ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাভারে দুই এএসআই ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার


সাভারে দুই এএসআই ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার

সাভারের ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ছাত্র হত্যা মামলার আসামি পালানোর ঘটনায় দুই এএসআই এবং একজন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল বেলা ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাস্তির মুখোমুখি হওয়া তিন পুলিশ কর্মকর্তা হচ্ছেন—সাভার মডেল থানার ভাকুর্তা ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রবিউল ইসলাম, এএসআই খায়রুল আলম ও কনস্টেবল তোফায়েল।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছাত্র হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি এবং ভাকুর্তা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আশাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভাকুর্তা ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটে দুপুরে। ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে আকস্মিকভাবে দৌড়ে পালিয়ে যান আশাব উদ্দিন। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুলিশের চোখের সামনে দিয়েই হাওয়া হয়ে যান এই হত্যা মামলার আসামি। এরপর চারদিকে শোরগোল পড়লেও ততক্ষণে আসামি উধাও হয়ে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সরষের ভেতর ভূত বা কর্তব্যে অবহেলা, যাই হোক না কেন, আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মেলায় দুই এএসআই এবং একজন কনস্টেবলকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পলাতক আসামি আশাব উদ্দিনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, খুব দ্রুতই তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হবে।

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু

 দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকরা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব বিভাগ ও ডেঙ্গু প্রবণ জেলার চিকিৎসকদের এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি চিকিৎসককে জাতীয় প্রোটোকল অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, ট্রায়াজ (রোগীর গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসার অগ্রাধিকার নির্ধারণ) এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উপযুক্ত নির্দেশনা দেওয়া।

ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের (ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স-টিওটি) দ্বিতীয় ব্যাচ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন সম্পন্ন করেছে। দুই দফায় রাজধানীতে প্রায় ১৩৫ জন চিকিৎসককে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন (বিএসএম)-এর আহবায়ক কমিটির সদস্য ডা. মো. ইলিয়াস ভূঁইয়া বাসস’কে জানান, রাজধানীতে দুই দিন ধরে ১৩৫ জন চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ৬৮ জন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং দ্বিতীয় দিনে ৬৭ জন বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

খুব শিগগিরই ৮ বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বলেন, আমরা ৮ বিভাগের প্রতিটি থেকে ৭০ জন করে প্রশিক্ষণ দেব এবং শিগগিরই এই কার্যক্রম শুরু হবে।

এছাড়া, ডেঙ্গু প্রবণ জেলাগুলোতেও চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিনি জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন ৮ থেকে ১০টি জেলায় ৬০ থেকে ৭০ জন চিকিৎসককে প্রথম ধাপে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বাকী ডেঙ্গুপ্রবণ জেলাগুলোয় এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

গত ৭ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

সেই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন দেশের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের একার দায়িত্ব নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে অংশ নিতে হবে।’

বিগত তিন বছর ডেঙ্গু আক্রন্তের হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ১ হাজার ৭০৫ জন মারা যান। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু ৫৭৫ জন। আর ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন।

অন্যদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অধিক রোগীর চাপ সামাল দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে এ ধরনের হাসপাতাল আরও করা হবে বলেও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনা মূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে। সেই গাইডলাইন ধরে সারা দেশের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে ইউনিসেফ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় (২২ জুন পর্যন্ত), এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৭৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৩, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৮৬, খুলনা বিভাগে ৫৫৮, রাজশাহী বিভাগে ১৭৯, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৪০, রংপুর বিভাগে ৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩০। ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি জুন মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।

এছাড়াও এ বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন এবং জুনে (২২ জুন পর্যন্ত)  ১ হাজার ৮৪২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪ দিনে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে উঠল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


৪ দিনে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে উঠল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে স্থাপিত নতুন দানবাক্সের অর্থ গণনা করেছে জেলা প্রশাসন, যা প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে। অপরদিকে, মাত্র চার দিনে দানবাক্সগুলোতে জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকার সঙ্গে ৭ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং ১০ সৌদি রিয়াল।

সোমবার (২২ জুন) সকালে বিদায়ী জেলা প্রশাসক ও মাজারের প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমের নির্দেশে মাজার প্রাঙ্গণে স্থাপিত দানবাক্সগুলো খোলা হয়। প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করেন।

গণনা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া সব অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরকারি নিয়ম অনুসারে সংরক্ষণ করা হবে। পরে এগুলো সোনালি ব্যাংকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে খোলা সরকারি হিসাবে জমা রাখা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে মাজারে ভক্তদের দান ঐতিহ্যগতভাবে খাদেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শতবর্ষী দানের ডেক সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ভক্ত, খাদেম এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে নতুন দানব্যবস্থা চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ জারি হয়। বদলির আদেশ মাথায় নিয়েই নিজের শেষ কর্মদিবসে দানবাক্সের অর্থ গণনার উদ্যোগ নেন তিনি। বিষয়টি সিলেটজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ওয়াকফ অডিটর মো. সজল মিয়া বলেন, মাজারে পাওয়া অর্থ, সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রা যথাযথভাবে হিসাবভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে এগুলো সংরক্ষণ ও ব্যাংকে জমার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই জেলা প্রশাসন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাজারের টাকার হিসাব চেয়ে ইতিহাস গড়লেন ডিসি সারওয়ার: দেশজুড়ে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৪ এম


মাজারের টাকার হিসাব চেয়ে ইতিহাস গড়লেন ডিসি সারওয়ার: দেশজুড়ে তোলপাড়

সরকারি নির্দেশনা মেনে হয়তো তাকে বিদায় নিতে হবে, এটাই আমলাতান্ত্রিক বাস্তবতা। কিন্তু বিদায় নেওয়ার আগে তিনি যা করে গেলেন, তা দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়। তিনি আর কেউ নন—আলোচিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সারওয়ার আলম। শত শত বছরের অচলায়তন ভেঙে মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দীর্ঘ ৭০০ বছরের ইতিহাসে এর আগে কেউ কখনো এভাবে প্রকাশ্য আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ার সাহস করেনি, এমনকি সাধারণ মানুষও কখনো ভাবেনি যে এই হিসাব চাওয়া সম্ভব। ডিসি সারওয়ার আলমের এই একটি সাহসী পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে।

আড়ালে থাকা 'খাদেমগোষ্ঠী' এখন প্রকাশ্যে
এতদিন মাজারের বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় যায়, কারা ভোগ করে—তা সাধারণ মানুষের কাছে মোটেও পরিষ্কার ছিল না। ভক্ত-আশেকানরা ভক্তিভরে যে বিপুল অংকের মান্নতের টাকা দান করতেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাথাব্যথাও ছিল কম।
কিন্তু ডিসি সারওয়ার আলমের নেওয়া পদক্ষেপের পর থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। কারা মাজারের টাকা ভোগ করছেন, তা এখন স্পষ্ট। হিসাব চাওয়ার পর মাজারের খাদেমগোষ্ঠীর নেতারা প্রকাশ্যে এসে গণমাধ্যমে যেভাবে বক্তব্য ও নিজেদের অধিকারের দাবি তুলে ধরেছেন, তাতে মানুষ তাদের আসল চেহারা চিনতে পেরেছে।

এই ধাক্কা দেশের মানুষের মধ্যে এক বিশাল সচেতনতা তৈরি করেছে। এখন থেকে মানুষ অন্তত বুঝে-শুনে এবং হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই মাজারে দান করতে শিখবে।

গণমাধ্যমের সোচ্চার ভূমিকা ও ভবিষ্যতের জবাবদিহিতা
এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে দেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব জাগরণ। সচেতন মহলের মতে, দিন আর বেশি দূরে নয়, যখন দেশের প্রতিটি মাজারের হিসাব-নিকাশে শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাধ্য হবে কর্তৃপক্ষ।


দেশজুড়ে 'ডোমিনো ইফেক্ট'
সবচেয়ে মজার এবং ইতিবাচক বিষয় হলো, ডিসি সারওয়ার আলমের এই একটি সাহসী পদক্ষেপের আঁচড় লেগেছে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা শত শত মাজারে। কেবল সিলেটেই নয়, এখন দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা বিভিন্ন মাজারের বিপুল অংকের টাকা ও সম্পদের হিসাব চাওয়ার দাবি তুলতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ।
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এই 'ধাক্কা' দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা করলো বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ফিরলেন ৬৩ হাজার ৭৮৩ জন হাজি, মৃত্যু ৫৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


দেশে ফিরলেন ৬৩ হাজার ৭৮৩ জন হাজি, মৃত্যু ৫৪

পবিত্র হজ পালন শেষে, মোট ১৬৪টি ফ্লাইটের মাধ্যমে সর্বমোট ৬৩ হাজার ৭৮৩ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। আর এখন পর্যন্ত মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের হজ বুলেটিনের তথ্য সূত্রে এই তথ্যগুলো জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৪,৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসেছেন ৫৯,৪৬৪ জন হাজি।

হাজিদের ফিরিয়ে আনতে, এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১৬৪টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৪টি ফ্লাইটে ২৮,৬৩৩ জন হাজি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৫৮টি ফ্লাইটে ২২,৩০০ জন হাজি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইটে ৮,৬৭২ জন হাজি পরিবহন করেছে। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে আরও ৪,১৭৮ জন হাজি সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন।

হজযাত্রীদের সুবিধার্থে সৌদি আরবে সার্বক্ষণিক আইটি এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সৌদি আরবের বাংলাদেশ চিকিৎসা কেন্দ্র হতে এ পর্যন্ত ৬৬,৭৪৫ টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র এবং আইটি হেল্পডেস্ক থেকে ২৮,২৯৮ টি সেবা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চলতি বছর হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ৫৪ জনের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন মহিলা। এর মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় ১ জন হাজি মৃত্যুবরণ করেছেন। মিনা, আরাফা বা মুজদালিফায় কোনো হাজির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নিয়মানুযায়ী তাদের সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে।

গত ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের হজের ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়েছিল। পবিত্র হজ পালন শেষে এখন দেশে ফেরার পালা। ৩০ মে থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%