০১:৫৫ পি.এম
রোববার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপরিবহন ও তেলশিল্প ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চাপ থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে। জাতিসংঘে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত মাইক ওয়াল্টজ মন্তব্য করেছেন যে, এটি প্রেসিডেন্টের জন্য ‘কিছুটা সুযোগ’ তৈরি করেছে।
‘ফক্স নিউজ সানডে’ অনুষ্ঠানে ওয়াল্টজ বলেন, মার্কিন বাহিনী ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ থাকলেও ট্রাম্প আলোচনার জন্য ‘কিছুটা সময়’ দিতে ইচ্ছুক।
এদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত করেছে। এ খবর তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে
যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি পেয়ে সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমে গেছে। লেনদেন শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ০৮ ডলারে নেমে আসে। এক পর্যায়ে এটি ৯০ ডলারের নিচে চলে যায়। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবারের আগে টানা ১৩ রাত ইরানে হামলা চালিয়ে ছিল মার্কিন বাহিনী। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। তবে, শুক্রবার ও শনিবার রাতে আর কোনো বোমা হামলা হয়নি।
ইরানের সেনাবাহিনী মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, ‘দুই রাত আগে পর্যন্ত এই হামলাগুলি চলেছিল। কিন্তু গত দুই রাত ধরে আমেরিকানরা হামলা বন্ধ রেখেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের কৌশল মূলত প্রতিশোধমূলক ছিল, তাই আমরাও আমাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান স্থগিত করেছি।’
আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’
কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়। এই সংঘাতটির প্রভাব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ছাড়িয়ে মার্কিন ঘাঁটি, আঞ্চলিক নৌপরিবহন এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলাসমূহ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
রোববার ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া খবরে জানানো হয়েছে, একটি তেলের ট্যাংকার সমুদ্রে পেতে রাখা মাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই বিরতি আবার আলোচনা পুনরায় শুরু করার আশা জাগিয়েছে। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুদে চাপ তৈরির কারণে হামলা কমার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আরো একটি সাক্ষাৎকারে, ওয়াল্টজ এ ধারণা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই। আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, এই অভিযান কার্যকরভাবে চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর যা প্রয়োজন, তার সবই রয়েছে।’
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সউদী বাহিনীর ১১০ হামলার দাবি
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগামী মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে তেহরানের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্ররা অভিযোগ করছে যে, এর লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে তিনি পুরোপুরি সমর্থন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদি তিনি তীব্র সামরিক সংঘাতে না ফিরে এটি করতে পারেন, তবে এটি ভালো হবে। কেন নয়? তবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটতেই হবে। চুক্তির মাধ্যমে হোক অথবা চুক্তি ছাড়াই, এ অপারেশন সম্পন্ন করতে হবে।’
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের অকুণ্ঠ সমর্থন
দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আরও জোরদারের পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখে দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, ট্রাম্পের সামনে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত যুদ্ধ, ঝুঁকিতে থাকা উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কার আশঙ্কাও রয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান আবার শুরু করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এখন আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমার মনে হচ্ছে তারা ক্রমেই আরও আন্তরিক হচ্ছে।’
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রোববার দাবি করেছে যে, তারা ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি সৌদি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ঘটনার একদিন আগে তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে।
আরও পড়ুন: একই পরিবারের ৫ মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ
হুথিরা জানিয়েছে, শুক্রবার রিয়াদ হুথি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালানোর পর তারা জিজান এবং ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন