বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৩ পি.এম
ইসরাইলের নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্ত করার জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোআম সলবার্গ আহ্বান জানিয়েছেন। এই খবরটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, আরেকটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশনার পর বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের সন্দেহ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শিন বেত। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ইসরাইলের নির্বাচন ‘চুরি’ করার অভিযোগ তোলার পর এই তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এসব অভিযোগ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের দাবি, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে তারা ‘শত শত সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ’ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভোট গণনা শুরু হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হলেও কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ফিলিস্তিনি আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘রা’আম ও ‘জয়েন্ট লিস্ট’। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা রেকর্ড ১৯টি আসন জিততে পারে, যা বর্তমান সম্মিলিত ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ।
বিরোধী ও ফিলিস্তিনি আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন ৬৫টিতে দাঁড়াচ্ছে, যা জোট সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। তবে বিরোধী দল ও ফিলিস্তিনি দলগুলো জোট সরকার গঠনের জন্য একসঙ্গে কাজ করবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছেন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তার দল।
পার্লামেন্টে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলানও। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৬ সালের নির্বাচনে হেরে গেছেন।
নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ও তুরস্কসহ বিদেশি পক্ষগুলো নির্বাচনে ফিলিস্তিনি আরব জনগণের ভোটার উপস্থিতি প্রভাবিত করতে ইসরাইলে অর্থ পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। এই সন্দেহের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নির্বাচন কমিটির প্রধান সলবার্গ শিন বেত প্রধানকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন।
হারেৎজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিদেশি পক্ষগুলোর অর্থায়নের মাধ্যমে নির্বাচনে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ প্রভাব বিস্তারের গুরুতর সন্দেহের কথা সলবার্গ উল্লেখ করেছেন। জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরাইলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো পক্ষ নির্বাচনে অনুচিতভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শিন বেতপ্রধান ডেভিড জিনিকে তদন্ত ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনায় সলবার্গ লিখেছেন, ‘নির্বাচনের সময় ইসরাইলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত পক্ষগুলোর বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে অনুচিত প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে গুরুতর সন্দেহের কথা আমার সামনে তুলে ধরা হয়েছে।’ তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। এর আগে ইসরাইল পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারেৎজকে জানিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা কান নিউজকে বলেন, ‘নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি, কোথাও কিছু একটা ভুল হচ্ছে এবং তথ্যগুলো পুরোপুরি খতিয়ে দেখতে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে।’ ইসরাইল পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা রক্ষায় তাদের ক্ষমতার মধ্যে থাকা সবকিছুই করা হবে এবং তারা ঠিক সেটিই করবে।
সূত্র: হারেৎজ, জেরুজালেম পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩১৫ জনে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৪৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ২৫১ জন এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ জন।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬৪ জন, আর ১৫ মার্চ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬৯৫ জন।
১৫ মার্চ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই লাখ এক হাজার ৪৬৮ জন। একই সময়ে, হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৯৩ হাজার ৩০১ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং ১৫ মার্চ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন আগামী দিনের নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে যেসব অভিযোগ দেয়া হয়েছে তার একটিরও সুরাহা করা হয়নি৷’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দেয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হয়েছে।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটারদের মানসিক চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারণের চেষ্টা করেছে প্রশাসন। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঠাকুরগাঁওয়ের ভোট আগামীর নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন সামনে এনেছে৷’
এর আগে সকাল ৮টায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রণ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ আসনে উপ-নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।
সকাল ৮টা থেকে একযোগে ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে রয়েছেন মির্জা ফয়সল আমিন, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকে হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ২১ প্লাটুন বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ২৫১ সদস্য, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৪৬৫ সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
অপরদিকে, যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল।
একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করা হয়।
প্রতীকসহ ভোটারদের স্লিপ দিয়ে নির্বাচনী নীতিমালা অমান্য করায় এক জামায়াত নেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও ঐতিহাসিক আলেম দ্বীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতা ও অসুস্থতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট ও পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি তিনি বুকের কাছে বা হৃদযন্ত্রের কাছাকাছি স্থানে অস্বস্তি ও ব্যথা অনুভব করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত এনজিওগ্রাফি করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এ অবস্থায় তার দেশ-বিদেশের অগণিত অনুসারী, ছাত্র, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর কাছে মাওলানা আরশাদ মাদানীর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং দীর্ঘায়ুর জন্য বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ ১৯৪১ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে এক ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান নেতা ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম শাইখুল ইসলাম মাওলানা সাইয়্যেদ হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)।
শৈশবেই পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে ফার্সি ও আরবি ভাষা এবং উচ্চতর ইসলামি শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রথম বিভাগে সম্মানজনকভাবে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করে জ্ঞান অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর ১৯৬৪ সালে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা সচিবের গুরুদায়িত্ব সুনামের সঙ্গে পালন করেন।
বর্তমানে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন বা প্রধান শিক্ষক এবং অন্যতম শীর্ষ হাদিস বিশারদ হিসেবে সুনানুত তিরমিযী অধ্যাপনায় নিয়োজিত রয়েছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিশ্বখ্যাত মুসলিম বিশ্ব লিগ (রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী) এবং সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক হাদিস বোর্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
অধ্যাপনার পাশাপাশি দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় রাজনীতিতেও মাওলানা আরশাদ মাদানী গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ১৯৮৪ সালে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক জীবনের বড় অধ্যায় শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে তিনি সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ২০২১ সালে তিনি উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী সম্মাননা ‘আমিরুল হিন্দ’ হিসেবেও ভূষিত হন। তিনি ভারতে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষাবিস্তারে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তার অবদান ব্যাপক। তিনি হিন্দি ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির রচনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন এবং প্রাচীন ইসলামি পান্ডুলিপি সম্পাদনায় অবদান রেখেছেন।
এছাড়াও 'মাদানি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট'-এর মাধ্যমে তিনি ভারতজুড়ে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসহ সার্বিক মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের আলেমসমাজ ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষও তাঁর আশু আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ