১০:৩৯ পি.এম
রাজকীয় ক্ষমা পাওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মাঝে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়েছেন। তিনি ইতোমধ্যে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দেশের কারা বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবরটি এএফপির।
দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক বছরের সাজা ভোগের মধ্যে আট মাস সাজা খাটার পর বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত মাসে তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। ৭৬ বছর বয়সি এই রাজনীতিকের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
দেশটির কারা বিভাগ জানায়, শর্তসাপেক্ষ মুক্তির অংশ হিসেবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে একটি ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস (ইএমডি) পায়ে পরিধান করা বাধ্যবাধকতা ছিল।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
টেলিকম খাতের এই উদ্যোক্তার সাজা পার করতে বাকি ছিল এক বছরের কম, তাই গত ৩ জুন রানি সুথিদার জন্মদিন উপলক্ষে রাজক্ষমা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
আজ মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের কারা বিভাগ উল্লেখ করেছে, থাকসিনের পা থেকে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইসটি সরানো হয়েছে। কারাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিক মুক্তির নথিপত্র এবং খালাসের প্রশংসাপত্র পেয়েছেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, থাকসিন এখন আর কোনও ফৌজদারি শাস্তি, নজরদারি বা সংশ্লিষ্ট কোন শর্তের অধীনে নেই। একইভাবে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।
থাইল্যান্ডে রাজা এবং রানির জন্মদিনসহ প্রধান প্রধান রাজকীয় উৎসব উপলক্ষে নিয়মিতভাবে ভালো আচরণ করা বন্দিদের রাজকীয় ক্ষমা দেওয়া হয়। সম্পর্কিত আধুনিক থাই রাজনীতিতে থাকসিন হলো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার দ্বিতীয় মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। পরে এক দশকেরও বেশি সময় তিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে কাটান; যার সিংহভাগ অংশ ছিল দুবাইতে বসবাস করার। পরে ২০২৩ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে আসেন।
থাই গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান মাসে থাকসিন সিনাওয়াত্রা দুবাই সফরে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এই সফর কেন হবে তার কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে থাকসিনের একজন আইন প্রতিনিধির সাড়া পাওয়া যায়নি।
একবিংশ শতাব্দীতে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম হচ্ছে থাকসিনের ‘ফেউ থাই পার্টি’ এবং এর পূর্বসূরি কয়েকটি দল। সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে চারজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে এই পরিবারের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।
তবে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফেউ থাই পার্টি ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফলাফল অর্জন করে তৃতীয় স্থানে পড়ে যায়। এর ফলে থাকসিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অবিস্ময় হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন