প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি সনাতনীদের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বিতর্কিত শিরকি বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের দূর্গাপূজা নিয়ে শিরকি বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, "কোন দেবদেবী স্বর্গ থেকে আসেনি।" তাদের মতে, দেবদেবীরা মানুষেরই বানানো মূর্তি। নির্বাক এবং দুর্বল দেবদেবীরা কারো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখেনা। তারা কোন ধরনের মঙ্গল বা অমঙ্গলের মালিক নয়। আল্লাহ তায়ালা একত্ববাদ এর বিপরীতে পৌত্তলিকতা ধ্বংস করার জন্য নবীদেরকে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, সকল দেব-দেবী মিলে একটি মাছি বানাতেও সক্ষম নয়। অন্য আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুর উপাসনা করে, তারা এবং দেব-দেবীরা জাহান্নামের ইন্দনে পরিণত হবে। নেতৃবৃন্দ প্রেসিডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এমপিদের ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এক বিবৃতিতে জানান, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের অত্যন্ত সতর্কতার সহিত দায়িত্বশীল বক্তব্য দেয়া উচিত। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সম্পূর্ণ তাওহীদি বিশ্বাস ও কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট নবী-রাসূলদের ব্যাপারে জঘন্য মিথ্যাচার করেছেন। "তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে যখন অন্যায় নেমে এসেছিল, তখন দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। দেবদেবীরাই পৃথিবী থেকে অন্যায় দূর করেছেন, নাউজুবিল্লাহ।" রুহুল কবির রিজভী বলেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দুদের একার নয়, এটা আমাদেরও উৎসব, নাউজুবিল্লাহ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, হিন্দুদের ধর্মীয় পূজা উৎসব মুসলমানদের উৎসব হতে পারে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দেয়, নাউজুবিল্লাহ। মুসলমানদের বিশ্বাস একমাত্র আল্লাহ ও রাসুলই সত্য ইসলাম ছাড়া অন্য কোন তন্ত্রে মন্ত্রে সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দিতে পারেনা।
আইনমন্ত্রী সনাতনীদের শুভযাত্রায় অংশ নিয়ে বলেছেন, সরকারের অন্যতম বিশ্বাসের জায়গা হল "ধর্ম যার যার উৎসব সবার"। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এটি সম্পূর্ণ অসত্য বক্তব্য। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হল, "ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার"। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে তারা একমত।
অপরদিকে বরকতউল্লাহের বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি বলেছেন, সনাতনীদের ভোটেই তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী, মুসলমানদের ভোটে নয়। এ অসত্য বক্তব্যের দ্বারা দেশের ৯২ ভাগ মুসলমানরা অন্তরে কষ্ট পেয়েছে। আমানুল্লাহ আমান এমপি কেরানীগঞ্জে হিন্দুদের প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট উদ্বোধন করতে গিয়ে হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া মোনাজাত করেছেন। তিনি ঘাট উদ্বোধনের অনুষ্ঠানটি ভিন্নভাবেও করতে পারতেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করে তিনি শিরকিকে অনুমোদন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শালীন, মার্জিত এবং যুক্তিসঙ্গত বক্তব্য দিয়েছেন। "ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, নিরাপত্তা সবার, নাগরিক অধিকার সবার।" প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যকে মোবারকবাদ জানিয়ে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, প্রত্যেক ধর্মের লোকেরই স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করার অধিকার রয়েছে। সবার জন্য নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে, আপনার দল ও মুসলমান নামধারী কতিপয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিতর্কিত বক্তব্য ইতিমধ্যে জনমনে ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। সনাতনীদের ভোট কালেকশন এবং তাদেরকে খুশি করতে গিয়ে যারা বিভিন্ন ধরনের শিরিকি বক্তব্য দিয়েছেন, তাদেরকে সতর্ক করুন। এদের বিতর্কিত বক্তব্যের দ্বারা আপনার দল ও সরকারের ভাবমর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দিলে ব্যাপকভাবে জানরোষ সৃষ্টি হবে।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের জবাবে আমিরে খেলাফত বলেন, "কোন দেবদেবী স্বর্গ থেকে আসেনি।" তিনি আবারও বলেন, দেবদেবীরা মানুষেরই বানানো মূর্তি। নির্বাক, দুর্বল দেবদেবীরা কারো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখেনা। তারা কোন ধরনের মঙ্গল বা অমঙ্গলের মালিক নয়। আল্লাহ তায়ালা একত্ববাদ এর বিপরীতে পৌত্তলিকতা ধ্বংস করার জন্য নবীদেরকে পাঠিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, সকল দেব-দেবী মিলে একটি মাছি বানাতেও সক্ষম নয়। অন্য আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুর উপাসনা করে, তারা এবং দেব-দেবীরা জাহান্নামের ইন্দনে পরিণত হবে। কোটি কোটি দেব দেবতা থাকা সত্ত্বেও আরব দেশ ছিল অশান্তির অন্ধকারে নিমজ্জিত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল মূর্তি অপসারণ করেই আরব দেশ থেকে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে ইসলামের আলো জ্বালিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তার নগরীতে রূপান্তরিত করেছিলেন। নবী-রাসূলদের অবদানকে অস্বীকার করে যারা দেব-দেবীকে ক্ষমতাবান মনে করে, তাদের ঈমান থাকতে পারে না। বাংলাদেশের মতো ৯২ ভাগ মুসলমান দেশের প্রেসিডেন্টের মুখে এ ধরনের অসত্য ও কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক বক্তব্যে জাতি হতবাক।
প্রেসিডেন্টকে অবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ধর্মের ব্যাপারে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আপত্তি প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সাংবিধানিক দায়িত্বশীলতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা বা রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা কোনো ব্যক্তির বক্তব্যে এমন শব্দ বা বক্তব্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যা দেশের বিপুলসংখ্যক মুসলিম নাগরিকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট অংশটি পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একই দাবিতে আরো যেসব নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বিবৃতিতে ও সভায় বক্তব্য দিয়েছেন তারা হচ্ছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, ইসলামী আইন সংরক্ষণ পরিষদের নির্বাহী সভাপতি মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতী জাকির হুসাইন, মুফতী শরীফ মাশহুদুর রহমান, মুফতী রবিউল ইসলাম রাফে, মাওলানা নেসার উদ্দিন, মুফতী জুনাইদ আহমাদ, মুফতী ইব্রাহিম খলীল, মাওলানা ইকবাল হুসাইন, আকিদায়ে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের আমীর ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা একে এম আশরাফুল হক, মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, আমিনুল ইসলাম, যুগ্মমহাসচিব মুফতি কামরুল ইসলাম, সহকারী মহাসচিব মুফতি আলাউদ্দিন কাসেমী ও সংগঠন সচিব মাওলানা আনোয়ার হোসেন আনসারী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন