রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৭ পি.এম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন কারণে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের উদ্বেগ কমানোর জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় দিতে শুরু করেছে দেশটির বড় খুচরা বিক্রেতারা। হ্যালোউইন বা উৎসবের মৌসুম সামনে আসায় বাজারে মূল্যছাড় দেয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
ডিসকাউন্ট চেইন আলডি গত বুধবার জানায়, কোম্পানিটি আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত তাজা খাবারের বিভিন্ন পণ্যে প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সমপরিমাণের মূল্যছাড় দেবে। এছাড়া আলডির দোকানে থাকা মোট পণ্যের এক-তৃতীয়াংশের দাম গত বছরের তুলনায় বর্তমানে অনেক কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ সুপারশপ চেইন ক্রোগার পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, উচ্চ মূল্যের কারণে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় ক্রোগার সম্প্রতি কিছু দোকান থেকে আন্তর্জাতিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড রেড বুল ও বোয়ার্স হেডের পণ্য বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। বাড়তি দামে পণ্য কিনে গ্রাহকদের ওপর বোঝার ভার না চাপাতেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানায় ক্রোগার।
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনেও মুদিপণ্য কেনাকাটায় দাম কমানোর প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। নিত্যপণ্য সরবরাহের প্লাটফর্ম ইনস্টাকার্ট গত বৃহস্পতিবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় গ্রোসারি চেইন ‘নো মার্কআপ’ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। এর মানে হলো, একজন গ্রাহক দোকানে গিয়ে সরাসরি যে দামে পণ্য কিনতে পারেন, অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার করলেও তাকে ঠিক একই দামে বা অফারে পণ্য দেয়া হবে। অনলাইন ডেলিভারির নামে আলাদা করে অতিরিক্ত কোনো দাম রাখা হবে না।
ইনস্টাকার্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস রজার্স জানান, ক্রেতারা এখন সেসব অনলাইনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন যেখানে বাড়তি দাম ধরা হয় না। "এছাড়া অনলাইনে একই দামে পণ্য বিক্রি করা রিটেইলারদের প্রবৃদ্ধির হার বাড়তি দাম নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।"
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় জায়ান্ট কস্টকো প্রতিটি প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে ধারাবাহিকভাবে দাম কমানোর হিসাব তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সর্বশেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আখরোট, কফি ও কালো গোলমরিচের মতো দৈনন্দিন পণ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দাম কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কস্টকোর সিইও রন ভ্যাচরিস বলেন, ‘পণ্যের উৎস পর্যায়ে কাঁচামালের দাম বাড়লেও আমরা সরবরাহকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে, কীভাবে পণ্যের দাম যত দূর সম্ভব নিচে নামিয়ে রাখা যায়। নতুন নতুন উপায়ে দাম কমানোটাই আমাদের মূল কাজ।’
দাম কমানোর এ প্রবণতা পুরোপুরি নতুন নয়। খুচরা বাজারের সবচেয়ে বড় নাম ওয়ালমার্ট চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৫০টি পণ্যে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এটি ছিল বড় পরিসরে দাম কমানোর পরিকল্পনার একটি ছোট অংশ মাত্র। ওয়ালমার্ট চলতি বছরজুড়ে প্রায় ১১ হাজারের বেশি পণ্যে মূল্যছাড় দিয়েছে।
সম্প্রতি গোল্ডম্যান স্যাকসের খুচরা বাণিজ্য সম্মেলনে ওয়ালমার্ট ইউএসের সিইও গুগিনা বলেন, ‘আমাদের মূল দায়িত্ব হলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি করে পণ্যের সাময়িক মূল্যছাড়কে স্থায়ীভাবে কম দামে রূপান্তর করার ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) গ্রাহকরা নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন কেনাকাটা করতে পারছেন।’
অতীতের অর্থনৈতিক মন্দাগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাজারে আর্থিক চাপ তৈরি হতেই ওয়ালমার্ট, কস্টকো ও অলডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার হিস্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কম খরচে কেনাকাটার সুযোগ খোঁজা নতুন ক্রেতারা শুরুতে বাধ্য হয়ে এসব সুপারশপে আসেন। এরপর পণ্যের সঠিক দাম ও মানের কারণে তারা স্থায়ী গ্রাহকে পরিণত হন।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান প্লেসার ডটএআইয়ের তথ্যেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মুদি বিক্রেতাদের মধ্যে আলডির দোকানে ক্রেতাদের যাতায়াত সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। কম দামে পণ্য দেয়ার কৌশলই এর অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ক্রেতাদের আকর্ষণ করাই শেষ লক্ষ্য নয়। কম দামের কারণে নতুন ক্রেতারা দোকানে এলেও তাদের নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত করার চেষ্টা করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক বছরগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের বক্তব্যেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধির এ সমস্যা হুট করে একদিনে সমাধান করার মতো কোনো জাদুকরী উপায় বা ম্যাজিক বুলেট কারো কাছে নেই। তবে সংকটময় সময়ে সুপারশপগুলোর এভাবে আগাম দাম কমানো ও ছাড় দেয়ার মানসিকতা সাধারণ মানুষের ওপর থেকে মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ কিছুটা হলেও লাঘব করতে সাহায্য করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য এবং অন্যজন জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি। থানা-পুলিশ এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত মামলার তদন্তের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের সহসভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আনারুল ইসলাম (৫৯) গ্রেপ্তার হন। তিনি উত্তর সোনাবাড়িয়া গ্রামের মওলা বক্স সরদারের পুত্র।
এছাড়া, জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি খাদিমুল বিশ্বাস, যিনি মো. আরিফুল ইসলাম নামেও পরিচিত (৩১), তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উত্তর সোনাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল খালেক বিশ্বাসের ছেলে।
কলারোয়া থানার পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লিখিত দুজনই কলারোয়া থানার উত্তর সোনাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর ২৭ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চলতি মাসের জেলা রাজস্ব সভা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে এই সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জনাব আবু সাঈদ।
সভায় জেলার রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, সরকারি ভূমি ও সম্পত্তি সংরক্ষণ, ভূমি রাজস্ব আদায়, খাসজমি ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় জেলা রাজস্ব কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তানজিলা কবির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ এবং জেলা প্রশাসনের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ৯টি বগি ফেলে রেখে ২ কিলোমিটার দূরে চলে গেল বুড়িমারীগামী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ)।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার তুষভান্ডার রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে রেলগেটে এই ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী কমিউটার ট্রেন সকাল ১০টার দিকে লালমনিরহাটের তুষভান্ডার রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পার্শ্বে রেলগেটে পৌঁছালে ট্রেনের ইঞ্জিনের ড্রোভার (হুক) ভেঙে যায়। এর ফলে ৯টি বগি রেখে ট্রেনের ইঞ্জিন প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চলে যায়।
এদিকে, ফেলে যাওয়া ট্রেনের বগিগুলো রেলগেটের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। এই পরিস্থিতিতে ট্রেন ও মহাসড়কের যাত্রীরা দুর্ভোগের সম্মুখীন হন। পরে লালমনিরহাট থেকে একটি উদ্ধারকারী ইঞ্জিন এসে বগিগুলোকে নিয়ে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান এবং দুই শতাধিক মার্কিন সেনা ভারতে পৌঁছেছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছেন যে, তারা মূলত ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ায় প্রথমবারের মতো অংশ নিতে দেশটিতে এসেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গোর এক্সে একটি পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর বহুপাক্ষিক বিমান মহড়ায় অভিষেক হতে চলেছে, যা তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলোর ছবি শেয়ার করেন।
তিনি লেখেন, ‘যোধপুরে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানশক্তি! তরঙ্গ শক্তি মহড়ায় প্রথমবারের মতো অংশ নিতে ছয়টি এফ-৩৫ লাইটনিং-২ এবং ২০০ বিমান বাহিনীর সদস্য এখন ভারতে। ভারতীয় বিমানবাহিনী ও অন্যান্য অংশীদারদের সাথে ভারতের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এই অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর অভিষেক হতে দেখে আমি উচ্ছ্বসিত।’
এর আগে, গত মঙ্গলবার ভারতীয় বিমানবাহিনী জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত যোধপুর বিমানঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তরঙ্গ শক্তি মহড়ার দ্বিতীয় সংস্করণে সাতটি বিদেশি দেশ অংশ নেবে। এই বহুপাক্ষিক মহড়ায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলোও অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো—যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মহড়ার সময় ভারত রাফায়েল, মিরাজ-২০০০, জাগুয়ার, তেজস, মিগ-২৯ এবং সুখোই-৩০ এমকেআইয়ের মতো যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করবে। এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তুলে ধরা এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি মঞ্চ তৈরি করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ