০৪:১৮ এম
ইরান থেকে আসা হুঁশিয়ারির পর ইসরাইল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে সহনশীলতা প্রদর্শিত হবে না।
সোমবার (১ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি পোস্টে জানান, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে খুব ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, 'বৈরুতে কোনো সেনা যাবে না। যারা সেখানে যেতে প্রস্তুত ছিল, তাদের ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
এছাড়াও তিনি দাবি করেন যে, তিনি লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি সমঝোতাতেও পৌঁছেছেন। ট্রাম্পের কথায়, 'হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা মুখে বলেছে, সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধ রাখবে। ইসরাইল তাদের দিকে হামলা চালাবে না এবং তারাও ইসরাইলের দিকে হামলা চালাবে না।'
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শিশু তালহা হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন
এদিকে, ইসরাইল গত কয়েকদিন ধরে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা জোরদার করেছে। সোমবার, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলার জন্য নির্দেশ দেন। এর ফলে লেবাননে বাস্তুচ্যুতির একটি নতুন ধাপ শুরু হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।
নেতানিয়াহুর ঘোষণার পর, ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা ইসরাইল এবং তার মিত্রদের সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা বলেন, 'লেবাননে ইসরাইলের চলমান আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।' ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ইতিমধ্যে সতর্ক করে জানায়, যদি ইসরাইল দক্ষিণ বৈরুতে বোমা হামলা করে, তবে তারা হতাহতের আশঙ্কায় উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী ইসরাইলি নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলবে।
এবং এই প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন, 'ইসরাইল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। যদি তারা এই হুমকি বাস্তবায়ন করে, তাহলে উত্তরাঞ্চল ও সামরিক বসতিগুলোর বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা ক্ষতির শিকার না হন।' ইরানের কর্মকর্তাদের দাবী করেন, ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে শুধু ইরান নয়, লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে উল্লেখ ছিল।
ইরানের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এই ধরনের ডেভেলপমেন্টের ফলে সতর্ক করেন যে, বৈরুতের উপর ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং গাজায় চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, 'লেবাননে ইসরাইলের বাড়তে থাকা আক্রমণ, দেশটিতে হামলা এবং ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।'
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধ ২৫ শতাংশ কমেছে: হোয়াইট হাউস
আবারও, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেন, 'যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।' তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে এটি পুরো চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ একই মন্তব্য করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, 'নৌ-অবরোধ এবং গণহত্যাকারী জায়োনিস্ট শাসকের লেবাননে যুদ্ধাপরাধ বাড়ানো — এগুলো যুদ্ধবিরতি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।' তিনি আরো বলেন, 'প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটি মূল্য আছে, এবং ওই বিল শোধ করতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক হবে।'
পরে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানায়, যদি ইসরাইল তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর লেবাননে হামলা চালাতে থাকে, তাহলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি সম্ভবত ভেঙে যাবে। ইরানের এই কঠোর হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।
হিব্রু মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের হুঁশিয়ারির পর ইসরাইল বৈরুত হামলার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। ইসরাইলি ব্রডকাস্টিং অথরিটি (কান) জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জরুরি ফোনকলের পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।
আরও পড়ুন: লাস ভেগাসে যাওয়ার অভিযোগে চার সন্তানকে একা রেখে ফের গ্রেপ্তার মা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন