ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাবিপ্রবিতে হাজী মোহাম্মদ দানেশের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ


হাবিপ্রবিতে হাজী মোহাম্মদ দানেশের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ঐতিহাসিক তেঁভাগা আন্দোলনের নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক গৌরবময় অনুষ্ঠানে পুস্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার দিনাজপুরের গোর-এ- শহীদ বড় ময়দানে তাঁর সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন হাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনাম উল্যা, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির।

এছাড়া, বাদ যোহর হাবিপ্রবি’র কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনায় একটি বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিলে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের রূহের মাগফেরাত কামনা করা হয়, সেইসাথে দেশের সার্বিক কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর

হাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনাম উল্যা এই উপলক্ষ্যে বলেন, "হাজী মোহাম্মদ দানেশ ছিলেন শোষিত, বঞ্চিত কৃষক শ্রেণি ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ।" তৎকালীন সময়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও তিনি ছিলেন অতি সাধারণ ও সাদা মনের মানুষ। তাঁর জীবন ছিল ত্যাগ, সততা ও দেশপ্রেমের আদর্শের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনাম উল্যা, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিজিএস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রশিদ, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান বাহাদুর, ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (আইআরটি) পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আলমগীর হোসেন, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান, হল সুপার কাউন্সিলের আহ্বায়ক এবং কবি সুফিয়া কামাল হল এর হল সুপার প্রফেসর ড. মো. আবু সাঈদ মন্ডল, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান, ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস.এম. এমদাদুল হাসান, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেকশনের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান, হিসাব শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. মো. এরফান আলী খোন্দকারসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, হাজী মোহাম্মদ দানেশ ১৯০০ সালের ২৭ জুন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে এক জোতদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই মহান নেতার নামানুসারে ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর স্নাতক পর্যায়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে হাবিপ্রবি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

আরও পড়ুন: ঢাকা সৌদির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চেয়েছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২১ পি.এম


ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে বাধ্য হলে, ইরানের ‘অস্তিত্ব আর থাকবে না’ এমন হুঁশियारি দিয়েছেন। তিনি শনিবার তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন।

শনিবারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে হামলার পাল্টাপাল্টি ঘটনার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের ‘একাধিক’ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে, এ সময় ট্রাম্প এ হুমকিটি দেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি আবারও লঙ্ঘনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার ও উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে!’

তিনি আরও লেখেন, ‘এই আঘাত এমন এক সময় আসতে পারে, যখন আমাদের আর সংযত থাকার সুযোগ থাকবে না। তখন আমরা যে অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে সম্পন্ন করতে বাধ্য হব। আর যদি তাই হয়, তবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না।’

সাম্প্রতিক এ সংঘর্ষ ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের উপসংহার ঘটাতে চলমান আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

এতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন পথগুলোর একটির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন রকম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, শনিবারের হামলা ছিল পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘কিকু’-তে ইরানের ড্রোন হামলার জবাব। ওই জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, সর্বশেষ এ হামলায় নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন পেতে রাখতে সক্ষম— এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক ও কেশম এলাকায় কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ‘এভার লাভলি’ নামের একটি জাহাজে ইরানের আরেকটি হামলার জবাব হিসেবে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইরান জানিয়েছে, এর পাল্টা জবাবে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে।

বাহারাইন জানায়, শনিবার ভোরে দেশটিকে লক্ষ্য করে ইরান কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়েছে। তারা তেহরানের বিরুদ্ধে শান্তি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার অভিযোগ তুলেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, ‘হামলার পুনরাবৃত্তি হলে, আমাদের জবাব আরও ব্যাপক হবে।’

এদিকে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম ওই সংঘাতের অবসান ঘটাতে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরান এ ‘নৃশংস হামলাকে’ অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সাম্প্রতিক সহিংসতা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করেছে। ইরান প্রণালী দিয়ে উপসাগরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করলেও, আলোচনা বন্ধ হয়নি। এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ তেহরানের অনুমোদনহীন পথও ব্যবহার করেছে।

লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এইচ এ হেলিয়ার বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ওপর স্থায়ী চাপ সৃষ্টি করতে, ইরান সম্ভবত হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশে সীমিত মাত্রার পরিকল্পিত চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে, তবে তা বৃহত্তর সংঘাত এড়িয়ে।’

তিনি আরও যোগ করেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রাখায় ওয়াশিংটনের জন্য দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রণোদনা রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের জন্য প্রণালীতে নিয়ন্ত্রিত চাপ বজায় রেখে দীর্ঘায়িত আলোচনা সুবিধাজনক হতে পারে।

সর্বশেষ উত্তেজনা সত্ত্বেও, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে— এমন আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাধারণ সময়ে, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। তবে শনিবার দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা জানায়, দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ৬৮ শতাংশ।

মার্চের শুরুতে, ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবাননও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ইসরাইল লেবাননে অভিযান চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে, ইসরাইল ও লেবানন শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু একদিন পর হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি এটিকে ‘অপমানজনক, লজ্জাজনক ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন’ বলে মন্তব্য করেন।

হিজবুল্লাহ বারবার দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানালেও, ওয়াশিংটনের চুক্তিতে সে ধরনের কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনারা অবস্থান করবে। এ সময় সাধারণ মানুষকে সেখানে ফিরতে দেওয়া হবে না।

শনিবার নেতানিয়াহু চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘ইরান ও হিজবুল্লাহর জন্য বড় ধাক্কা’ বলে মন্তব্য করেন। তবে তার কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির চুক্তিটিকে ‘বড় ভুল’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, কেবল ইসরাইলি বাহিনীর পক্ষেই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা সম্ভব।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, শনিবার তারা দক্ষিণ লেবাননে সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন দুই দেশের মধ্যে চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই প্রথম এ ধরণের হামলা।

এরপর শনিবার সন্ধ্যার শুরুতে, লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানায়, ইসরাইল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পরে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী স্টার্টআপ শোকেসিং ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন কাল দুপুরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২২ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী স্টার্টআপ শোকেসিং ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন কাল দুপুরে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল রাজধানী থেকে দেশের দু’টি বড় জাতীয় কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করতে চলেছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ বাসস-কে জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সোমবার দুপুর ২টায় প্রথমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করবেন এবং মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সেরা উদ্ভাবকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন।’

আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংশোধিত আদেশে অনুষ্ঠানটির সূচি পরিবর্তনের তথ্য জানানো হয়েছে। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এদিন দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তরুণ উদ্ভাবকদের স্টলসমূহ পরিদর্শন, চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং একই মঞ্চ থেকে একযোগে দেশের ২৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবুজায়ন বা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করতে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে দেশের ‘ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের’ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকে পরিণত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এবং ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসূচি দুটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

মাউশি মহাপরিচালক জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে গঠনমূলক সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে চাই। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়াগুলো থেকে স্থানীয় বহু সমস্যা স্থানীয়ভাবেই সমাধান করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্টার্টআপের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথ উন্মোচিত হবে।

আদেশে বলা হয়েছে, বিশেষ কারণে অনুষ্ঠানটির সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার শেরেবাংলা নগরের ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে’ জাতীয় পর্যায়ের এই মূল অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টার পরিবর্তে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে আজ দুপুর থেকেই চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’-এর স্টলসমূহ সবার পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। দেশব্যাপী উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দলের অনন্য ও সৃজনশীল প্রজেক্টসমূহ এই স্টলগুলোতে স্থান পেয়েছে।

আয়োজনটি সফল করতে আজ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের মূল ভ্যেনু ও প্রদর্শনী স্টলসমূহ পরিদর্শন করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর আওতায় শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে গঠনমূলক সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। যুক্তিবিজ্ঞানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে (প্রতি দলে ৩ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক) গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলায় সফলভাবে এই শোকেসিং সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৮ হাজার ২৯টি দলে মোট ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।

পরবর্তীতে গত ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত দেশের সেরা ১০০টি দল আগামীকাল মূল অনুষ্ঠানে তাদের সৃজনশীল প্রজেক্ট উপস্থাপন করবেন। এর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা ও সনদ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে ২০ হাজার টাকা ও সনদ প্রদান করা হবে প্রধানমন্ত্রী দ্বারা।

শিক্ষাঙ্গণে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা:

একই ভ্যেনু থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৫ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসাসহ মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে ১টি ফলদ, ১টি বনজ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ৫ হাজার টাকা করে জলবায়ু সচেতনতা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামীকালের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণে অংশ নেবেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের অনন্য সুযোগ পাবেন। এ উপলক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলবায়ু বিষয়ক ব্যানার-ফেস্টুন স্থাপন ও বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোরীয় উপদ্বীপে ফের উত্তেজনা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামরিক শক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


কোরীয় উপদ্বীপে ফের উত্তেজনা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামরিক শক্তি

কোরীয় উপদ্বীপে আবারও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে সামরিক সক্ষমতা জোরদারের কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর দক্ষিণ কোরিয়া আধুনিক ড্রোন বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করার খবর পাওয়া যায়। এই দুই প্রতিবেশী দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গত মঙ্গলবার, উত্তর কোরিয়ার বন্দরের শহর নামফোতে পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ ‘চো হাইওন’-এর আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত হওয়ার পর তারা এখন ধারাবাহিকভাবে ১০ হাজার টন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এর এক দিন পর, বৃহস্পতিবার কিম জং উনের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া উন্নত সংস্করণের রকেট গোলন্দাজ ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালায়। এটি দেশটির পাঁচ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পরীক্ষা শেষে কিম বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় কেবল শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। এ কারণে, প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি তাদের জাতীয় কৌশলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

এপ্রিলের শুরুতে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম উৎপাদনের একটি নতুন কারখানা জনসমক্ষে প্রদর্শন করেছে।

উত্তর কোরিয়ার এসব সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে তারা পাল্টা প্রস্তুতিও নিচ্ছে। গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির জবাবে ড্রোনের সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে দক্ষ ড্রোনযোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো সহজেই ড্রোন পরিচালনা করতে সক্ষম হন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর সামনের সারির ইউনিটগুলোতে ১০ হাজার ড্রোন সরবরাহ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ড্রোনের ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ড্রোনকে আর শুধুমাত্র বিশেষ ইউনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। তাঁর মতে, প্রতিটি সেনাসদস্যের জন্য এটি রাইফেলের মতোই একটি দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র হওয়া উচিত। তিনি আরও জানিয়েছেন, স্বল্প ব্যয়ের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার যুদ্ধের ধরন পরিবর্তন করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের উপনিবেশ থেকে কোরীয় উপদ্বীপ মুক্ত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক বিভাজনের সূচনা হয়। তখন বিশ্বের দুই পরাশক্তি তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র উপদ্বীপের দুই অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতেই, এবং দক্ষিণাঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে এসে পড়ে।

১৯৪৮ সালের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরের মাসের সেপ্টেম্বরেই প্রতিষ্ঠা পায় উত্তর কোরিয়া। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক বৈরিতাপূর্ণ রূপ ধারণ করে।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত থেমে গেলেও আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই কোরিয়া এখনো যুদ্ধাবস্থাতেই রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শান্তি আলোচনা ও দুই কোরিয়ার পুনরেকত্রীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেগুলো সফল হয়নি। বরং সময়ের সাথে সাথে দুই দেশের যুদ্ধংদেহী অবস্থান কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে সাতক্ষীরার কৃষি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিতে সাতক্ষীরার কৃষি

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি, নিরাপদ পানির উৎস এবং খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব কৃষি, সমন্বিত চাষাবাদ এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে রবিবার (২৮ জুন) অনুষ্ঠিত ‘খাদ্য ব্যবস্থা, উপকূলীয় বাস্তবতা ও এগ্রোইকোলজি: ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এই সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন গ্রীন কোয়ালিশন (সবুজ সংহতি) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু।

বক্তারা আলোচনা করেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে পূর্বের মতো অনেক ফসলের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কৃষকদের চাষাবাদের ধরন পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানির সংকটও প্রবল আকার ধারণ করেছে। ফলে অনেক পরিবারকে পানীয় জল কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রায় নতুন সংকট সৃষ্টি করছে।

এছাড়া বক্তারা বলেন, কৃষিকাজে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের শ্রমের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এর ফলে কৃষিতে নারীর অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সমন্বিত চাষাবাদ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সাতক্ষীরা ও সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব বলেও তারা অভিমত দেন।

বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. শাহিন ইসলাম উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এমন কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা মাটি, পানি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য পেয়ে থাকে। এজন্য স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব সমন্বিত চাষাবাদ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তারা আরও জানিয়ে দেন, সাতক্ষীরার কৃষি, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার, কৃষক, গবেষক, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষকে একত্রে কাজ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই, নিরাপদ এবং ন্যায়ভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%