ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতই কি তবে মিসরের মক্কা চুক্তিতে না থাকার কারণ?


ভারতই কি তবে মিসরের মক্কা চুক্তিতে না থাকার কারণ?

ভারত ও মিসরের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘকালীন ইতিহাসে গড়ে ওঠা। এই সম্পর্কের ফলে সামরিক, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটি গভীর ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়েছে।

মিসরকে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট 'মক্কা চুক্তি'তে যোগ দিতে না দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে এই সম্পর্ক।

১৯৫৬ সালে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সুয়েজ খালের দিকে সামরিক অভিযানে ভারত তীব্র নিন্দা জানায় এবং মিসরের নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করে। পাঁচ বছর পরে, ১৯৬১ সালে ভারত পর্তুগালের উপর সামরিক অভিযান চালায় এবং মিসর তখন ভারতকে সমর্থন দেয়।

আরও পড়ুন: ‘বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধ স্থগিতে সম্মত ইউক্রেন’

এই ঘটনাগুলো ভারত ও মিসরের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উদাহরণ। ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর, দুই দেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে, ভারত ও মিসরের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, বিশেষত বাণিজ্য ও মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে।

এই দীর্ঘ ইতিহাস মিসরের নতুন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। চলতি মাসের ৭ আগস্ট, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি ত্রিপাক্ষিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার নাম 'মক্কা চুক্তি'।

এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ইসলামি ন্যাটো হিসেবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মিসরকে জোটের 'স্বাভাবিক অংশীদার' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, আফ্রিকার শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী মিসরকে পরবর্তী সদস্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে, মিসর একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশের সেনাবাহিনী ৪ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি সদস্য ধারণ করে এবং এটি শত শত আধুনিক ট্যাংক এবং যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মাধ্যমে পেয়েছে। সুয়েজ খাল মিসরের নিয়ন্ত্রণে, তাই বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছিলেন, কায়রো মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি 'গুরুতরভাবে বিবেচনা করছে'। কিন্তু মিসরের কর্তব্য কিভাবে পালন করতে হবে, সে সম্পর্কে সাংবিধানিক ও আইনগত পর্যালোচনা করতে হবে।

তুরস্কের আগ্রহ থাকলেও সৌদি আরব মিসরকে মক্কা চুক্তিতে নিতে বিশেষ আগ্রহী নয়। সৌদি আরবের হতাশা বাড়ছে, যেহেতু তারা এর জন্য প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু দাবী অনুযায়ী রিয়াদ প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি।

মিসরেরও ইয়েমেনে সৌদি আরবের দীর্ঘ সামরিক অভিযানে জড়িত নেই। ইতোমধ্যেই সৌদি আরব মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়েও সতর্ক। গত ২০১৫ সালে সৌদি আরব ইয়েমেনে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং মিসর এখানে খুব সীমিত ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, মিসরের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন সূত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, কায়রো সকল পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাইছে। সংবাদমাধ্যম মাদা মাসরের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কায়রো 'সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক' রাখতে আগ্রহী।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন

মিসরের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকবে, একটি নতুন সামরিক জোটে যোগ দিয়ে তারা কোন ফায়দা পাবে।

অন্যদিকে, ভারত-মিসরের মধ্যে দুর্দান্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারে পেঁৗছেছে। দুই দেশের মধ্যে মিসরে প্রায় ৭০০ ভারতীয় কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে এবং প্রায় ৪০ হাজার মিসরীয় নাগরিক ভারতীয় কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।

নিশ্চিতভাবেই, কায়রো মক্কা চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অথরিটি প্রভাবিত করতে চাইছে। তবে, বিষয়টি হতে পারে ভারতের কৌশলগুলির প্রভাবিত। ভারত এবং মিসরের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি এবং সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ন।

আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতি আনতে চায় বাংলাদেশ-ভারত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগাতে প্রয়োজন বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, ভিসা প্রক্রিয়াকে সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আয়তন, জনসংখ্যা এবং অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান উভয় দেশের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

দেশগুলোর কৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা বলে তিনি জানান।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত অর্থনীতি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হলেও আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের হার এখনও তুলনামূলক কম।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করতে পারলে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্যকে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য গঠনমূলক আলোচনার প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে।

বৈঠকে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ভিসা জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য প্রতি কিছু মাস পর পর নতুন ভিসা আবেদনের বিষয়টি বাস্তবসম্মত নয়।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজতর ভিসা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, সিআইআই বাংলাদেশে অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

এগুলোর মধ্যে একটি টাস্কফোর্স অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করার জন্য গঠন করা হবে। অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং ডাটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যতে কার্যকর শিল্প খাতে সহযোগিতার পথ খুঁজবে।

সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, ভারতে গত বছর অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫ লক্ষ কোটি রুপি বিনিয়োগ হয়েছে, যার বড় অংশ এসেছে বেসরকারি খাত থেকে।

তাদের মতে, ভারতীয় অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।

স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে।

এনার্জিপ্যাকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে একজন প্রতিনিধি বলেন, দেশে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেক পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে।

স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগায় উৎপাদন ব্যয় ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটলে এসব চ্যালেঞ্জ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এফএমসিজি খাতেও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিআইআই।

প্রতিনিধিদল ঢাকার আশপাশে সাবান, হোম কেয়ার পণ্য, ইনসেক্টিসাইড এবং ফ্র্যাগ্রেন্সসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের জন্য আধুনিক সমন্বিত শিল্প কারখানা স্থাপনের আগ্রহের কথা জানায়।

পাশাপাশি বাজারে অনিবন্ধিত ও নিম্নমানের পণ্য নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান সিআইআই প্রতিনিধিরা।

তাদের স্টিম-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও খাদ্য শিল্পে ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব। তবে শুল্ক বৈষম্যের কারণে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো সীমিত।

এছাড়া বাংলাদেশের তরুণদের জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলী এই অঞ্চলে তৃতীয় দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা নিরসনে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করে যে, আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, ব্যবসায়ী পর্যায়ের নিবিড় সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর, গতিশীল ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চোরাচালান ও আটক পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন আদেশ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


চোরাচালান ও আটক পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন আদেশ জারি

চোরাচালান ও আমদানি-রপ্তানি আইন লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত করা পণ্যের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন স্থায়ী আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই নতুন আদেশের মধ্যে নিলামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শ্রেণির পণ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে বিক্রি, হস্তান্তর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধ্বংসের বিস্তারিত পদ্ধতির বিধান রাখা হয়েছে।

সাধারণভাবে নিলামযোগ্য পণ্যের বিক্রির ক্ষেত্রে বোর্ডের প্রবর্তিত ই-নিলাম বা লাইভ ই-অকশন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ১৭ আগস্ট তারিখে এনবিআরের কাস্টমস শাখা থেকে ‘অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্তকৃত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব এই নতুন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যা ২০২৫ সালের ২ জুলাই জারি করা আগের স্থায়ী আদেশকে বাতিল করেছে।

এই নতুন আদেশটি কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ৯৪-এর সঙ্গে পঠিতব্য ধারা ২৩৭ ও ২৬৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতার ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পচনশীল পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ২০২২ সালে জারি করা সংশ্লিষ্ট এসআরও এবং ২০২৪ সালের সংশোধিত এসআরও কার্যকর থাকবে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, কাস্টমস, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ সংশ্লিষ্ট আটককারী কর্তৃপক্ষকে আটক করা পণ্য নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দিতে হবে।

মূল্যবান ধাতু, হীরা, জুয়েলারি ও বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে স্বীকৃত যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সনদ দেওয়া হবে। সনদ পাওয়া না গেলে এসব মূল্যবান পণ্য সাময়িকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখার সুযোগ থাকবে।

সাধারণ পণ্য কাস্টমস গুদামে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। পচনশীল পণ্য অফিস সময়ের পরেও গ্রহণ করা যাবে। পণ্য জমা দেওয়ার সময় আটককারী কর্তৃপক্ষকে তিন প্রস্থ আটক প্রতিবেদন দিতে হবে। গুদাম কর্মকর্তা পণ্যের মডেল, ব্র্যান্ড, পরিমাণ, মূল্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য গুদাম রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন।

মূল্যবান ধাতু ও বৈদেশিক মুদ্রা গুদামে গ্রহণের পর জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ প্রহরায় নিকটস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক বা ট্রেজারি ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। যদি কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে শেষ না হয়, তাহলে এসব পণ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। অন্যান্য পণ্য গুদামের আয়তন ও শ্রেণি অনুযায়ী এমনভাবে সন্নিবেশ করতে হবে যাতে সহজে শনাক্ত ও পরিদর্শন করা যায়।

আটক পণ্য নিষ্পত্তির আগে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, এজেন্ট বা দাবিদারকে দাবি প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিতে সাত কর্মদিবসের নোটিশ দিতে হবে। ডাক, কুরিয়ার, ই-মেইল, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, ডিজিটাল যোগাযোগ বা নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে এ নোটিশ প্রদান করা সম্ভব হবে। কুরিয়ার পণ্যের মালিকের ঠিকানা না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস, এলসি স্টেশন বা বিভাগীয় দপ্তরের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে দাবিদার যদি তার দাবি প্রমাণ করতে পারে এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর ও জরিমানা পরিশোধ করতে পারে, তাহলে পণ্য খালাসের সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে, দাবি প্রমাণিত না হলে আইন অনুযায়ী পণ্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে পরবর্তী নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

নতুন আদেশে নিলাম কমিটি গঠনের বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিশনার, অ্যাডিশনাল কমিশনার বা জয়েন্ট কমিশনারকে আহ্বায়ক করে এক বা একাধিক নিলাম কমিটি গঠন করতে হবে। নিলাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গুদাম কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাস্টমস কর্মকর্তারা কমিটির সদস্য থাকবেন। প্রয়োজনে অন্যান্য সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকেও কো-অপ্ট করা যেতে পারে।

নিলামের ক্ষেত্রে লাইভ ই-অকশন বা ই-নিলাম ব্যবস্থাকে প্রধান পদ্ধতি হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে ই-নিলাম সম্ভব না হলে প্রকাশ্য, তাৎক্ষণিক বা সিল্ড নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা যাবে। নিলামের আগে কিছু পণ্য নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে নিলাম ছাড়াই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে। উদাহরণস্বরূপ, পরিশিষ্ট ৪-এ উল্লেখিত বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) কাছে সংরক্ষিত মূল্যের ন্যূনতম ৬০ শতাংশ দামে বিক্রি করা যাবে।

চিনি, লবণ, ডাল, সয়াবিন তেলসহ পচনশীল পণ্য টিসিবি কিনতে আগ্রহী হলে বোর্ড নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা যাবে। সোনা, রূপা, প্লাটিনাম, হীরা, জুয়েলারি ও বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যাবে। পাশাপাশি, মদ ও মদ্যজাতীয় পানীয় এবং বিদেশি সিগারেট বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের কাছে বিক্রির বিধান রয়েছে। মূলত, প্রত্নসম্পদ জাতীয় বা আঞ্চলিক জাদুঘর কিংবা সরকারি দপ্তরে হস্তান্তর করা যাবে। প্রাণী বা প্রাণীর দেহাবশেষ বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে বিনামূল্যে দেওয়া যাবে।

ওষুধের কাঁচামাল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে এসেনশিয়াল ড্রাগস কম্পানি লিমিটেড বা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা যাবে। নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা সম্ভব নয় এমন নিয়ন্ত্রিত, নিষিদ্ধ, গুণগতমান নষ্ট বা ধ্বংসযোগ্য পণ্য বিশেষায়িত সংস্থার কাছে বিনামূল্যে হস্তান্তর করে ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করার সুযোগও রাখা হয়েছে। নিলামের পরেও বিক্রি হয়নি এমন পণ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের ভিত্তিতে তাদের প্রস্তাবিত মূল্যে বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে।

নিলামযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে দরদাতার যোগ্যতাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের জন্য হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, মূসক নিবন্ধন, টিআইএন সনদ ও হালনাগাদ আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির দরদাতাদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন সনদ এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রত্যয়নপত্র দরকার হবে।

নিলামে অংশ নিতে প্রতিটি লটের সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ হারে ফেরতযোগ্য জামানত দিতে হবে। ই-নিলামের ক্ষেত্রে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে এবং ই-নিলাম ছাড়া অন্যান্য পদ্ধতিতে পে-অর্ডার, ই-পেমেন্ট বা যাচাইযোগ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টের মাধ্যমে জামানত জমা দেওয়া যাবে।

নিলামের প্রচারেও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। নিলাম অনুষ্ঠানের কমপক্ষে সাত কর্মদিবস আগে একটি জাতীয় এবং একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

একইসাথে, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে এবং নিলামের দুই দিন আগে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে নিলামের ক্ষেত্রে প্রথম নিলামে সংরক্ষিত মূল্যের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ দর পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রির সুপারিশ করা হবে। এ দরে বিক্রি না হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় নিলামের ব্যবস্থা করা হবে। তিন দফা নিলামেও বিক্রি সম্ভব না হলে মেগালট তৈরির মাধ্যমে পরবর্তী নিলামে উঠানোর সুপারিশ করা যাবে। ই-নিলামের ক্ষেত্রে প্রথম নিলামকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দরদাতাদের তুলনামূলক তালিকা তৈরি করবে। নিলাম কমিটি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দরদাতা নির্ধারণ করে কমিশনারের কাছে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবে।

নিলাম কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনারকে তা অনুমোদন করতে হবে অথবা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে আইনানুগ সিদ্ধান্ত দিতে হবে। অনুমোদনের তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিজয়ী দরদাতার অনুকূলে বিক্রয়াদেশ দেওয়ার পর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরমূল্য ও প্রযোজ্য উৎসে আয়কর ও মূসক পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধের পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে ডেলিভারি অর্ডার দেওয়ার বিধান রয়েছে। ডেলিভারি অর্ডার পাওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য খালাস নিতে হবে।

নির্ধারিত বা বর্ধিত সময়ের মধ্যে পণ্য গ্রহণ না হলে বিক্রয় অনুমোদন বাতিল করে বিজয়ীর জামানত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং পণ্য পুনরায় নিলামে তোলা হবে।

নিলামে প্রাপ্ত অর্থ নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে বণ্টন করা হবে। প্রথমে নিলামকারী কমিশনসহ বিক্রয়-সংক্রান্ত ব্যয়, এরপর পণ্যের ফ্রেইট ও অন্যান্য চার্জ, তারপর সরকারের প্রাপ্য কাস্টমস শুল্ক,কর ও অন্যান্য পাওনা এবং সবশেষে হেফাজতকারী বা জিম্মাদারের পাওনা চার্জ পরিশোধ করা হবে। সব পাওনা পরিশোধের পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে পণ্যের মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

নিলাম কার্যক্রমে প্রকাশ্য বাধা, মিথ্যা তথ্য, জাল দলিল দাখিল, নির্ধারিত সময়ে জামানত না দেওয়া অথবা অন্য অংশগ্রহণকারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত হবে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধ্বংসযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রেও নতুন আদেশে বিস্তারিত বিধান দেওয়া হয়েছে। মদ ও মদ্যজাতীয় পানীয় ও বিদেশি সিগারেট নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা সম্ভব না হলে ধ্বংস করার সুযোগ রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি নীতি বা অন্যান্য আইনে নিষিদ্ধ পণ্য এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যও ধ্বংসের আওতায় থাকবে।

নতুন আদেশে পণ্য ধ্বংসের জন্য কাস্টমস, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিভিল এভিয়েশন, বাংলাদেশ বিমান, বিজিবি বা কোস্টগার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ধ্বংস কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের উপস্থিতিতে ধ্বংস কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। ধ্বংসের আগে পণ্যের বিস্তারিত ইনভেন্টরি প্রস্তুত করতে হবে। এতে পণ্যের বিবরণ, পরিমাণ, ব্র্যান্ড, মডেল, আর্ট নম্বর, পার্ট নম্বর, তৈরির সাল, তৈরির দেশ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মূল্য উল্লেখ করতে হবে। ধ্বংসের স্থান ও সময় নির্ধারণের পর কমিটির সদস্যদের কমপক্ষে পাঁচ কর্মদিবস আগে অবহিত করতে হবে। ধ্বংস শেষ হলে কমিটির উপস্থিত সদস্যরা তালিকায় প্রতিস্বাক্ষর করবেন এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

নতুন আদেশে আরো বলা হয়েছে, নিলাম ও ধ্বংস কার্যক্রমের প্রতিবেদন নিয়মিতভাবে প্রস্তুত করে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে এনবিআরের নিলাম শাখায় পাঠাতে হবে। আদেশের কোনো বিধানের সঙ্গে বিদ্যমান আইন বা বিধির অসামঞ্জস্য দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট আইন বা বিধির বিধান প্রাধান্য পাবে।

এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন স্থায়ী আদেশের পরিশিষ্ট-৪-এ খাদ্যপণ্য, মসলা, ভোজ্যতেল, রাসায়নিক, কসমেটিকস, প্লাস্টিক, চামড়া, কাঠ, কাগজ, পোশাক, জুতা, টাইলস, ধাতু, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, মোবাইল, যানবাহন, মেডিকেল সরঞ্জাম, ফার্নিচারসহ মোট ৫৩ ধরনের পণ্যের তালিকাও দেওয়া হয়েছে, যেগুলো নির্ধারিত শর্তে বিএমটিএফের কাছে বিক্রির আওতায় পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
রাশেদ খান

কেউ ব্যক্তি আক্রমণ করলে আমি তাকে চুমু দেব, এমন সুশীল আমি না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


কেউ ব্যক্তি আক্রমণ করলে আমি তাকে চুমু দেব, এমন সুশীল আমি না

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান জানিয়েছেন, "কেউ ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে তাকে ‘ছাড়’ দেওয়া হবে না।" তিনি দাবি করেছেন, জামায়াত-এনসিপি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছে।

সম্প্রতি, একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষারের সাথে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় রাশেদ খানের, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আজ মঙ্গলবার, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে, রাশেদ খান জানান, ওই টকশোতে তার গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা ছিল। তবে, সারোয়ার তুষার শেষ অংশে এসে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছিলেন। টকশোতে, সারোয়ার তুষার রাশেদ খানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বলেছেন, "মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থাকেন। গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বলেছেন।"

এ ব্যাপারে রাশেদ খান ফেসবুক পোস্টে বলেন, "কোন নেতারা? যারা গণ-অভ্যুত্থানের পরপর এনসিপিতে যুক্ত হয়েছে।"

তিনি বলেন, "আমার ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় জেল খেটেছি, ১৫ দিন রিমান্ডের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি। আর ২০২৪ এর আন্দোলনে আমি তো ছাত্র না যে নেতৃত্ব দেব। যখন শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে, ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় করেছি।"

এতদূর না গিয়ে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক তার মাধ্যমে হয়েছিল বলেও জানান। "১৮ জুলাই, আমিই প্রথম দুইজন সমন্বয়কে (আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খান) আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান করে মাঝখানে থেকে কাজ শুরু করি।" জানান রাশেদ খান।

তিনি দাবি করেন, "২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় দুইবার অভিযান চালানো হয়েছে। এরপর আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছি। না কি সেসময় আন্দোলন নিয়ে কাজ না করে যদি গ্রেপ্তার হই, তাহলে এরা (নব্য বিপ্লবীরা) খুশি হতো? ভুলে যাবেন না, সমন্বয়করাও আত্মগোপনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।"

রাশেদ খান দাবি করেন, "গণ অভ্যুত্থানের ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীরা যে হাইকোর্টের সামনে নেমেছিল, সেটি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করেছিলেন।" তিনি বলেন, "৩ আগস্ট আমি গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলেছি, গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। তখনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।"

সারোয়ার তুষারের সাথে টকশো নিয়ে রাশেদ খান বলেন, "গতকালের টকশোতে সারোয়ার তুষার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিল। আমি উত্তর দিয়েছি, তারা নির্বাসিত ছিল, সেখান থেকে কাজ করেছে। আমি এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করেছি, আপনি কোথায় ছিলেন? তার উত্তর ছিল, ১৯ জুলাই মাঠে ছিলাম। আমি বলেছি, আগে পরে কোথায় ছিলেন, সে উত্তর না দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতেই থাকে এবং বেয়াদব ও মিথ্যুক বলে।"

রাশেদ খান জানিয়েছেন, "আমি প্রথমবার তাকে কিছু বলি নাই, কিন্তু দ্বিতীয় বার আবারও বেয়াদব বলাতে পাল্টা জবাব দিয়েছি।"

নিজের ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার তুষারকে নিয়ে ইমতিয়াজ মির্জা এবং আব্দুল কাদেরের বক্তব্য তুলে ধরেন রাশেদ খান। যেখানে আব্দুল কাদের দাবি করেছেন, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় সারোয়ার তুষারকে সেইভাবে চিনতেন না।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, "আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দেব। এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না।"

তিনি উল্লেখ করেন, "আপনারা শব্দের রাজনীতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার এত শ্রীকান্ত চান কেন? নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছেন। এগুলো পরিহার করুন, না হলে ইতরের সঙ্গে ভদ্রতা দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশে কারোর পক্ষেই সম্ভব হবে না। ভদ্রতা আপনার পক্ষ থেকে আসলে, আমার পক্ষ থেকে আরো বেশি আসবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠন বিষয়ে জরুরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে, এই নির্দেশনার চিঠিটি বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান স্বাক্ষরিত করে বোর্ডের আওতাধীন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) পাঠানো একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৬ মার্চের পরিপত্র অনুযায়ী যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ‘নিয়মিত কমিটি গঠনের লক্ষ্যে’ এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা উচিত।

এমনকি, যেকোনো ধরনের ব্যর্থতার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে বিধিমতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

এছাড়া, চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী হবেন এবং বিধিমতো ব্যবস্থার আওতায় আসবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%