বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৬ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। কৃষিকাজে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ত্যাগ করছেন। এর ফলে মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।”
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ঐ অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।”
এ সময় রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়া একটি ইতিবাচক বিষয়।
তিনি ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের কৃষিখাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজিপুর-২ এর সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং বারির কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
সবশেষে রাষ্ট্রপতি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। তিনি উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন করাতকলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে একাধিক করাতকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বৈধ ও হালনাগাদ পরিচালন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। কেউ দেখিয়েছেন চলমান মামলার কাগজপত্র, আবার কেউ দেখিয়েছেন ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের পরিবেশগত ছাড়পত্র। এদিকে আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও করাতকল চলার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলের মালিক পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে না পারলেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখান। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের অধিদপ্তর শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদান করে, করাতকল পরিচালনার বিশেষ লাইসেন্স নয়।
মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা চাইলে করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুলাউড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানিয়েছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে তিনি সরেজমিনে যেতে পারছেন না। ফলে করাতকলগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনে তাঁর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
করাতকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কুলাউড়া পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানের সময় কয়েকটি করাতকলের অফিসে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেছে। ভাটেরার একটি করাতকলে কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। তবে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইন মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।
কুলাউড়ায় কতটি করাতকল রয়েছে, কতটির বৈধ লাইসেন্স ও কার্যকর পরিবেশগত অনুমোদন আছে—তা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
করাতকলগুলোর বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তিতে এখন উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুব শীঘ্রই ডিজেল সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন রুশ রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত এবং রাশিয়ার ডিরেক্টরি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ।
সম্প্রতি ‘রাসিয়ান এনার্জি উইক’ ফোরামের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিমিত্রিভ উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির বিষয়ে বর্তমানে তারা অত্যন্ত সক্রিয় এবং ঘণ্টাব্যাপী যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। দুই পক্ষই বিষয়টি নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে জ্বালানি খাতের যে সেতুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো পুনরায় জোড়া লাগাতে তারা এখন প্রতি মুহূর্তে সক্রিয় রয়েছেন এবং কার্যকরভাবে লজিস্টিকস বা সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই তথ্যটির প্রচারক ও তথ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারে একটি মাদ্রাসায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। দুপুরের সময় সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকায় অবস্থিত আয়েশা সিদ্দিকা রাযি, বালিকা মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। জানা যায়, ১১ অক্টোবর সাড়ে এগারোটায় ওই মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার লিমা নিখোঁজ হন। পরে, নিখোঁজের সাধারণ ডায়রি (জিডি) করতে পরিবারের সদস্যরা সাভার মডেল থানায় যান। আজ, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনরা যখন মাদ্রাসায় যান, তখন মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়।
ভিডিও ধারণ করার সময় সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ জনকে পিটিয়ে আহত করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনার পর সাভার মডেল থানার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলমগীর সাংবাদিকদের এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা করেন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা নুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার কারণে পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলী আকবর কাসেমী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে খেলাধুলায় জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণ, শিশু ও তরুণ খেলোয়াড়দের সুরক্ষা এবং ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে খেলোয়াড় ও কোচদের নিয়ে দিনব্যাপী জেন্ডার সমতা ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজশাহীর হোটেল ওয়ারিসনে সচেতন সোসাইটির আয়োজনে এ প্রশিক্ষণের অর্থায়ন করেছে এডুকো বাংলাদেশ।
সচেতন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোঃ হাসিনুল ইসলাম প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন সাফের হেড অব সেফগার্ডিং এ্যান্ড সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ফাতিমা এশা এবং এডুকো বাংলাদেশের ম্যানেজার (চাইল্ড রাইটস, প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম। প্রশিক্ষণের আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন গেম চেঞ্জার প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মোঃ নজরুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণে আলোচনা করা হয় খেলাধুলায় নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ ও সুযোগ নিশ্চিত করা, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের অধিকার ও সুরক্ষা, খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি এবং ক্রীড়াঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব। এছাড়াও খেলাধুলায় হয়রানি, নির্যাতন ও বৈষম্য প্রতিরোধে খেলোয়াড়, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সচেতন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোঃ হাসিনুল ইসলাম বলেন, "খেলাধুলা শুধু শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মাধ্যম নয়; এটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।" তিনি আরও বলেন, "ক্রীড়াঙ্গনে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক আচরণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রশিক্ষকরা তাঁদের বক্তব্য ও সেশন পরিচালনার মাধ্যমে জোর দেন যে, ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। বিশেষ করে নারী, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য বৈষম্য, হয়রানি ও নির্যাতনমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা, সচেতনতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব, বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।
এডুকো বাংলাদেশের অর্থায়নে সচেতন সোসাইটি কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘গেম চেঞ্জার’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো খেলোয়াড় ও কোচদের জেন্ডার সমতা, শিশু সুরক্ষা ও নিরাপদ ক্রীড়াচর্চা সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, অন্তর্ভুক্তি ও নিরাপত্তার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ