ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লোহিত সাগরে টোল আরোপের পরিকল্পনা নেই বলে জানাল হুথি


লোহিত সাগরে টোল আরোপের পরিকল্পনা নেই বলে জানাল হুথি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনও ধরনের টোল বা ফি আদায়ের পরিকল্পনা নেই। তাদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন নেই।

শনিবার, হুথি-নিয়ন্ত্রিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে এটি জানায়। সংস্থাটি বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল তদারকির কাজ করে থাকে। বিবৃতিতে বলা হয় যে, তারা পরিচালিত ‘সেফ ট্রানজিট সার্ভিস’ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক এবং বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জাহাজ চলাচলের জন্য অর্থ দাবি করে, তবে তারা ইয়েমেন বা হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো অর্থ পরিশোধ না করে এবং তাদের সঙ্গে কোনও তথ্য শেয়ার না করে।

হুথিদের এই বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি রয়টার্সের বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এসেছে। আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। এক সপ্তাহ আগে সংগঠনটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ঢাকা জেলা আ.লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাইয়ের শুরুতে তেহরান সফরকালে হুথি প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমনকি ফি আদায়ের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনে ইরানি উপদেষ্টারা সাহায্য করছেন বলেও জানা যায়।

বাব আল-মান্দেব প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যক সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এ পথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তেল, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য টোল আরোপ করা হয়, তবে তা ইরানের হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপের নীতির অনুরূপ হতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ইয়েমেনের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেন যে, হুথিরা ‘ইরানি মডেল’ অনুসরণ করে সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন

বিশ্লেষকদের মধ্যেও যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে টোল আরোপ করা হতো, তবে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব সৌদি আরবের ওপর পড়তে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন অব্যাহত থাকায় সৌদি আরব সম্প্রতি তেল রফতানির বিকল্প পথ হিসেবে বাব আল-মান্দেবের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে।

এ বছরের শুরুতে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সাময়িকভাবে তারা এই হামলা বন্ধ রাখলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে আবারো তাদের হুমকি বাড়তে শুরু করেছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ একটি প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালের মধ্যে হুথিরা শিপিং এজেন্টদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করে থাকতে পারে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, নিরাপত্তার ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও ২০২৩ সালের আগের স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসেনি। গত সপ্তাহে লোহিত সাগরে নতুন নিরাপত্তা হুমকি দেখা দেওয়ার পর সৌদি আরব ১৪টি দেশের সমন্বয়ে একটি সামুদ্রিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য হল বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার করা। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স

আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওভারটেক করতে গিয়ে পিকআপে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


ওভারটেক করতে গিয়ে পিকআপে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৪

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যকার মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে চারজন নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন চালকও উল্লেখযোগ্য। এই চারজন নিহত ব্যক্তি পিকআপ ভ্যানের যাত্রী ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে সবক জনকেই মাছের রেনুপোনা ব্যবসায়ী ও পরিবহনকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার সময় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের কাহালু উপজেলার বউ-বাজার এলাকায় অত্যন্ত দুর্ঘটনাপূর্ণ এই ঘটনাটি ঘটে।

এই মৃতদের সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তাঁদের সবকজনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত। তবে, দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম এবং পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় পুলিশ এবং সূত্রগুলোর কাছ থেকে জানা যায়, শনিবার সকালে পিকআপ ভ্যানটি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা থেকে মাছের রেনুপোনা বিক্রি করে বগুড়া শহরের দিকে ফিরছিল। একসময় বউ-বাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর একটি শ্যামলী পরিবহনের বাসকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সংঘর্ষে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং চালকসহ চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পর ঘটনার ঘাতক ট্রাকের চালক এবং তার সহকারী পালিয়ে যান। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কাহালু থানায় নিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রফিকুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল খুব দ্রুত ঘটনাস্থল গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পরে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

কাহালু থানা পুলিশ জানাচ্ছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ঘটনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ‘খেইবার শেকান’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২০ পি.এম


ইরানের ‘খেইবার শেকান’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আতঙ্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত যখন ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে, তখন এই পরিস্থিতিতে নতুন নতুন সামরিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রের সক্ষমতা সামনে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের তৈরি ‘খেইবার শেকান’ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মার্কিন সামরিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশিত দাবির ভিত্তিতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির কৌশলগত সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এটি যথেষ্ট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি, মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’র প্রতিবেদনে একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার কৌশলে পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে খেইবার শেকানসহ বিভিন্ন ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে তেহরান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হিসাবে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি গমন করার সময় গতিপথ পরিবর্তন করার সক্ষমতা রাখে, যা প্রচলিত ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠছে।

কী এই খেইবার শেকান?

ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ক্ষেপণাস্ত্র বহরে ২০২২ সালে খেইবার শেকান যুক্ত হয়েছিল। এটি কঠিন জ্বালানিচালিত স্বল্প থেকে মধ্যপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। বিভিন্ন পশ্চিমা ও প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নামের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাসের একটি প্রসঙ্গ রয়েছে। ‘খেইবার’ নামটি সৌদি আরবের ঐতিহাসিক খাইবর অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। ইরানের ভাষ্যমতে, নামটি ঐতিহাসিক সামরিক বিজয়ের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

খেইবার শেকানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর কঠিন জ্বালানি প্রযুক্তি। তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই ধরনের অস্ত্র দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব এবং দীর্ঘ সময় ধরেও প্রস্তুত অবস্থায় রাখা অনেক বেশি সহজ। এ কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলোকে মোতায়েন ও দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করার সুবিধা রয়েছে।

কেন মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ?

ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগোয়। এজন্য প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাডারের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত করে সেটিকে এ সময়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারে।

কিন্তু কিছু আধুনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শেষ পর্যায়ে গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন বা কৌশলগত ম্যানুভার করতে সক্ষম। খেইবার শেকানের ক্ষেত্রেও এমন একটি সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা এবং কিছু প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক।

মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরান কখনো কখনো ড্রোনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। এতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত এবং প্রতিহত করার চাপ সৃষ্টি হয়।

কঠিন জ্বালানির সুবিধা

খেইবার শেকানের কঠিন জ্বালানি প্রযুক্তি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সুবিধা তৈরি করেছে। তরল জ্বালানি ব্যবহারকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয়, যা প্রস্তুতির সময় বৃদ্ধি করে এবং সরঞ্জাম ও জনবলের প্রয়োজনও বেশি হয়।

অন্যদিকে, কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। একইসাথে এগুলো মোবাইল লঞ্চারের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করাও সহজ। ফলে শত্রুপক্ষের গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে অবস্থান পরিবর্তন করার সুযোগ বাড়ে।

খরচের লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে শুধুমাত্র সামরিক সক্ষমতার দিক দিয়ে নয়, অর্থনৈতিক হিসাবও একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের দাম অনেক বেশি হতে পারে।

প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে অপেক্ষাকৃত কম খরচের আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

চীনা প্রযুক্তি নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চীনা প্রযুক্তি বা স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে পশ্চিমা মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে ইরানের খেইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা সরাসরি চীনের বেইদু ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল—এমন দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।

একইভাবে ইরানকে চীন থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব অস্ত্র ইরানে পৌঁছানোর যে দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে, সেগুলোর অনেকটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন সমীকরণ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের পেছনে অতিরিক্ত একটি কারণ হলো দেশটির দীর্ঘদিনের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত ব্যবহার ইরানের হামলার কৌশলকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোতে প্যাট্রিয়ট, থাডসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। কিন্তু প্রতিটি হামলা প্রতিহত করতে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে মজুদ ও অর্থ—দুই দিক থেকেই চাপ বাড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে, খেইবার শেকান শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার ব্যয়ের হিসাব পরিবর্তন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবেও অবহিত হচ্ছে। তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খেলাধুলায় এবার মেধাই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি: কৃষিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


খেলাধুলায় এবার মেধাই হবে মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি: কৃষিমন্ত্রী

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ জানিয়েছেন, খেলাধুলাকে কখনোই রাজনৈতিক বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। তিনি আরও বলেছেন, বিগত সরকারের সময় খেলাধুলাকে দলীয়করণ করার ঘটনা ঘটলে বর্তমানে সরকার সেই পথে হাঁটবে না; ক্রীড়াঙ্গনে কেবল মেধার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনু্ষ্ঠিত জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া কুমিল্লা জেলা দলকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি কুমিল্লায় একটি আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের ঘোষণাও করেন।

মন্ত্রী আমিন উর রশীদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘খেলাধুলা সব দল ও মতের ঊর্ধ্বে। অতীতে খেলাধুলাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করবে না। বরং মেধাবী খেলোয়াড় তৈরিতে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।’

জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই অর্জন পুরো কুমিল্লাবাসীর জন্য গর্বের। খেলোয়াড়দের জন্য যদি আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে।’

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের খেলার মাঠগুলোর বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে, জেলা স্টেডিয়ামের বাইরেও অনেক বড় বড় মাঠ রয়েছে। তবে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী থাকছে না। এসব মাঠের উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোজি আক্তার, এ কে এম কামরুজ্জামান, মো. কবির খান, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এমদাদুল হক এমদু এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুল হুদা জেনু।

অনুষ্ঠানে জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কুমিল্লা জেলা দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কলাকুশলীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ ছাড়া ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল ও কারাতেসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়, কোচ, ক্রীড়া সংগঠক ও অভিভাবকরা সংবর্ধনায় অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পে গৃহহীনদের সহায়তায় বিশেষ বাড়ি ভাড়া আইন আনল ভেনেজুয়েলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


ভূমিকম্পে গৃহহীনদের সহায়তায় বিশেষ বাড়ি ভাড়া আইন আনল ভেনেজুয়েলা

গত মাসের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের কারণে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ার পর, দেশটিতে বাড়ি ভাড়া সহজতর করার লক্ষ্যে একটি নতুন আবাসন আইন শুক্রবার সর্বসম্মতিভাবে অনুমোদন করেছে ভেনেজুয়েলার আইনসভা।

গত ২৪ জুন উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পে ৫ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেন এবং শত শত ভবন ধসে পড়ে। বর্তমানে ওই এলাকায় ২৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ গৃহহীন অবস্থায় জীবন যাপন করছেন।

এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

নতুন আইনটি সাবেক বামপন্থি চাভিস্তা প্রশাসনের আমলে প্রণীত বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো বাতিল করছে।

জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ‘মানুষ যাতে নিজেদের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভয় অনুভব না করেন, তা নিশ্চিত করাই এই আইনের লক্ষ্য।’

তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অতিরিক্ত কঠোর ও পশ্চাৎমুখী বিধিনিষেধের কারণে ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে প্রায় ২ লাখ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না।

আইনপ্রণেতা আমেরিকা পেরেজ বলেন, ‘হাজার হাজার পরিবার তাদের বাসস্থান থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই আইন সরাসরি সেই প্রয়োজন পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে।’

এখন আইনটি কার্যকর করার জন্য অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের অনুমোদন প্রয়োজন।

তিনি বছরের শেষ নাগাদ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৪ হাজার বাড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকার আশা করছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি হবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশনিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার লা গুয়াইরায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেছে। সেনাবাহিনী এলাকা ঘিরে রাখার পর বিস্ফোরক ব্যবহার করে কয়েকটি ভবন ধ্বংস করা হয়।

ভবন ধ্বংসের পর শুক্রবার উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে আবারও অভিযান শুরু করেন।

যদিও সরকার কতজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, সে সংখ্যা প্রকাশ করেনি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিখোঁজের সংখ্যা ১০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকে ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মধ্যে দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%