ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান সরাসরি নাকচ করল ট্রাম্পের দাবি


ইরান সরাসরি নাকচ করল ট্রাম্পের দাবি

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে তেহরান বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার কোনো ইচ্ছা বা পরিকল্পনা তাদের নেই এবং এমন কূটনীতি তাদের স্বভাববিরুদ্ধ।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের সূত্রমতে, সোমবার দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নেই। ইরান বরং দাবি করেছে, ওয়াশিংটন অনেকবার আলোচনা করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে দুই দেশের মধ্যে সক্রিয় আলোচনা চলছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের সেই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনুর ৬ দফা দাবি

এদিকে, গত দুই দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে এবং কোনো পক্ষের থেকেই নতুন করে হামলার খবর পাওয়া যায়নি। সামরিক বিরতির ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে এবং নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী নিয়ে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং এটি এখনো সব ধরনের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে যে, সামরিক পদক্ষেপের পথ খোলা রেখেই কূটনীতিকে আপাতত কিছুটা সময় দিতে চান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সামরিক অভিযান বর্তমানে স্থগিত রয়েছে এবং আঞ্চলিক মিত্ররাও এই বিরতির সময়ে কোনো নতুন ইরানি হামলা সম্পর্কে জানাননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বছরের পর বছর শান্ত থাকার পর কেন আবারও সৌদির সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছে হুতিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ এম


বছরের পর বছর শান্ত থাকার পর কেন আবারও সৌদির সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছে হুতিরা

ইয়েমেনের যুদ্ধ যেন শেষ হয়ে যাচ্ছিল না, বরং এটি থমকে ছিল। দীর্ঘ চার বছর ধরে সৌদি আরব এবং ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছিল। তবে সংঘাতের মূল কারণগুলো কখনোই সমাধান হয়নি। তেল সম্পদের ভাগাভাগি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ বাড়াচ্ছিল। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত পুরো পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। দুই চিরবৈরী দেশের উত্তেজনার আঁচ এবার ইয়েমেনেও লেগেছে। ফলস্বরূপ, বছরের পর বছর শান্ত থাকার পর আবারও সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন এক সর্বনাশা যুদ্ধের ঝুঁকি নিচ্ছে হুতিরা।

বিশ্লেষকরা মত দেন যে, হুতিদের কাছে যেকোনো সমস্যার একটাই সমাধান—যুদ্ধ। তারা মনে করছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইয়েমেনের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হবে এবং কাঙ্ক্ষিত তেল সম্পদের ওপর আধিপত্য বাড়বে। অপরদিকে, নানা সংকটে জর্জরিত সৌদি আরব শান্তি বজায় রাখার জন্য অর্থ ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু হুতি নেতা আবদুলমালিক আল-হুতি এক ভাষণে পরিষ্কার জানিয়েছেন, তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। পাল্টা জবাবে, সৌদি রাষ্ট্রদূত হুতিদের বিরুদ্ধে ইরান-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন।

হুতিরা অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে হামলার সময় বেছে নিয়েছে। মার্কিন-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায়, সৌদি আরব এখন পুরোপুরি লোহিত সাগরের ওপর নির্ভরশীল। ঠিক এই বৃহৎ সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়েছে হুতিরা। সম্প্রতি, তারা সৌদির দিকে জোরালো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি লোহিত সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জবাবে, বাধ্য হয়ে সৌদি জোট হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে।

এটি বলা যেতে পারে যে, ২০২৩ সালের শেষে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল বিবদমান এই দুই পক্ষ। কিন্তু গাজা যুদ্ধ সব হিসাব পাল্টে দেয়। এরপর ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে হুতিদের 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে ঘোষণা করেন এবং চাপ বাড়ান।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ইরানি ফ্লাইট। প্রায় এক বছর পর সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান নামার চেষ্টা করলে, অস্ত্র বহনের অভিযোগে সৌদি জোট সেখানে বিমান হামলা চালিয়ে ফ্লাইটটিকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য করে। এর পরপরই লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে অবরোধের ডাক দেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। এভাবে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ শুরু হয়।

ইয়েমেন আবারও পুরোদস্তুর যুদ্ধে জড়াবে কি না, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের ওপর। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ২৩ জুলাই, কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করেছেন যে, সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত রাখলে হুতিদের চরম ‘সামরিক শাস্তি’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া সেই ৩২ ডিসি যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ এম


বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া সেই ৩২ ডিসি যারা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে জনস্বার্থের জন্য তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, তারা অবসরজনিত সকল সুবিধা পাবেন এবং এ আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কাজ করছিলেন এবং প্রত্যেকের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকারের জনস্বার্থে তাদের অবসরে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তাই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

অবসরে যাওয়া ৩২ কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ে যারা যেসব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন সেসব জেলায় তাদের নামগুলো হলো— রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাস, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর মো. ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. সাহেদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙ্গামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, নওগাঁর মো. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নূরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মো. দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর এবং চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান।

সরকারি সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব কর্মকর্তা তাদের নিজ নিজ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাজ করেছেন। প্রশাসনিক সংস্কার এবং ওই নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উল্লেখ করা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। নির্বাচনের পূর্ব রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগ, ভোটগ্রহণে অনিয়ম, বিরোধী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো বিভিন্ন অভিযোগ দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তবে সে সময় নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে বিজয়ী হয় আর প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একটি মসজিদ ও জাপানের দোলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ এম


একটি মসজিদ ও জাপানের দোলাচল

টোকিও থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত দক্ষিণের শান্ত ও স্নিগ্ধ উপকূলীয় শহর ফুজিসাওয়া। চারদিকে সবুজে ঘেরা একটি সাধারণ ঘাসের মাঠ আজ টক অব দ্য টাউন হয়ে উঠেছে। কারণ, খুব শীঘ্রই এই জায়গাতেই গড়ে উঠতে যাচ্ছে শহরটির ইতিহাসের প্রথম মসজিদ। তবে, এই ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিনের বাসিন্দা নোরিকো ইজুমিজাওয়া নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের সমাজ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে আমি বেশ উদ্বিগ্ন।" ফুজিসাওয়ায় ইসলামিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের মাঝে আশা, ভয়, ক্ষোভ ও গ্রহণযোগ্যতার এক অদ্ভুত দোলাচল সৃষ্টি করেছে। জাপানের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগণের সংখ্যার সাথে তীব্র শ্রমসংকটের সংকটের মুখে অভিবাসনের বিষয়টি দিন দিন অনিবার্য হয়ে উঠছে, তবে সামাজিক পরিবর্তনের এই ঢেউ স্থানীয়দের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঐতিহ্যগতভাবে, অভিবাসন নিয়ে জাপান কঠোর ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হলেও, কাজের প্রয়োজনের জন্য এখন দেশটি বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের মানুষের আগমন ঘটছে দেশটিতে। ফুজিসাওয়ার মতো জনপদগুলোতে চলা এই বিতর্কটি মূলত জাপানিদের আত্মপরিচয়ের গভীরে আঘাত হানছে। ইজুমিজাওয়ার মতে, আমেরিকা ও ইউরোপের মেরুকরণমূলক অভিবাসন বিতর্কও তাদের মনে এই অস্বস্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনের সামনে মসজিদ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এই প্রস্তাবিত নির্মাণের প্রতিবাদ জানান। কেউ কেউ যুক্তি দেখান যে, কাছাকাছি অবস্থিত প্রাচীন শিন্তো মন্দিরের তুলনায় বিশাল আকৃতির মসজিদ নির্মাণ ঐতিহ্যের প্রতি এক ধরনের অসম্মান। একইসঙ্গে, জাপানি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগও উঠছে। বেশ কিছু মসজিদ অবমাননাকর ফোন কল ও ইমেলের মুখোমুখি হয়েছে, যার প্রতিবাদে বর্ণবাদবিরোধী গ্রুপগুলো পাল্টা সমাবেশ করেছে।

তবুও, শহরের বাসিন্দাদের বিরোধিতা এবং সমর্থন উভয় সুরে শোনা যাচ্ছে। মসজিদ নির্মাণের নির্ধারিত সাইটের ঠিক বিপরীত দিকের একটি কফি শপের ব্যবস্থাপক হিরোকি সুজুকা বলেন, "আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধীও নই, আবার প্রবল সমর্থকও নই।" তিনি বলেন, "আমার মতে, প্রথম কাজ হলো তাদের সম্পর্কে জানা, ইসলাম ধর্ম ও তাদের মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।" খোলামেলা মন এবং একে অপরকে বোঝার ইচ্ছাই এই ব্যাপারের চাবিকাঠি।

জাপানে মুসলমান হিসেবে জীবন কাটানোর অভিজ্ঞতা ভূতপূর্ব বৈচিত্র্যময়। প্রায় ৩৯ বছর আগে শ্রীলঙ্কা থেকে ওসাকায় পাড়ি জমান ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহিদিন। তাঁর মতে, আগের তুলনায় স্থানীয় মানুষ এখন অনেক বেশি প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। অনলাইনে কিংবা সরাসরি মুসলমানদের লক্ষ্য করে কটু মন্তব্য ছুড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপান ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো অবমাননাকর মন্তব্য এবং মসজিদে এসে চিৎকার করে গালিগালাজ করার ঘটনাও ঘটে।

তবে, ওসাকার স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত যাতায়াতকারী মহিদিন কখনো নিজের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করেন না। দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্কের পরও সাম্প্রতিক সময়ে এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন তার চোখে পড়েছে। তবে, এর পেছনে উভয় পক্ষেরই কিছু দায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, "এতদিন তারা কেবল কাজের পেছনেই ছুটেছেন এবং স্থানীয় সমাজে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে বা একীভূত হতে যথেষ্ট প্রচেষ্টা চালাননি।" ভবিষ্যতে সংলাপ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, সাইতামা প্রিফেকচারের ইয়াসিও মসজিদের প্রতিনিধি শাকিল মোহাম্মদ গত এক দশক ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। পাকিস্তান থেকে জাপানে আসার পর তিনি প্রায় ২৬ বছর ধরে নির্মাণ খাতে সুপারভাইজর হিসেবে কাজ করছেন এবং সাবলীল জাপানি ভাষায় কথা বলেন। তিনি মনে করেন, জাপানের নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নিয়ম মাফিক আবর্জনা ফেলা, পার্কিং আইন অনুসরণ করা এবং বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করা সহ সাধারণ শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রতিটি অভিবাসীর দায়িত্ব।

জাপান যখন এক বিরাট জনমিতিক পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিচয় টিকিয়ে রাখার লড়াই চালাচ্ছে, তখন এই সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি ও স্থানীয় মিলিয়ে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, যা ২০১৯ সালে ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার। একইসঙ্গে ২০২৩ সালে জাপানের সামগ্রিক বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা চার মিলিয়ন ছাড়িয়েছে, তবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যা প্রায় দশ লাখ কমে গেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা ঐতিহাসিকভাবে জাপানকে অভিবাসী দেশ হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তারা অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদি ভিসার ওপর বেশি জোর দিয়ে থাকেন। তবে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকার কঠোর রক্ষণশীল নীতি বজায় রেখে গত জুন মাসে প্রায় অর্ধশত বছর পর বিদেশি নাগরিকদের ভিসার ফি পাঁচগুণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তাছাড়া অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের মোকাবেলায় ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির জনবল বাড়ানো এবং বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নতুন সীমানা নির্ধারণের পরিকল্পনা চলছে।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ কেন কাশ্মীরে বই জব্দের অভিযান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ এম


হঠাৎ কেন কাশ্মীরে বই জব্দের অভিযান?

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লাইব্রেরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযানের সূচনা হয়েছে। নয়াদিল্লি কর্তৃক সরাসরি শাসিত এই অঞ্চলে 'রাষ্ট্রবিরোধী' বা 'সন্ত্রাসবাদে মদদ জোগায়' এমন অভিযোগে সমস্ত সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি থেকে বই এবং ডিজিটাল আর্কাইভ জব্দের নির্দেশ স্থানীয় প্রশাসন দিয়েছে। এ কঠোর পদক্ষেপের কারণে শিক্ষাঙ্গন তথা বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পণ্ডিত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কাশ্মীরের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং ঐতিহাসিক সত্যকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইব্রেরি ও শিক্ষাসংস্থাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। নির্দেশনায় লাইব্রেরি ও লার্নিং রিসোর্স সেন্টারগুলোতে থাকা বই, জার্নাল, সাময়িকী এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর ওপর বহুমুখী নিরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত প্রকাশনায় চরমপন্থা, সহিংসতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ বা ভারতবিরোধী আদর্শ প্রচার করা হয়, তা লাইব্রেরি থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পরিপন্থী।

এই শুদ্ধি অভিযানের শুরু হয় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কিছু নেতার আপত্তির পর। তারা 'সমগ্র শিক্ষা' প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত দুটি বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি তোলে। বইগুলো হচ্ছে হিলাল আহমেদ ও সন্তোষ মিনা রচিত 'পারসোনালিটিস অ্যান্ড লিজেন্ডস অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর' এবং ড. সুশান্ত গিরি রচিত 'গ্রেট পারসোনালিটিস অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর'। বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা জানান, বইগুলোতে 'ভারত-অধ্যুষিত কাশ্মীর' শব্দগুচ্ছ ব্যবহৃত হয়েছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা তরুণদের মনে বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণার বীজ বপনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

তীব্র প্রতিবাদের মুখে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসনিক প্রধান মনোজ সিনহা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট লেখক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে ওই দুটি প্রকাশনা সংস্থাকেও কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের পূর্বে প্রকাশিত অন্যান্য উপাদানও প্রচলন থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীর উপত্যকায় ইতিহাস ও চিন্তা নিয়ন্ত্রণের একটি চলমান প্রসেসের অংশ। এর আগে গত বছরে বেশ কিছু প্রথিতযশা লেখকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক গ্রন্থ ও গবেষণা প্রবন্ধ নিষিদ্ধ হয়েছিল। নতুন এই দমনপীড়নের কারণে সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের মনে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে, যার ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ইসলামি সাহিত্য বিষয়ক বই সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছেন।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%