১২:১৩ পি.এম
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনও ধরনের টোল বা ফি আদায়ের পরিকল্পনা নেই। তাদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন নেই।
শনিবার, হুথি-নিয়ন্ত্রিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে এটি জানায়। সংস্থাটি বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল তদারকির কাজ করে থাকে। বিবৃতিতে বলা হয় যে, তারা পরিচালিত ‘সেফ ট্রানজিট সার্ভিস’ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক এবং বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জাহাজ চলাচলের জন্য অর্থ দাবি করে, তবে তারা ইয়েমেন বা হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো অর্থ পরিশোধ না করে এবং তাদের সঙ্গে কোনও তথ্য শেয়ার না করে।
হুথিদের এই বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি রয়টার্সের বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এসেছে। আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। এক সপ্তাহ আগে সংগঠনটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় ঢাকা জেলা আ.লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তার
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাইয়ের শুরুতে তেহরান সফরকালে হুথি প্রতিনিধিরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমনকি ফি আদায়ের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনে ইরানি উপদেষ্টারা সাহায্য করছেন বলেও জানা যায়।
বাব আল-মান্দেব প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যক সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এ পথ দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তেল, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য টোল আরোপ করা হয়, তবে তা ইরানের হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপের নীতির অনুরূপ হতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ইয়েমেনের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেন যে, হুথিরা ‘ইরানি মডেল’ অনুসরণ করে সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন
বিশ্লেষকদের মধ্যেও যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে টোল আরোপ করা হতো, তবে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব সৌদি আরবের ওপর পড়তে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন অব্যাহত থাকায় সৌদি আরব সম্প্রতি তেল রফতানির বিকল্প পথ হিসেবে বাব আল-মান্দেবের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে।
এ বছরের শুরুতে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সাময়িকভাবে তারা এই হামলা বন্ধ রাখলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে আবারো তাদের হুমকি বাড়তে শুরু করেছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ একটি প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালের মধ্যে হুথিরা শিপিং এজেন্টদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করে থাকতে পারে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, নিরাপত্তার ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও ২০২৩ সালের আগের স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসেনি। গত সপ্তাহে লোহিত সাগরে নতুন নিরাপত্তা হুমকি দেখা দেওয়ার পর সৌদি আরব ১৪টি দেশের সমন্বয়ে একটি সামুদ্রিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য হল বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার করা। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন