ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

প্রায় ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি হলো আলোচিত ‘হ্যান্ড অব গড’ ফুটবল


প্রায় ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি হলো আলোচিত ‘হ্যান্ড অব গড’ ফুটবল

প্রায় ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি হলো ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত ফুটবলটি।

রঙচটা সেই বলটি নিলামে তোলার আগে বিশেষজ্ঞ নিলামকারী বললেন, ‘এটা সত্যিই এক অদ্বিতীয় বল। নিঃসন্দেহে এখন পর্যন্ত টিকে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল সামগ্রী।’

এটি সেই ফুটবল সম্পর্কে বলা হচ্ছে, যা দিয়ে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ অকশানে এই ফুটবল বিক্রি হয়েছে ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৪১ কোটি ৮৩ লাখ টাকারও বেশি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে প্রতিপক্ষ কিপার পিটার শিল্টনকে বোকা বানিয়ে পাঞ্চ করে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা।

আরও পড়ুন: দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে তৎপর জামায়াতসহ ১১ দল

ম্যাচ শেষে সেই গোলের বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বিখ্যাত উক্তি করেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছে কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে এবং কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’

তবে এখানেই শেষ নয়, ওই ফুটবল নিয়েই মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে ইংল্যান্ডের পাঁচ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শিল্টনকে আরেকবার পরাস্ত করেন ম্যারাডোনা। ওই গোলটি সেদিন শতাব্দির সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

যদিও ফুটবলের দাম প্রত্যাশার চেয়ে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড কম পাওয়ার কথা জানিয়েছে নিলামকারী সংস্থাটি। এই ফুটবলটি তিন দশক ধরে নিজের কাছে রেখেছিলেন সেই ম্যাচের রেফারি আলী বিন নাসের। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর তিনি অ্যাডিডাস অ্যাজটেকা বলটি সংগ্রহে রাখেন। ২০২৩ সালে এক চিঠিতে স্বাক্ষর করে নিশ্চিত করেন, ওই ম্যাচে শুধুমাত্র এই বলেই খেলা হয়েছিল।

২০২২ সালে ১.৭৪ মিলিয়ন পাউন্ডে বলটি বিক্রি করে দেন বিন নাসের। এরপর নতুন মালিক ২০২৩ সালে সেটি নিলামে তোলেন। কিন্তু সর্বনিম্ন দামও না ওঠায় ফুটবলের আর বেচাকেনা হয়নি। উল্লেখ্য, ম্যারাডোনার সেই ম্যাচে পরা জার্সি ২০২২ সালে এক নিলামে ৭.১ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল।

আরও পড়ুন: এনসিপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, দুর্বৃত্তদের হামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তরুণ নিহত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এস এম সাহান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৭ পি.এম


ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তরুণ নিহত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ২

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় সালাউদ্দিন মোল্লা (২২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা তাঁর দুই বন্ধু গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সালাউদ্দিন মোল্লা নগরকান্দা উপজেলার কুমারদিয়া গ্রামের আদম মোল্লার ছেলে।

আহতরা হলেন একই এলাকার সাব্বির শেখ (১৮) ও তামিম হোসেন (২৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে নগরকান্দা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

তারা মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন ও শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয়।

শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন মিয়া দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে।

দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৭ পি.এম


প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

বরিশালের নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার উপজেলা প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। এই সভাটি মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গৌরনদী উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীের রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।

সভাটিতে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার। গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে বিভিন্ন বক্তা বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, উপেজলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ, গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল, পৌর বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির, সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিয়া, খোন্দকার মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

এখনকার সভার শুরুতেই প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং উপস্থিত সকলকে ভার্চুয়ালে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কসবায় ১০ কেজি গাঁজা ও ১ হাজার ৪৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


কসবায় ১০ কেজি গাঁজা ও ১ হাজার ৪৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা ও ১ হাজার ৪৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৩ August) রাত ১০টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানা পুলিশের একটি দল উপজেলা কুটি ইউনিয়নের কুটি চৌমুহনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি পিকআপ গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল মান্নান নামে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এরপর রাত ১১টা ১০ মিনিটে, উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের হরিপুর এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ধৃত আসামির বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ৪৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. সাইফুল ইসলাম নামে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও সংশ্লিষ্ট মালামাল বিধি অনুযায়ী জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়:—

১. আব্দুল মান্নান, পিতা- মৃত আব্দুল জলিল, সাং- মইজদিপুর, থানা- সেনবাগ, জেলা- নোয়াখালী; বর্তমানে রৌফবাদ কলোনী, থানা- বায়েজিদ বোস্তামী, চট্টগ্রাম সিএমপি।

২. মো. শফিকুল ইসলাম, পিতা- আলী আশরাফ, সাং- হরিপুর, থানা- কসবা, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

৩. মো. সাইফুল ইসলাম, পিতা- কাদের মিয়া, সাং- খাদলা, থানা- কসবা, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দুটি, শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি এবং সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় কসবা থানায় পৃথক দুটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গতি ধীর হলেও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


গতি ধীর হলেও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। গতি ধীর হতে পারে, তবে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে।’ বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায় এবং এ জন্য সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংলাপের মাধ্যমে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের তোপের মুখে না রাখেন, তাহলে আমরা পথ হারাতে পারি। তবে সেই চাপের ভাষা ও পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কারোর সভা-সমাবেশে বাধা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন।

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি যেভাবে তৈরি করা হয়েছিল, তাতে প্রতিষ্ঠানটি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’-এর মতো হয়ে উঠতে পারত। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে তারা সংসদে ফিরবেন। তবে তাদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। কোনো ক্ষেত্রে সফল না হলে সংশোধনের জন্য সরকার উন্মুক্ত। আইন কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি পরিবর্তনযোগ্য। এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদেও সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে যৌক্তিক প্রস্তাব এলে তা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে ফিরতে চাই না। আমরা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’

একটি গুমের অভিযোগ এসেছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, তবে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তা অস্বীকার করছি না। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমাদের চিন্তা স্বচ্ছ। বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায়। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চাই।’

সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এখানে গণ–অভ্যুত্থান হয়েছে সংস্কারের জন্য, কোনো বিপ্লব হয়নি। সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করতে পারলে এ কঠিন যাত্রা সুস্থ প্রক্রিয়ার মধ্যে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি না হওয়ায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফার চেতনাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তবে তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সংস্কারের কাজে সবাইকে গঠনমূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। দূরত্ব কমাতে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঐকমত্য ছাড়া এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই সব সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় ঐক্য ও পরিচয় শক্তিশালী না হলে সংস্কার কার্যকর হবে না। বিচারক নিয়োগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক বলেন, র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে শুধু প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদ যে পথে হেঁটেছে, তার বিপরীত পথে হাঁটতে না পারলে সেই সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া যাবে না।

একই দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছিল। সেই আস্থা নষ্ট করা উচিত নয়। গণভোটের রায় জনগণ দিয়েছে এবং এই রায় বিএনপিকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ জাসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে শুধু চিকিৎসকদের দোষারোপ করে মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমিশন নিয়েও তেমন আলোচনা হচ্ছে না।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, শুধু পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হতে পারে না। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান থেকে দেশকে রক্ষা করতে গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া এবং তা মেনে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। সরকারের ঘাটতি থাকলে জনগণ তা সহজেই বুঝতে পারবে। সামগ্রিকভাবে কাজ করতে হবে এবং বাস্তবতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেও মব ভায়োলেন্স (উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক সহিংসতা) অব্যাহত রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে বিনিয়োগ আসবে না। ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক ও চর্চা সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো এখনো নিশ্চিত হয়নি। গণমাধ্যমের ওপর থাকা অদৃশ্য বাধা দূর করে সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীন করতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আইনবিষয়ক সম্পাদক এম ইকবাল হাসান বলেন, মাজারে ভাঙচুর ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হামলার ঘটনায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারগুলো বরাবরই অনীহা দেখায়।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। ভবিষ্যতের কমিশনগুলো দেশে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমান হওয়া দরকার। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার জায়গা সরকারকে তৈরি করতে হবে। নাগরিকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে তা দেখাতে হবে।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে দায়িত্বশীল বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। জনগণ স্পষ্ট ও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায়।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যমান কাঠামোতে ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন আসে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা জানান গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া সমাবেশে অনুমতি না পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর প্রত্যাশা থাকলেও বিএনপি হয়তো বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। শুরুতে তিনি বলেন, জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার বিবেচনা করেই ভোট দিয়েছে। সরকারের সামনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও জনগণের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে। তাই ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জনগণকে হতাশ না করে সকলকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%