের সেনাবাহিনীতে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। তাই বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আবার চালু করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ তথ্য ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, জার্মানির এক জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য।
রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত আচরণের কারণে জার্মানি সতর্ক অবস্থানে আছে। তারা নিজেদের সেনাবাহিনী নতুন করে সাজাতে চাইছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা সেনাসংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ২ লাখ ৬০ হাজার করতে চায়।
গত নভেম্বরে সরকার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য একটি নতুন স্বেচ্ছাসেবী ব্যবস্থা চালু করে। এই ব্যবস্থার আওতায় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ তরুণের সাথে যোগাযোগ করা হলেও, মাত্র ৫৩০ জন সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
জার্মান পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান টমাস রোয়েওয়েলক্যাম্প বলেন, স্বেচ্ছায় যদি লক্ষ্য পূরণ না হয়, তবে তাদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে। এই বিষয়ে আগামী বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তবে এই নিয়ম চালু হলেও ১৮ বছর বয়সী সবাইকে সেনাবাহিনীতে যেতে হবে না। বছরে যাদের বয়স ১৮ হবে, তাদের মধ্য থেকে সেনাবাহিনী শুধু প্রয়োজনীয় লোকবলই নিয়োগ করবে।
রোয়েওয়েলক্যাম্প জানান, যুদ্ধবিমান, জাহাজ, ট্যাংক বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও চুক্তিভিত্তিক সেনার খুব প্রয়োজন। এটি নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তা। যদিও জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিরুদ্ধে সম্প্রতি অনেক বিক্ষোভ হয়েছে।
জার্মানির আশঙ্কা, রাশিয়া ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যাটো দেশগুলোতে হামলা চালাতে পারে। রোয়েওয়েলক্যাম্প বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নজর শুধু ইউক্রেনের দিকেই নেই, পুরো পশ্চিমা গণতন্ত্রের দিকেই রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ইউরোপকে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে হবে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে একটি কড়া বার্তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ন্যাটোর ঐক্য আরও দৃঢ় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন