বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০২:৩১ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়াকে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ১-০ গোলে পরাজিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে প্রবেশ করেছে। এটি দক্ষিণ কোরিয়াকে হতাশ করে। বিশ্বকাপে হতাশাজনক শুরুর পর বাফানা বাফানাদের এই রূপান্তর অনেকটা রূপকথার মত।
২০১০ সালে স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসার পর এটি তাদের প্রথম বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে তারা শুরুটা ভাল করতে পারেনি। তবে গ্রুপ-এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা একটি পয়েন্ট অর্জন করে। গতকাল দ্বিতীয়ার্ধে থাপেলো মাসেকোর গোলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করে তারা মেক্সিকোর পর গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানও দখল করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস দলের এই অর্জন সম্পর্কে বলেছেন, ‘গোলের পর ম্যাচ শেষের আগ পর্যন্ত আমাদের কিভাবে কেটেছে তা বোঝানো যাবেনা। আশা করছিলাম যত দ্রুত সম্ভব যেন ম্যাচটা শেষ হয়। এখন আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবো। এটা ঐতিহাসিক। আমি দারুন খুশী। গত পাঁচ বছর ধরে আমরা একসাথে কাজ করছি, যা সত্যিই অসাধারণ।’
দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ হং মায়াং-বো এশিয়ার অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত অধিনায়ক সন হেয়াং-মিনকে বদলী বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজিয়েছিলেন। এটি অনেককেই বিস্মিত করেছে। এশিয়ান পরাশক্তিরা ম্যাচটি দারুনভাবে শুরু করেছিল। অস্থায়ী অধিনায়ক কিম মিন-জায়ের শক্তিশালী হেড গোললাইনের উপর থেকে ব্লক করেন অব্রে মোডিবা।
দক্ষিণ আফ্রিকার দলটি দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারা আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলতে থাকলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্খিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ৩০ মিনিটে থালেন্টে এমবাথার শট কোনমতে রক্ষা করেন দক্ষিণ কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেয়াং-গিউ। পোস্টের খুব কাছে থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি মাগোপা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন সন। এসময় কোচ হং তিনটি পরিবর্তন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড ওহ হায়েয়ন-গিউ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। ৬৩ মিনিটে অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কাঙ্খিত মুহূর্ত আসে। সেপাং মোরেমির ক্রসে মাসেকোর গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকানরা। ম্যাচের শেষ ভাগে দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে ফিরে আসার জোর চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।
এই পরাজয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তাদের নক আউট পর্বে যাওয়ার এখনও আশা রয়েছে। আগামী ২৮ জুন লস এ্যাঞ্জেলসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক কানাডা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলেও এর ফলে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায়, গ্রিনিচ মান সময় বুধবার ২২৩০টায়, প্রধান দ্বীপ হোনশুর ইওয়াতে প্রিফেকচারের উপকূলীয় সমুদ্রে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কম্পন কয়েকশ মাইল দূরের রাজধানী টোকিওতে অনুভূত হয়ে ছিল। তবে, এ ভূমিকম্পের কারণে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
জানা যায়, রান্নাঘরের আলমারি থেকে হাঁড়ি-পাতিল পড়ে যায় এবং নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলোর কম্পনও জোরালোভাবে অনুভূত হয়।
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়টি রিপোর্ট করেছে। প্রথমে জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বললেও পরে এটি সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ মাত্রা নির্ধারণ করে।
সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ৪৪ কিলোমিটার গভীরে।
উত্তরাঞ্চলীয় আওমোরি প্রিফেকচার এলাকার হাশিকামির একটি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানের ৬১ বছর বয়সী কর্মী মুতসুমি শিমোহাতা এএফপিকে বলেন, তার বাসায় একটি ছবির ফ্রেম পড়া ছাড়া আর কোনো ক্ষতি হয়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম, তখন ভূমিকম্পটি ঘটে। এরপর আমার স্মার্টফোনে সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। আমি এতে বিস্মিত হয়েছিলাম। কম্পনটা কিছুটা দীর্ঘ মনে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে অফিসের স্বয়ংক্রিয় দরজা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে এবং ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। তাই কোম্পানি আমাদের আজ বাড়িতে থাকতে ও প্রস্তুত অবস্থায় থাকতে বলেছে।’
জাপানি টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা যায়, রান্নাঘরের আলমারি থেকে হাঁড়ি-পাতিল মেঝেতে পড়ে যায়। বিভিন্ন দোকানের পণ্যও মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেখা গেছে।
ভূমিকম্পের কারণে কিছু শিনকানসেন বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
হাশিকামির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনএইচকে-কে জানান, ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এনএইচকে জানায়, হাশিকামি ও হাচিনোহে দমকল বিভাগে অন্তত চারটি জরুরি ফোনকল এসেছে। এছাড়া কিছু ব্যক্তির লিফটে আটকা পড়ার ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটি আরও জানায়, কয়েকটি জায়গায় দরজা আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং একটি ট্যাংকার ট্রাকও উল্টে গেছে।
জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা বলেন, ‘এ মুহূর্তে কোনো হতাহতের তথ্য নেই, তবে আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন অব্যাহত রাখব।’
জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দাবি, অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত হয়নি।
এনএইচকের সম্প্রচারে হাচিনোহে শহরে স্বাভাবিক যান চলাচল এবং ট্রাফিক সিগন্যাল সচল দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তায় বলেন, ‘যেসব এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
২০১১ সালের ৯ দশমিক ০ মাত্রার ভয়াবহ সমুদ্রতলীয় ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনো জাপানকে তাড়া করে। ওই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চলতি বছরের ২০ এপ্রিল, দেশটির উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং টোকিওর বড় বড় ভবনও কেঁপে ওঠে।
এর পরে কর্তৃপক্ষ ৮ দশমিক ০ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করে। তবে এক সপ্তাহ পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান পঞ্চম বছরে গড়ানোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মস্কোর কাছাকাছি প্রায় প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে হামলা জোরদার করেছে।
মস্কো থেকে খবরের সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
কিয়েভের দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনী মূলত সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আয় থেকে ক্রেমলিনকে বঞ্চিত করা।
ক্রাসনোদার ক্রাইয়ের ক্রাসনোআর্মেইস্ক জেলার প্রধান আলেক্সান্দর খারিতোনভ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ম্যাক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইউএভির ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ার পর পোলতাভস্কায়া তেল ডিপোতে আগুন লাগে।’
এর কয়েক মিনিট পরে, ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায় যে একটি রাশিয়ার হামলায় একটি শিল্প স্থাপনায় আগুন লাগে। পরে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং নদী কর্মীদের সহায়তায় প্রস্তুতকৃত তালিকার তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট নদীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৫টি রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
আজ সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. কামরুল হাসানের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশন নং ৩৫০৩/২০০৯ এর আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখল প্রতিরোধ, দূষণ রোধ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ প্রণীত হয়।
হাইকোর্ট রিট পিটিশন নং ১৩৯৮৯/২০১৬ এর আদেশে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নদ-নদীর আইনগত অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং বিদ্যমান আইনে এনফোর্সমেন্ট ক্ষমতা খুঁজে না পাওয়ার ফলে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নদীর স্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ সংশোধনের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে, মন্ত্রী জানান।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী আরো জানান, প্রস্তাবিত আইনে নদ-নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে, পাশাপাশি পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠার, নদী দখল সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত ও অনুসন্ধান, দূষণের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়, মামলা দায়ের এবং তা তদারকির বিধান রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্ন ফাঁসের যে কোনো ধরনের অপচেষ্টা বা চালাকি কঠোর হস্তে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো রকম চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যা দেখে অন্য অপরাধীরা আজীবন শিক্ষা পাবে।’
আজ বৃহস্পতিবার আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন উর রশিদ, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুছ আলী সিদ্দিকী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
মন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে যদি ‘ও লেভেল’ বা ‘এ লেভেল’ পরীক্ষা একই প্রশ্নে হতে পারে, তবে আমাদের দেশে বোর্ডভেদে আলাদা প্রশ্ন কেন হবে? বোর্ডের চেয়ারম্যানরা আগে বলতেন- প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কায় তারা আলাদা প্রশ্ন করেন। আমি বলেছি, প্রশ্ন ফাঁসই হতে দেওয়া হবে না। কোনো একটি বোর্ডের প্রশ্ন সহজ আর অন্য বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন- এই জিপিএ বৈষম্যের মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতেই আমরা একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এবার এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিগত সরকারের আমলের শিক্ষার করুণ চিত্র ও ঢালাও পাসের সমালোচনা করে ড. মিলন বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলের নীতি ছিল- না পড়ে, নকল করে, ইন্টারনেটের সহায়তায় খাতায় বেশি নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দাও। এভাবে পাস করে যারা ডাক্তার হয়েছেন, তারা যদি কোনো অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা দিতে যান, তবে রোগীকে সামনে রেখেই তাদের নতুন করে বই পড়তে হবে। মেধার কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম’ নীতির কারণে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে সবাইকে পাস করিয়েছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার লেখাপড়ার মান ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। আমরা যোগ্যতার নামে ক্ষমতায় বসে থাকতে চাই না, যে কদিন থাকব সিংহের মতো চলব, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ছাড়ব।’
মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে মাসের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত সরকার সেপ্টেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো ধরনের বাজেট বরাদ্দ ছাড়াই ১৭ হাজার এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। তারা অংকে কাঁচা ছিল, বাজেট এলোকেশন করেনি। ফলে মে মাসে এসে আমাদের হাতে টাকা ছিল না। আমি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা শুধু জনতা ব্যাংকে ছাড় করেছি, যা দিয়ে চার ভাগের এক ভাগ শিক্ষক বেতন পাবেন। তবে আমি নিশ্চিত করছি, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আপনাদের বকেয়া এমপিও এবং মে ও জুনের সমস্ত বকেয়া বেতন একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে শিক্ষকদের টাকা অনলাইনে পাঠানোর জন্য ১০ কোটি টাকার ইএফটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা বাড়িয়ে ৮০ কোটি টাকা করা হয়েছে, কিন্তু কাজ শেষ করা হয়নি। এই প্রকল্পকে আগামী ১ বছর সময় দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে শেষ না হলে এটি বন্ধ করে ম্যানুয়ালি কাজ করা হবে।
শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেলের ধারাবাহিকতায় শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি কেন্দ্র সচিব ও কর্মকর্তাদের সারা দেশে পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে কোনো পরীক্ষার্থীকে অন্যায় সুবিধা না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ