০২:০৬ পি.এম
ভারত ও মিসরের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘকালীন ইতিহাসে গড়ে ওঠা। এই সম্পর্কের ফলে সামরিক, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটি গভীর ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়েছে।
মিসরকে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট 'মক্কা চুক্তি'তে যোগ দিতে না দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে এই সম্পর্ক।
১৯৫৬ সালে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সুয়েজ খালের দিকে সামরিক অভিযানে ভারত তীব্র নিন্দা জানায় এবং মিসরের নিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করে। পাঁচ বছর পরে, ১৯৬১ সালে ভারত পর্তুগালের উপর সামরিক অভিযান চালায় এবং মিসর তখন ভারতকে সমর্থন দেয়।
আরও পড়ুন: ‘বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধ স্থগিতে সম্মত ইউক্রেন’
এই ঘটনাগুলো ভারত ও মিসরের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উদাহরণ। ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর, দুই দেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে, ভারত ও মিসরের মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, বিশেষত বাণিজ্য ও মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে।
এই দীর্ঘ ইতিহাস মিসরের নতুন সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। চলতি মাসের ৭ আগস্ট, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি ত্রিপাক্ষিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার নাম 'মক্কা চুক্তি'।
এই চুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ইসলামি ন্যাটো হিসেবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মিসরকে জোটের 'স্বাভাবিক অংশীদার' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, আফ্রিকার শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী মিসরকে পরবর্তী সদস্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে, মিসর একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশের সেনাবাহিনী ৪ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি সদস্য ধারণ করে এবং এটি শত শত আধুনিক ট্যাংক এবং যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মাধ্যমে পেয়েছে। সুয়েজ খাল মিসরের নিয়ন্ত্রণে, তাই বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছিলেন, কায়রো মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি 'গুরুতরভাবে বিবেচনা করছে'। কিন্তু মিসরের কর্তব্য কিভাবে পালন করতে হবে, সে সম্পর্কে সাংবিধানিক ও আইনগত পর্যালোচনা করতে হবে।
তুরস্কের আগ্রহ থাকলেও সৌদি আরব মিসরকে মক্কা চুক্তিতে নিতে বিশেষ আগ্রহী নয়। সৌদি আরবের হতাশা বাড়ছে, যেহেতু তারা এর জন্য প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু দাবী অনুযায়ী রিয়াদ প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি।
মিসরেরও ইয়েমেনে সৌদি আরবের দীর্ঘ সামরিক অভিযানে জড়িত নেই। ইতোমধ্যেই সৌদি আরব মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়েও সতর্ক। গত ২০১৫ সালে সৌদি আরব ইয়েমেনে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং মিসর এখানে খুব সীমিত ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, মিসরের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন সূত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, কায়রো সকল পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাইছে। সংবাদমাধ্যম মাদা মাসরের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, কায়রো 'সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক' রাখতে আগ্রহী।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন
মিসরের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকবে, একটি নতুন সামরিক জোটে যোগ দিয়ে তারা কোন ফায়দা পাবে।
অন্যদিকে, ভারত-মিসরের মধ্যে দুর্দান্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারে পেঁৗছেছে। দুই দেশের মধ্যে মিসরে প্রায় ৭০০ ভারতীয় কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে এবং প্রায় ৪০ হাজার মিসরীয় নাগরিক ভারতীয় কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।
নিশ্চিতভাবেই, কায়রো মক্কা চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অথরিটি প্রভাবিত করতে চাইছে। তবে, বিষয়টি হতে পারে ভারতের কৌশলগুলির প্রভাবিত। ভারত এবং মিসরের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি এবং সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ন।
আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন