ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে মন্দিরের মেলায় পাকিস্তানি পণ্য বিক্রির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে


ভারতে মন্দিরের মেলায় পাকিস্তানি পণ্য বিক্রির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে

ভারতের বাজারে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ (পাকিস্তানে তৈরি) লেখা পোশাক ও পণ্য বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গেল বছরের কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পরই দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তানি পণ্যের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চোরাপথে পাকিস্তানের তৈরি সরঞ্জাম দেশে আমদানি হওয়ার প্রমাণ ফের মিলেছে মহারাষ্ট্রে। এবারের ঘটনাস্থল পুনেতে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। পুনের বাসিন্দা পূজা সরাফ সেখানে না দেখেই একটি ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা চাদর কিনে এনেছিলেন। কিন্তু সেই চাদর বাড়িতে এনে ধোয়ার সময় তার টনক নড়ে। তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পান যে চাদরে লাগানো রয়েছে একটি ‘পাকিস্তানি’ ট্যাগ।

শনিবার(৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে তাদের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার(৩ জুন) মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার মোরায়া গোসাভি মন্দিরে একটি মেলা বসেছিল। সেখান থেকেই পূজা চাদরটি কিনেছিলেন। চাদরটি কেনার সময় তাতে কোনও অস্বাভাবিকতা না থাকলেও বাড়িতে এনে ধোয়ার পরেই কাপড়ের ভিতর থেকে একটি ট্যাগ দৃশ্যমান হয়, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল ‘মেড ইন পাকিস্তান’।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের শঙ্কা, তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন ওই নারী চাদরটির ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। পাকিস্তানের তৈরি পণ্য কীভাবে ভারতের স্থানীয় ধর্মীয় মেলায় এসে পৌঁছাল, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ এবং প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিও বার্তায় পূজা বলেন, ‘আমরা কোথায় থাকি? আমরা তো সীমান্ত এলাকার মানুষ নই। অথচ আমাদের বাড়িতেই এসেছে পাকিস্তানে তৈরি জিনিস। আমি এই ঘটনায় অত্যন্ত দুঃখিত। আমার মতো আরও যারা এই চাদর কিনেছেন, তাদের কাছেও পাকিস্তানের এই পণ্য পৌঁছেছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আগে জানানো হয়েছিল, ‘যখনই জিনিস কিনবেন, চোখ খোলা রাখবেন।’ সেই বিষয়টি উল্লেখ করে পূজা ভিডিও বার্তায় আরও বলেন, ‘এখন আমার চোখ খোলা।’ এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

পাশাপাশি স্থানীয় পুরনিগমের তরফেও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মোরায়া গোসাভি মন্দিরের মেলায় যারা পাকিস্তানি চাদর বিক্রি করছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নিষিদ্ধ পণ্য কোথা থেকে এবং কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকল, তা নিয়েও বিশদ তদন্ত চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে সাত মামলার আসামি কিশোর গ্যাং লিডার ‘কেন্তা ফিরোজ’ গ্রেপ্তার

ভারতে এভাবে পাকিস্তানি পণ্য গোপনে বিক্রির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত মাসেই মহারাষ্ট্রের ধুলে এলাকায় বিভিন্ন পাকিস্তানি সরঞ্জাম অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযানে প্রশাসন বিভিন্ন পাকিস্তানি ক্রিম, সাবান, সিরামসহ প্রায় ৬১ হাজার টাকার প্রসাধনী দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করে। তারও আগে ছত্রপতি শম্ভাজিনগরে পাকিস্তানের তৈরি নিষিদ্ধ সামগ্রী মজুত করা ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
১০ বছরে ৬,০৩১ শিশু ধর্ষণের মামলা

ভুক্তভোগীদের সবার দাবি, নিশ্চিত হোক ন্যায়বিচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


ভুক্তভোগীদের সবার দাবি, নিশ্চিত হোক ন্যায়বিচার

আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার শেষ হওয়ার রায় হচ্ছে মাত্র ২০ দিনে। মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভে ফেটে পড়া অবস্থায় কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে এ ভাবনায় যে দেশে এ ধরনের নিষ্ঠুরতার দ্রুত বিচার সত্যি সত্যিই হচ্ছে।

ঢাকার শিশু রামিসার মামলার দ্রুত বিচারের মধ্যে থাকলেও প্রশ্ন উঠছে, চট্টগ্রামের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার মামলা কেন এখনও ঝুলে আছে। শুধুমাত্র ইরা নয়, গত এক দশকে ধর্ষিত হয়ে হত্যার শিকার তিন শতাধিক শিশুর পরিবারও বর্তমানে দ্রুত বিচার চেয়ে কথা বলা শুরু করেছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুসারে, দেখা গেছে, গত ১০ বছরে দেশে ছয় হাজারের বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বাস্তব অবস্থার তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। একই সময়ে অন্তত ৩১০ জন শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অধিকাংশের মামলাই বছরের পর বছর নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়ে গেছে।

অন্যদিকে, দেশজুড়ে আরও কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত বিচারের নজির দেখা গেলেও সেসব মামলাগুলোর পরিণতি খুব একটা ভাল নয়। দেখা গেছে, জনরোষের কারণে মামলা গ্রহণ করে নিম্ন আদালতে দ্রুত রায় ঘোষণা হয়ে থাকে; কিন্তু উচ্চ আদালতে গিয়ে সেখান থেকে সেগুলো ‘লালফিতে’ বন্দি হয়। এমনকি কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে দেওয়ার নজিরও রয়েছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ষোড়শী কন্যা জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দেশজুড়ে ব্যাপক হৈচৈ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই মামলার রায় থেকে বিচার চূড়ান্ত পর্যন্ত ছয় মাসেরও কম সময় লেগেছিল। আদালত রায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু উচ্চ আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে তিন আসামির সাজা কমিয়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ১ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গহিন জঙ্গলে উদ্ধার হওয়া সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরার রক্তাক্ত ছবি এখনো চোখের সামনে স্পষ্ট। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাবু শেখ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা শেষে গলা কেটে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা পুলিশ তিন মাস পেরিয়েও ওই ঘটনায় বিচার শুরু করতে পারেনি। জানা গেছে, পুলিশ এখনো অভিযোগপত্রও দিতে পারেনি।

কুমিল্লার তরুণী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার বিচার ১০ বছরেও শুরু হয়নি। যে ঘটনার কারণে সারা দেশের মানুষের চোখে জল এসেছে। ফেনীতে ২০১৯ সালে আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পরে ওই মামলার উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষা রয়েছে।

মাগুরার আট বছরের শিশুকন্যা আছিয়ার কথা মনে পড়েছে? গত বছরের ৫ মার্চ বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণের পর শিশুটি হত্যা হয়েছিল। তার মৃত্যুর কারণে দেশে আবেগের ঢেউ ওঠে। তখনকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নারীর নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন এনে দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ঘটনার পর ৭২ দিনে ওই মামলার বিচার শেষ হয়। আছিয়ার বোন ফাতেমার শ্বশুর হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হলেও পরে মামলার আর অগ্রগতি হয়নি।

আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন সম্প্রতি বলেন, ‘এতো দিনেও মামলার রায় কার্যকর হচ্ছে না কেন, আমরা বুঝতে পারছিনে। হিটু শেখের ফাঁসি দেখতে আমাদের কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, জানি না। তার দুই ছেলে তো খালাস পেয়েছে। মনে হয়, আর দেরি হলে হিটু শেখও খালাস পেয়ে যাবে।’

এদিকে, দেশে প্রতি দশকেই আলোচিত ঘটনার দ্রুত বিচারের নজির আছে। ঘটনার পরে দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দেয়। এরপর মামলা দ্রুত বিচার শুরু হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে যায়। বিচার শেষ হলে রায় হলেও উচ্চ আদালতের গণ্ডি পেরিয়ে মামলার চূড়ান্ত বিচার গণনায় খুবি বেশি ঘটনা ঘটে না। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় নজির খুঁজতে গেলে ১৯৯৫ সালের একটি ঘটনায় গিয়ে দেখা গেছে। দিনাজপুরের এক আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে দীর্ঘ ৯ বছর লেগেছিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য বলছে, গত এক দশকে দেশে প্রায় ১২ হাজার শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হলেও সেগুলোর বিচার হয়নি। ফলে রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার আশার আলো দেখাচ্ছে; এই রকম পরিস্থিতি বিচারব্যবস্থার বৈষম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠিয়েছে। রামিসার মতো আলোচিত না হওয়ায় কি অন্য শিশুদের জীবন কম মূল্যবান?

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রকাশিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মনিটরিং প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩১২টি, যা মে মাসে বেড়ে ৩২৬টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষভাবে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা, যৌন হয়রানি এবং আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংস্থাটি।

আদালতের জিআর শাখা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে শিশু ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার ৫০টি থানায় সকল ধরনের ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগে অন্তত ২১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নথিভুক্ত মোট এক লাখ ৮১ হাজার ৭৩৭টি মামলার মধ্যে নারীর প্রতি নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৯৩৬টি। ১০ বছরে ধর্ষণ ৬ হাজার, হত্যা ৩১০ শিশু।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৯৩৪টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে মামলা করা হয়েছে ৬ হাজার ১৩৫টি। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬ হাজার ৩১ জন শিশু, যার মধ্যে ৫ হাজার ৬৩১ জন মেয়ে এবং ৪০০ জন ছেলে শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৩১০ জন শিশুকে।

অতিরিক্ত তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ২০১৬ সালে দেশে এক হাজার ৩৪টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এসব ঘটনায় ২৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। একই বছরে ২৮০ জন মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ১৬ জন শিশু।

২০১৭ সালে শিশু নির্যাতন বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৫৫টিতে। মামলা করা হয় ৪৬৪টি। ধর্ষণের শিকার হয় ৪৭০ জন মেয়েশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩০ জন শিশুকে।

২০১৮ সালে এক হাজার ১১ জন শিশু নির্যাতনের ঘটনা এবং ৫৩১টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। ধর্ষণের শিকার হয় ৪৪৪ জন মেয়েশিশু এবং সাত জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩৫ শিশুকে।

২০১৯ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৬৯৬টিতে। ওই বছর ৯৯৬টি মামলা হয়েছিল। ধর্ষণের শিকার হয় ৯৮৬ জন মেয়েশিশু এবং ৩৭ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৫৫ শিশুকে, যা আলোচ্য সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০২০ সালে দেশে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭১৮ জন শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড হয়ে গেছে। মামলা করা হয়েছিল ৯৮৬টি। ধর্ষণে শিকার হয় এক হাজার ১৮ জন মেয়েশিশু এবং ৫২ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩৩ জন শিশুকে।

২০২১ সালে এক হাজার ৪২৬টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল এবং ৮৪৫টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। একই বছরে ৭৭৪ জন মেয়েশিশু এবং ৭৮ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ৩৩ জন শিশুকে।

২০২২ সালে এক হাজার ৮৮টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। মামলা করা হয় ৫৬৭টি। ধর্ষণের শিকার হয় ৫৬১ জন মেয়েশিশু এবং ৫২ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ২৮ জন শিশুকে।

২০২৩ সালে শিশু নির্যাতনের এক হাজার ১৩টি ঘটনা ঘটেছিল এবং ৪২৩টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয় ৩১৪ জন মেয়েশিশু এবং ৭৫ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ২২ জন শিশুকে।

২০২৪ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমে দাঁড়ায় ৬৭০টিতে। মামলা করা হয় ৩৪৭টি। ধর্ষণের শিকার হয় ২৩৪ জন মেয়েশিশু এবং ৩৬ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৫ জন শিশুকে।

২০২৫ সালে আবারও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে ১, ০২৪টিতে পৌঁছায়। ওই বছর ৫৯০টি মামলা করা হয়। ধর্ষণের শিকার হয় ৪৫৬ জন মেয়েশিশু এবং ৪৮ জন ছেলেশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা হয় ২২ শিশুকে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসে ১৯৯টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এবং ১২৬টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এই সময়ে ৯৪ জন মেয়েশিশু এবং ১৫ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা হয় ১১ জন শিশুকে।

তবে শিশু অধিকার কর্মীদের মতে, প্রকৃত ঘটনা আরো বেশি হতে পারে। কারণ সামাজিক সংকোচ, ভয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক পরিবারই নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ বা মামলা করতে আগ্রহী হন না। ফলে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার নথিভুক্ত তথ্য বাস্তব পরিস্থিতির একটি অংশমাত্র তুলে ধরে।

শিশু অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের (বিটিএস) পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিশু নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে তার চেয়ে সংঘটিত ঘটনা কয়েক গুণ বেশি। যেসব পরিবারে এসব ঘটনা ঘটছে তারা ভয় অথবা সংকোচে আইনি লড়াইয়ে যেতে চায় না। পরিবারগুলোকে অভয় দিলেও তারা রাজি হতে চান না। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় না আনা। যে ঘটনার মধ্যে আলোচনায় আসে, রাষ্ট্র সেই ঘটনার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও সারা দেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ দেখা যায় না।

দীর্ঘসূত্রতায় দণ্ডপ্রাপ্তদের পোয়াবারো

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আক্তার বলেন, ‘যদিও আমাদের আইনে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ কঠোর সাজার বিধান আছে, কিন্তু এর যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ার কারণে আইনটি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার যে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া—নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স আসা, এরপর আপিল বিভাগের শুনানি, রিভিউ এবং রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ—এই দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীর মনে আশা জাগিয়ে রাখে যে শেষ পর্যন্ত হয়তো তার ফাঁসি হবে না।

তিনি আরো বলেন, ‘এই বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার জেরে ভুক্তভোগীর পরিবারকে বছরের পর বছর মানসিক ট্রমার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় সাক্ষী বা প্রমাণের অভাবে অপরাধী জামিন পেয়ে মুক্ত হয়ে যায়, যা ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও আইনি ব্যবস্থায় প্রতিটি ধাপ রাখা হয়েছে, যাতে কোনো নিরপরাধ মানুষ সাজা না পায়, কিন্তু বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে অপরাধ কমাতে হলে আইনশৃঙ্খলার প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে অনেক সময় কোনো ঘটনা গণমাধ্যমে আলোচিত হলে তবেই প্রশাসন সক্রিয় হয়। অথচ বিচার হওয়া উচিত অপরাধের গুরুত্ব। বিচার বিলম্বিত হলে ভুক্তভোগীরা প্রকৃত ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাঁর মতে, ক্ষমতার প্রভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্ব তদন্ত প্রক্রিয়ার বড় বাধা। ফলে অনেক চাঞ্চল্যকর মামলাও বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে নির্মোহ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং আইনের শাসন শক্তিশালী হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ নিয়ে অসন্তোষ ট্রাম্প প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


ইউরোপে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ নিয়ে অসন্তোষ ট্রাম্প প্রশাসনের

 

ফ্রান্সে ঐতিহাসিক ডি-ডে বা নরম্যান্ডি অবতরণে ৮২তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক ভাষণে ইউরোপের অভিবাসন নীতির উপর তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের উপকূলে এক ধরনের আক্রমণ বা অনুপ্রবেশ ঘটতে দিচ্ছে, এই দাবি করেছেন তিনি।

১৯৪৪ সালে নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে ইউরোপকে মুক্ত করার জন্য মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক অভিযানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হেগসেথ নরম্যান্ডিতে দাঁড়িয়ে বলেন, আজ দুঃখজনকভাবে স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার সৈকতগুলো বিপজ্জনক মতাদর্শ, নৌকা ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ইউরোপের রাজধানীগুলো এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কবে পদক্ষেপ নেবে, সে সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেন যে, বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা নিয়ে ইউরোপ অতিরিক্ত আরামদায়ক অবস্থানে চলে গেছে।

হেগসেথের এই বক্তব্য মূলত ইউরোপীয় অভিবাসন নীতি নিয়ে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক কঠোর অবস্থানের একটি বড় অংশ। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘে সতর্ক করেছিলেন যে, 'অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের' কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো 'নরকের দিকে যাচ্ছে'।

এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে ইউরোপ পুরোপুরি বদলে যাবে এবং সভ্যতা বিলুপ্তির মুখে পড়বে।

গত শুক্রবার (২৯ মে) মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যুক্তরাজ্যে এক ব্রিটিশ ছাত্রের মৃত্যুর জন্য অভিবাসীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। যদিও যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, ওই ঘটনার হামলাকারী জন্মসূত্রে একজন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।

বর্তমানে ইউরোপ জুড়ে অভিবাসন একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং কঠোর অভিবাসন নীতি সমর্থনকারী দলগুলোর জনসমর্থন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সমুদ্রপথে ইউরোপে রেকর্ড ১০ লক্ষাধিক মানুষের আগমন ঘটেছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জুনের মধ্যে ৯,১৪২ জন ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে গেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৮% কম।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন প্রশাসনের এই ঢালাও সমালোচনাকে সঠিক নয় বলে প্রত্যাখ্যান করলেও, ছোট নৌকায় অবৈধভাবে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার বিষয়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণভাবে অভিবাসন-বিরোধী নীতিকে তাদের প্রধান স্তম্ভ বানিয়ে ফেলেছে, যার অংশ হিসেবে গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার দিন প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা মিরপুরের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৪ এম


চার দিন প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা মিরপুরের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে

রাজধানীর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন প্রশিকা সড়কে চার দিন ১০ ঘণ্টার জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন-২০২৬ এবং বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে অনুশীলন ম্যাচ ও ওয়ানডে সিরিজের কারণে ওই সড়কে যান চলাচল সীমিত থাকবে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন অনুশীলন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর পর ৯ জুন প্রথম ওয়ানডে, এরপর ১১ জুন দ্বিতীয় ওয়ানডে এবং ১৪ জুন তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শের-ই বাংলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন প্রশিকা সড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

ডিএমপি নাগরিকদের বিকল্প পথ ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, মিরপুর-১ গামী যানবাহনগুলোকে প্রশিকা ক্রসিং–শিয়ালবাড়ি ক্রসিং–রাইনখোলা–ঈদগাহ মাঠ হয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে।

ডিএমপি বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ও নির্বাচন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি উল্টো ফল বয়ে আনবে: পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ এম


ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি উল্টো ফল বয়ে আনবে: পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার বলেছেন, ভারতের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করার যেকোনো বাহ্যিক চেষ্টা বা ‘নিষেধাজ্ঞার হুমকি’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে উল্টো হিতে বিপরীত বা ‘বুমেরাং’ হবে। তিনি ভারতকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে এই মন্তব্য করেন। দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন এই কথা বলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বার্তা সংস্থাগুলোর প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময়েও তিনি প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভারত সবসময় একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেয়। প্রধানমন্ত্রী মোদির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি তাৎক্ষণিকভাবে বুমেরাং হয়ে ধেয়ে আসবে।’ প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথাও উল্লেখ করে পুতিন অতীতে নরেন্দ্র মোদির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্মরণ করেন। পুতিন বলেন, ‘আমি জানি প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনোই সেই বিষয়টি ভুলে যাবেন না। তবে আজ তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। যতটুকু আমি বুঝি, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ সফলভাবেই এগিয়ে চলেছে।’ রাশিয়ার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সুখই-৫৭ কিংবা শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৫০০ ক্রয় করলে ভারতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন স্পষ্ট জানান, নয়াদিল্লি কোনো বাহ্যিক চাপে মাথা নত করবে না। তিনি বলেন, ‘ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। যে পণ্যটি তাদের কাছে সবচেয়ে আধুনিক, উপযোগী ও সাশ্রয়ী মনে হবে, সেটি বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। লোকে কে কী বলল বা ভাবল, তাতে ভারতের কিছু যায় আসে না। তারা সবসময় এভাবেই কাজ করে এসেছে।’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, অন্যান্য অংশীদারদের মতো ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কও কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের কেউ ডিক্টেশন দিতে (হুকুম চালাতে) পারে না... কেউ আমাদের ওপর হুকুম চালানোর সাহসও করবে না। আমরা যা সঠিক মনে করি, সবসময় তা-ই করব। বিশেষ করে ভারতের মতো বিশ্বস্ত অংশীদারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা সবসময় রক্ষা করব।’ ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গভীরতা তুলেধরে পুতিন বলেন, এই সম্পর্ক কেবল সাধারণ বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়া ও ভারত শুধু পণ্য কেনাবেচা করে না, বরং যৌথভাবে গবেষণা ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা মিলে ইতিমধ্যেই মাঝারি পাল্লার ‘ব্রাহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছেন। পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সুখই-৫৭ প্রসঙ্গে পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া প্রথমে যৌথভাবে এটি তৈরির প্রস্তাব দিলেও পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে রাশিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করেছে। পুতিন দাবি করেন, ‘সুখই-৫৭ অত্যন্ত চমৎকার একটি যুদ্ধবিমান, সম্ভবত এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটার জেট। আমরা এটি ভারতের কাছে বিক্রি করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ কয়েক দশক ধরে রাশিয়াই ভারতের প্রধান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটেছে এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় নয়াদিল্লি বর্তমানে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানে জোর দিচ্ছে। ভারত তার নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য এএমসিএ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম দেশীয় মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রকল্প। ভারতের নিজস্ব ‘এএমসিএ’ যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে (আইএএফ) যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই অন্তর্বর্তীকালীন শূন্যতা পূরণে এবং বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ভারত সরকার রাশিয়ার কাছ থেকে অন্তত দুই স্কোয়াড্রন (প্রায় ৩৬টি) সুখই-৫৭ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে, যদি সেগুলো ভারতের সব কারিগরি শর্ত পূরণ করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%