প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি, নিরাপদ পানির উৎস এবং খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব কৃষি, সমন্বিত চাষাবাদ এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সাতক্ষীরা শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে রবিবার (২৮ জুন) অনুষ্ঠিত ‘খাদ্য ব্যবস্থা, উপকূলীয় বাস্তবতা ও এগ্রোইকোলজি: ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এই সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন গ্রীন কোয়ালিশন (সবুজ সংহতি) সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু।
বক্তারা আলোচনা করেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে পূর্বের মতো অনেক ফসলের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কৃষকদের চাষাবাদের ধরন পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানির সংকটও প্রবল আকার ধারণ করেছে। ফলে অনেক পরিবারকে পানীয় জল কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রায় নতুন সংকট সৃষ্টি করছে।
এছাড়া বক্তারা বলেন, কৃষিকাজে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের শ্রমের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এর ফলে কৃষিতে নারীর অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সমন্বিত চাষাবাদ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সাতক্ষীরা ও সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব বলেও তারা অভিমত দেন।
বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. শাহিন ইসলাম উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এমন কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা মাটি, পানি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ খাদ্য পেয়ে থাকে। এজন্য স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব সমন্বিত চাষাবাদ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও জানিয়ে দেন, সাতক্ষীরার কৃষি, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার, কৃষক, গবেষক, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষকে একত্রে কাজ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই, নিরাপদ এবং ন্যায়ভিত্তিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন