কাউখালী প্রতিনিধি রিয়াদ মাহমুদ সিকদার
০২:৩৩ পি.এম
কাউখালীতে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে একটি বিশেষ আলোচনা সভা এবং শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশে ক্যাশলেস লেনদেনের কার্যক্রম বাড়ছে। “লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ”—এই বিষয়ে স্লোগান সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় পিরাজপুরের কাউখালি উপজেলা পুবালী ব্যাংক উপ-শাখা পিএলসির উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, বাংলা কিউআর কোড উদ্বোধন, পস মেশিন প্রদর্শনী এবং মতবিনিময় সভা।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, পুবালী ব্যাংক পিএলসি রাজাপুর শাখার ম্যানেজার মোঃ মেহেদী হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কাউখালী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, পুবালী ব্যাংকের বরিশাল অফিসের এডিসি রিজোনাল ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম, কাউখালী শাখার ম্যানেজার মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান নিক্সন, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক, রাকিব তালুকদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম।
এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুবালী ব্যাংক পিএলসি কাউখালি উপজেলা শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এলাকাবাসী সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মন্তব্য করেন, ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে নিরাপদ, দ্রুত ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং যা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১১ জুন, ২০২৬ : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে এ বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকটি সকাল ১০টায় শুরু হয়।
দুপুর ১টার দিকে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।’ অর্থ বিলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরের পর আজ বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন।
এটি তারেক রহমান সরকারের সংসদে প্রথম বাজেট।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংসদ না থাকায় উপদেষ্টা পরিষদের মাধ্যমে সরকারের ব্যয় এবং সংশোধিত অর্থ অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় এবং জারির করার পর তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত বাংলাদেশের ভিন্ন বাস্তবতায় সংসদের বাইরে ভিন্ন আঙ্গিকে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছিল।
গত ২ জুন মোকাবিলা করা অর্ন্তবর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সংসদ না থাকায় তাঁর বাজেট বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, শিবিরের বট ও অ্যাক্টিভিস্টরা বারবার আমার ফাঁসির দাবি তুলছেন। মৃত্যুকামনা করছেন, এমনকি একবার প্রতীকী জবাইও করেছেন।
বুধবার (১০ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে, তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে “সব দোষ মাহফুজ আলমে’র ইতিবৃত্ত’’ শিরোনামে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ওই পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেন, আমি আজ পর্যন্ত জুলাইয়ের পক্ষের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছি? না। কিন্তু, ব্যক্তি মাহফুজের বিরুদ্ধে হওয়া বিষোদগারের ৮০-৯০%-ই জুলাইয়ের কথিত পক্ষের লোকদের বিশেষ করে জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানদের করা। লীগ আক্রমণের টাইম আর স্পেসই খুঁজে পাচ্ছে না। আর তথ্য মন্ত্রণালয়ে ৯ মাসের জন্য আমি দোষী হলে, আগে পরের ৯ মাসের উপদেষ্টারা কেন দায়মুক্ত? তারা যদি সদিচ্চাবান হন, তাইলে মাহফুজ আলম গাদ্দার কেন? আদর্শিক জায়গা থেকে জাশি-উগ্র ডানের রাজনৈতিক আদর্শের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছি? হ্যাঁ। কিন্তু, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তি কি শুধুই জামায়াত? ‘৭১ কে অস্বীকারের/অবনমনের জাশির (জামায়াত-শিবির) রাজনীতি নিয়ে যদি জামায়াতকে প্রশ্ন করা অপরাধ হয়, সে অপরাধে জুলাইয়ের কথিত পক্ষের লিবারেল-বাম-সেক্যুলারদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ও দায়ী হতে বাধ্য। কিন্তু, সেরকম কিছু কি হয়েছে? জামায়াতের আদর্শিক বিরোধিতার সূত্রে যদি আমি বিভাজনের জন্য দায়ী হই, তাহলে এ বিভাজন এবং জুলাইকে জাশির একচ্ছত্র বয়ানের খপ্পর থেকে বাঁচানোর চেষ্টার জন্য আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত না। কিন্তু, আমি কখনই শাহবাগের ফ্যাসিবাদী জাশি-বিদ্বেষী চিন্তাকে এন্ডোর্স করি নাই।
তিনি আরও লিখেন, আমি কিছুদিন আগেও আহ্বান জানিয়েছি, জুলাইয়ের পক্ষের সব শক্তিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্বেষ থেকে বের হয়ে আসতে। পলিসি, মতাদর্শ নিয়ে তর্ক করার বদলে একজন ব্যক্তিকে টানা প্রায় দু’বছর জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানপন্থীদের ব্যক্তি আক্রমণ কি ইঙ্গিত দেয়? গত একবছর তো জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানদের নিয়ে তেমন কোনো বক্তব্যও দিইনি। অন্তরীণ সরকারের আমলে জাশি বিরোধিতার জন্য সরকারের ভেতরে কোণঠাসা করা হয়েছে। আমি নিজের জীবন ও সম্মান বাঁচাতে চুপ করে গিয়েছি। কিন্তু, ব্যক্তি আক্রমণ ও গালিবাজির রাজনীতি কেন থামছে না?
মাহফুজ লিখেন, আমি গত ৬ মাস কোনো দায়িত্বেও নাই, এমপি ও না, নেতাও না। কিন্তু, এ জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানের নিশানা কেন ব্যক্তি মাহফুজ বারবার হচ্ছে? শিবিরের বট এবং একটিভিস্টরা বারবার আমার ফাঁসির দাবি তুলছেন। মৃত্যুকামনা করছেন। একবার প্রতীকী জবাইও করেছেন। হত্যাযোগ্য করার লেভেল অনেক আগেই পার করেছেন। এনসিপি-উগ্র ডানেরাও এরকমই বাসনা রাখে বলেও প্রতীয়মান হচ্ছে।
সাবেক এই উপদেষ্টা লিখেন, জুলাই ধ্বংসের হোতা মাহফুজ আলম বলে আপনারা আমাকে অনেক শক্তিশালী বানাচ্ছেন। জুলাই এক ব্যক্তির খেলনা না যে, একজন ধ্বংস করে ফেলবে! আপনারা আসলে নিজেরাই এসব বক্তব্য দিয়ে জুলাইকে খেলো/হাস্যকর বানিয়ে ফেলছেন। জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানের ব্যক্তি আক্রমণ বন্ধ হোক, এ কামনা করি। গালিবাজি আর ব্যক্তি আক্রমণ বাদ দিয়ে পলিসি, মতাদর্শ নিয়ে তর্ক করে যেন আমরা একটা বেটার বাংলাদেশ গড়তে পারি, সেদিকে চলেন মনোযোগ দিই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নওগাঁ শহরের কাঁঠালতলী-রাণীরহাট রাস্তার পাশে অবস্থিত পিএমকে’র নওগাঁ শাখা কার্যালয়ে মানবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পিএমকে’র সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মাহমুদুল হাসান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নজরুল ইসলাম, জোনাল অ্যাকাউন্টস অফিসার আলী কদর এবং জোনাল আইটি অফিসার মাসুম বিল্লাহসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা।
ক্যাম্পে আসা রোগীদের জন্য মেডিসিন, চক্ষু, চর্ম ও যৌন এবং গাইনিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। চিকিৎসাসেবার শেষে রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চোখের ড্রপ ও চশমা বিতরণ করা হয়। দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে সেবা প্রদান করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সানোয়ার হোসেন এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. নিলুফা ইয়াসমিনসহ অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল।
চিকিৎসা নিতে আসা অঞ্চলগুলোর রোগী, যেমন সান্দিরা গ্রামের আনোয়ারা, আনন্দনগরের রাশেদা ও কাঁঠালতলী পূর্ব পাড়ার মাকসুদুর রহমান জানান, পিএমকে’র এই ক্যাম্প থেকে চিকিৎসা নিয়ে তারা পূর্বে অনেক উপকৃত হয়েছেন। তাই সুচিকিৎসা এবং বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা পেয়ে এই অঞ্চলের সাধারণ ও অসহায় মানুষরা দারুণ খুশি।
পিএমকে কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তারা সবসময় সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির বৃহৎ সংস্থাগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল ডেটা অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিযোগিতায় নিয়োজিত হয়েছে। গুগল, অ্যামাজন এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানেরা বিশাল আকারের হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরি ও পরিচালনা করছে।
এটি তথাকথিত গবেষণার একটি নতুন দিক, যেখানে বলা হচ্ছে যে, এই ডেটা সেন্টারগুলো শুধু প্রযুক্তির ওপরই নয়, বরং আশপাশের পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে এর ফলে স্থানীয় এলাকার মাটির তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাতেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, এআই ডেটা সেন্টারের আশপাশের জমির তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু এলাকায় এই বৃদ্ধি ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে।
গবেষকরা এই ঘটনা ‘ডেটা হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব নামকরণ করেছেন, যা শহরের ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের অনুরূপ, যেখানে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামের তুলনায় বেশি থাকে।
এআই ডেটা সেন্টারগুলো কী এবং কেন এত বিদ্যুৎ খরচ হয়?
চ্যাটজিপিটি, জেমিনি বা ক্লডের মতো এআই ব্যবহারের সময়, ব্যবহারকারীর অনুরোধগুলো ডেটা সেন্টারে চলে যায়। এই ডেটা সেন্টারগুলো হলো বিশাল আকারের সার্ভারভিত্তিক কম্পিউটারের কেন্দ্র।
এই সার্ভারগুলো ২৪ ঘণ্টা কার্যকর থাকে। এআই মডেল চালাতে শক্তিশালী চিপসগুলো ব্যবহার করা হয়, যা একই সঙ্গে হাজার হাজার হিসাব করতে পারে। ফলে সাধারণ ইন্টারনেট সার্ভারের তুলনায় এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা অনেক বেশি হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের ডেটা সেন্টারগুলো প্রায় ৪১৫ টেরাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে, যা বৈশ্বিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ১.৫ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে এই ব্যবহারের হার বছরে গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৯৪৫ টেরাওয়াট ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে।
হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার, কী?
সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টারগুলোকে হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার বলা হয়। এগুলো সাধারণত বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো তৈরি করে। একটি হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারে সাধারণত অন্তত পাঁচ হাজার সার্ভার থাকে এবং এটি কমপক্ষে দশ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে থাকে। এ ধরনের একটি কেন্দ্র চালাতে ১০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাগে। এই ব্যবহৃত বিদ্যুৎ দিয়ে কয়েক লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব।
তাপ ও পানির ব্যাপক ব্যবহার
এত বেশি বিদ্যুতের ব্যবহার হওয়ায় প্রচুর তাপ তৈরি হয়। এই তাপ নিয়ন্ত্রণে উন্নত কুলিং বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, যেখানে বিপুল পরিমাণ পানি লাগে। যুক্তরাজ্য সরকারের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ডেটা সেন্টার বছরে প্রায় ২৫০ কোটি লিটার পানি ব্যবহার করতে পারে। এই পানি দিয়ে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের এক বছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের দ্রুত বৃদ্ধি
২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিশ্বে ১১ হাজার ৬০০টির বেশি ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ডেটা সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে ৪ হাজার ৩০০টির বেশি কেন্দ্র আছে। ইউরোপে যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ায় চীন ও ভারত দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউড পরিষেবার ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২১ সালের পর থেকে বিশ্বে হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৭০০ থেকে বেড়ে প্রায় ১,৩০০-এর বেশি হয়েছে।
ডেটা সেন্টারের ফলে স্থানীয় উষ্ণতা
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণার সিদ্ধান্তে দেখা গেছে যে, একটি এআই ডেটা সেন্টার চালু হওয়ার পর আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা গড়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এই প্রভাব প্রায় দশ কিলোমিটার পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে। গবেষকরা নাসার স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে ২০০৪ থেকে ২০২৪ বছরের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রার বিশ্লেষণ করেছেন। তারা ১১ হাজারেরও বেশি এআই ডেটা সেন্টারের অবস্থান মিলিয়ে দেখেছেন এবং ছয় হাজারের বেশি কেন্দ্রের প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। ফলস্বরূপ দেখা গেছে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ০.৩ ডিগ্রি থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, দশ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে ভুগতে পারেন।
পরিবেশ ও জীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
গবেষকদের মতে, এই 'ডেটা হিট আইল্যান্ড' প্রভাব স্থানীয় পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে, পানির সংকটের ফলে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে বিশাল বিনিয়োগ
বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে চারটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি- মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট এবং মেটা মিলিয়ে ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোতে প্রায় ৫.৩ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-মেটার ২৭ বিলিয়ন ডলারের হাইপেরিয়ন ক্যাম্পাস, মাইক্রোসফটের ২০ বিলিয়ন ডলারের ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ, অ্যামাজনের ২৫ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং গুগলের ১৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ডেটা সেন্টার প্রকল্প। এছাড়াও রয়েছে ওরাকল এবং ওপেনএআইয়ের বৃহৎ এআই সুপারক্লাস্টার প্রকল্প।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ