বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪১ পি.এম
উপমহাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা, সাহিত্যিক এবং কেশবপুরের গর্বিত সন্তান ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের কেশবপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা তাঁর জীবন, কর্ম, অভিনয়জীবন এবং টেকনাফের মাথিনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রেমকাহিনি নিয়ে আলোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে অবস্থিত যশোরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষ। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহসম্পাদক মানব মণ্ডল। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনীগ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার।
ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান রনিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ধীরাজ ভট্টাচার্য ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। দেশভাগের আগে তিনি পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। কর্মজীবনের শুরুতে পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন। পরে চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। অভিনয়ে তিনি নায়ক ও খলনায়ক—দুই চরিত্রেই দর্শকের প্রশংসা অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যখন পুলিশ ছিলাম' ও 'যখন নায়ক ছিলাম'।
বক্তারা ধীরাজ ভট্টাচার্য ও টেকনাফের মাথিনের প্রেমকাহিনির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পুলিশে চাকরিরত অবস্থায় বদলি হয়ে তিনি চট্টগ্রামে যান। পরে দায়িত্ব পান টেকনাফে। সেখানে মগ রাজার কন্যা মাথিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাথিনকে বিয়ে না করে তিনি কলকাতায় ফিরে যান। কথিত আছে, প্রিয় মানুষকে হারিয়ে মাথিন টেকনাফ থানার একটি কূপের পাশে অনশন শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তী সময়ে কূপটি 'মাথিনের কূপ' নামে পরিচিতি লাভ করে। এই প্রেমকাহিনি বাংলা সাহিত্যের লাইলী-মজনু ও শিরি-ফরহাদের প্রেমকাহিনির সঙ্গে তুলনা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ধীরাজ ভট্টাচার্য শুধুমাত্র একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক এবং বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মানুষ। পাঁজিয়ার মতো একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর জন্মভূমিতে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে এই গুণী ব্যক্তিত্বের জীবন ও অবদান তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে। আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল, যা এসেছে, অনেক কানাডিয়ান সম্ভবত এমনটাই প্রত্যাশা করেছিলেন। কারণ, ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সহযোগীদের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত শুল্কের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড বুধবার সকালে মন্তব্য করেন, ‘আমি আনন্দে রাস্তায় ডিগবাজি খাচ্ছিলাম।’
তিনি এই ফলাফলকে ‘কানাডার জন্য একটি বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার রাতে ঘোষিত এই ফলাফল হয়তো খুব শিগগিরই কানাডাকে ওই শুল্ক থেকে মুক্তি দেবে না। তবে, বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো অটোয়ার জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যাতে তারা একটি ভালো সমঝোতা করতে পারে, এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিজ ও চাক শুমার, যাদের রাজনৈতিক প্রভাব এখন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কানাডার ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবুও, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ শুল্কনীতিতে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে নাও পারে। কারণ, ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত শুল্কের বেশিরভাগই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে জয় লাভ করেছে। এই জয়ের ফলে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি অংশ জুড়ে তারা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
যদিও জানুয়ারিতে কংগ্রেসে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত, তবুও একাধিক নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ফলাফল এখনও জানা বাকি রয়েছে। ৪৩৫টি প্রতিনিধি পরিষদ আসনের মধ্যে বেশিরভাগের ফল বুধবার ঘোষণা করা হলেও, প্রায় ২৪টি আসনের ফলাফল এখনো ঝুলে রয়েছে।
এই আসনগুলোর মধ্যে টেনেসি, লুইজিয়ানা এবং ভার্জিনিয়ার কিছু আসন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে ভোটের ব্যবধান এতটাই কম যে বিজয়ী নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং কলোরাডোর কিছু নির্বাচনী ডিসট্রিক্টের ফলাফলও এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
আলাস্কায় ফলাফল জানতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে; এটি দেশটির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। এই সম্ভাব্য বিলম্বের একটি কারণ হলো আলাস্কায় ‘র্যাংকড-চয়েস’ (পছন্দক্রমভিত্তিক) ব্যালট ব্যবস্থা, যেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দের ক্রমানুসারে একাধিক প্রার্থীকে নির্বাচন করতে পারেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়েছে। তদন্তের আওতায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদনটি দাখিল করা হবে। আদালত নতুন তারিখ হিসেবে আগামী ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদনটি দাখিল করতে ব্যর্থ হন। এই কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এটি ১১ বারের মতো তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সময় দেওয়া হলো। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক ওয়াজেদ আলী খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় আলাদা আলাদা ভাবে বসবাস করতেন। সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়ে তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সে সময় দু-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের মা-বাবা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের শশীধরপুর-স্বরূপপুর সড়কে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে রোকন হোসেন (১৮) নামে এক যুবক তালগাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা। নিহত যুবক উপজেলার তারাগুনিয়া মধ্যপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন সকালে রোকন নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে শশীধরপুর হয়ে স্বরূপপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। সড়কের একটি বাঁক ঘোরানোর সময় দ্রুতগতির কারণে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা একটি তালগাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রোকন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ