০৯:৩৪ এম
ভারতের বাজারে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ (পাকিস্তানে তৈরি) লেখা পোশাক ও পণ্য বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গেল বছরের কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পরই দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তানি পণ্যের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চোরাপথে পাকিস্তানের তৈরি সরঞ্জাম দেশে আমদানি হওয়ার প্রমাণ ফের মিলেছে মহারাষ্ট্রে। এবারের ঘটনাস্থল পুনেতে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। পুনের বাসিন্দা পূজা সরাফ সেখানে না দেখেই একটি ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা চাদর কিনে এনেছিলেন। কিন্তু সেই চাদর বাড়িতে এনে ধোয়ার সময় তার টনক নড়ে। তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পান যে চাদরে লাগানো রয়েছে একটি ‘পাকিস্তানি’ ট্যাগ।
শনিবার(৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে তাদের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার(৩ জুন) মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার মোরায়া গোসাভি মন্দিরে একটি মেলা বসেছিল। সেখান থেকেই পূজা চাদরটি কিনেছিলেন। চাদরটি কেনার সময় তাতে কোনও অস্বাভাবিকতা না থাকলেও বাড়িতে এনে ধোয়ার পরেই কাপড়ের ভিতর থেকে একটি ট্যাগ দৃশ্যমান হয়, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল ‘মেড ইন পাকিস্তান’।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের শঙ্কা, তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন ওই নারী চাদরটির ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। পাকিস্তানের তৈরি পণ্য কীভাবে ভারতের স্থানীয় ধর্মীয় মেলায় এসে পৌঁছাল, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ এবং প্রশ্ন তোলেন।
ভিডিও বার্তায় পূজা বলেন, ‘আমরা কোথায় থাকি? আমরা তো সীমান্ত এলাকার মানুষ নই। অথচ আমাদের বাড়িতেই এসেছে পাকিস্তানে তৈরি জিনিস। আমি এই ঘটনায় অত্যন্ত দুঃখিত। আমার মতো আরও যারা এই চাদর কিনেছেন, তাদের কাছেও পাকিস্তানের এই পণ্য পৌঁছেছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আগে জানানো হয়েছিল, ‘যখনই জিনিস কিনবেন, চোখ খোলা রাখবেন।’ সেই বিষয়টি উল্লেখ করে পূজা ভিডিও বার্তায় আরও বলেন, ‘এখন আমার চোখ খোলা।’ এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
পাশাপাশি স্থানীয় পুরনিগমের তরফেও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মোরায়া গোসাভি মন্দিরের মেলায় যারা পাকিস্তানি চাদর বিক্রি করছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নিষিদ্ধ পণ্য কোথা থেকে এবং কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকল, তা নিয়েও বিশদ তদন্ত চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সাত মামলার আসামি কিশোর গ্যাং লিডার ‘কেন্তা ফিরোজ’ গ্রেপ্তার
ভারতে এভাবে পাকিস্তানি পণ্য গোপনে বিক্রির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত মাসেই মহারাষ্ট্রের ধুলে এলাকায় বিভিন্ন পাকিস্তানি সরঞ্জাম অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযানে প্রশাসন বিভিন্ন পাকিস্তানি ক্রিম, সাবান, সিরামসহ প্রায় ৬১ হাজার টাকার প্রসাধনী দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করে। তারও আগে ছত্রপতি শম্ভাজিনগরে পাকিস্তানের তৈরি নিষিদ্ধ সামগ্রী মজুত করা ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন