০৩:৪২ এম
গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবাকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্যে প্রায় ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৭০ কোটি টাকা) বিনিয়োগের একটি বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যে ১২ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা সম্পন্ন হয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের উড়োজাহাজ বহরের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা এই বিশাল বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে প্রায় ৫৯০টি গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট (জিএসই) বিদ্যমান। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর সঙ্গে আরও ১৪৬টি অত্যাধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হবে। নতুন সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ টানার পুশব্যাক ট্রাক্টর ও টোবার, ব্যাগেজ বেল্ট লোডার, ব্যাগেজ ট্রাক্টর, যাত্রীদের ওঠানামার জন্য প্যাসেঞ্জার স্টেপ বা সিঁড়ি, গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট (জিপিইউ), এয়ার স্টার্ট ইউনিট, ক্যাটারিং ট্রাক এবং ওয়াটার ও ল্যাভাটরি সার্ভিস ট্রাক। এছাড়া র্যাম্পের স্বাভাবিক কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম আনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাণিজ্য বাধা দূর করে বাংলাদেশ-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আলোচনা
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০টি ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) চালানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এয়ারলাইন্সটি। সরকারের ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসি’-র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, শাহজালালে ইতোমধ্যে এসব গাড়ির জন্য চার্জিং অবকাঠামো স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হলে এসব ই-ভেহিকেল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রথাগত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিমানবন্দর এলাকায় কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বহর ও গন্তব্য সম্প্রসারণের তথ্য তুলে ধরে ইউএস-বাংলা জানায়, তাদের বহরে বর্তমানে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২১টি নতুন বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। খুব শিগগিরই এতে আরও ১৬টি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য যুক্ত করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইক্যুইপমেন্ট বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালসহ দেশের সার্বিক বিমানবন্দর আধুনিকায়নে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএস-বাংলা নিজেদের সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: এনআরবিসি ব্যাংক ও পারফেক্ট গ্লোবাল হেলথ-এর মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সেবায় চুক্তি স্বাক্ষর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন