ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি ট্রাম্পের


ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ লক্ষ্য করে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (জুলাই) ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ গুঁড়িয়ে দেবে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন দেশটিতে কঠোর আঘাত হানা অব্যাহত রাখবে।

১৩ জুলাই, ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে 'ফ্রিডম ২৫০ গ্র্যান্ড প্রি' শোকেস চলাকালীন বক্তব্য দেবার সময় ট্রাম্প বলেন, 'আমরা পিক্যাক্স মাউন্টেন গুঁড়িয়ে দেব। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা (পিক্যাক্স মাউন্টেন) নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা সেখানে কোনো তৎপরতা দেখছি না। তাদের পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কর্মকাণ্ড ভালো নয়। যখনই আমরা এ ব্যাপারে শুনি, আমরা উড়িয়ে দিই। তাই তারা এ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে না। কিন্তু আমরা সম্ভবত খুব তাড়াতাড়ি পিক্যাক্সে একটি হামলা চালাব।'

আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

পিক্যাক্স মাউন্টেন, যা ইরানের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত, একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থান। এখানে মাটির গভীরে দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার বাস্টার বোমারও এগুলো নাগালের বাইরে।

এদিকে, সোমবার সকালে ট্রাম্প বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বিনিময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহাল করছে এবং অর্থের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা নিশ্চিত করবে।

তিনি 'হিউ হিউইট শো'-তে আরও বলেন, 'আজ রাতে আমরা তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব এবং আগামীকালও কঠিন আঘাত হানব। আর এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার থাকবে না।'

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


কুমিল্লায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত যুবক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষের ফলশ্রুতিতে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকায় রাহাত ফিলিং স্টেশনের সামনে চট্টগ্রামগামী লেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনা সত্যি।

পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেনী থেকে কুমিল্লাগামী মদিনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সুয়াগাজী এলাকায় পৌঁছানোর মুহূর্তে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সিডিএম পরিবহনের একটি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে মদিনা পরিবহনের বাসটির সামনের অংশ এবং সিডিএম পরিবহনের বাসটির পেছনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এই দুর্ঘটনায় সিডিএম পরিবহনের যাত্রী ইমরান গাজী (২৮) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার ফজলুল হক গাজীর পুত্র। তাছাড়া অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ওসি আবদুল মমিন জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাসকে জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘চাবুক মারা’ ইস্যুতে জয় ও ওমর সানীর পাল্টাপাল্টি পোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


‘চাবুক মারা’ ইস্যুতে জয় ও ওমর সানীর পাল্টাপাল্টি পোস্ট

'চাবুক মারা’ নিয়ে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী এবং অভিনেতা-উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। খেলার মাঠের বাইরে এবার তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে ভার্চুয়াল যুদ্ধ, যা ফুটবল এবং বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় আলোচনার মধ্যে পড়েছেন এই দুই তারকা। গত সপ্তাহে ওমর সানী লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দল নিয়ে তার মতামত জানাতে ফেসবুকে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন। এরপর, মেসির সর্মথক হিসেবে পরিচিত শাহরিয়ার নাজিম জয় পাল্টা পোস্ট করেন। এরপর বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে, এবং ওমর সানীও আবার তার ফেসবুকে এক পাল্টা মন্তব্য করেন। এই ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি পোস্টে তারা একে অপরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন, যা এখন নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে তখন, যখন ওমর সানী তার ভিডিও বার্তায় লিওনেল মেসিকে ‘প্রতিবন্ধী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মেসিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের ওপর জয় ফেসবুকে লেখেন, 'ওমর সানী ভাই মেসিকে প্রতিবন্ধী বলেছে। ৯০ দশকে দেখতাম সিনেমাতে মৌসুমী ওমর সানীকে চাবুক মারতো। কেন মারতো এখন বুঝেছি।'

এর জবাবে, ওমর সানী জয়কে উদ্দেশ্য করে একটি নতুন স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, 'শোন শাহরিয়ার নাজিম জয়, তোর আপা মৌসুমী শুটিংয়ে তুলার তৈরি চাবুক ব্যবহার করেছে। আর তোরে মারার জন্য অরিজিনাল চাবুক অর্ডার দিছি, তুই রেডি থাকবি।'

পরে জয় তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, খেলায় আনন্দের বিষয়, বিভাজনের নয়। প্রিয় ফুটবলারকে নিয়ে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কেবল রসিকতা করেছেন। এছাড়া, ওমর সানীও তার শেষ পোস্টে ‘সাবজেক্ট: খেলাধুলা, ফান’ লিখে জানান, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় আয়োজন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে কমছে বন্যার পানি, সামনে আসছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


কক্সবাজারে কমছে বন্যার পানি, সামনে আসছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণের পর কক্সবাজারে উন্নতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির।

তবে পানি সরে যেতেই সামনে আসছে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র-বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-বেড়িবাঁধ, বিপর্যস্ত কৃষি ও মৎস্য খাত। দুর্যোগের পানি কমলেও এখন বড় চ্যালেঞ্জ বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষত সারানো।

কক্সবাজারের রামুর কালাখন্দকার পাড়ার রিকশাচালক মাহমুদুল হকের ঘরে এখনো বন্যার পানি রয়ে গেছে। বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু কাটেনি দুর্ভোগ। কোমরসমান পানি পেরিয়ে তিনি দেখছেন ভেঙে পড়া বসতির ঘেরা-বেড়া আর নষ্ট হয়ে যাওয়া সংসারের শেষ সম্বল।

মাহমুদুল হকের দাবি, বন্যার পানিতে আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এখনো মেলেনি কোনো সহায়তা।

গত ৪ জুলাই ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধস ও সৃষ্ট বন্যায় কক্সবাজারে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য নিরূপণ করেছে জেলা প্রশাসন। যেখানে প্রাণহানি, বসতবাড়ি, মৎস্যখাত, কৃষি, সড়ক, বেড়িবাঁধে ভাঙনসহ ব্যাপক ক্ষতির চিত্র উন্মোচিত হয়।

এরই মধ্যে সোমবার থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় প্লাবিত এলাকার পানি নামতে শুরু করে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা নয় দিনে কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি এবং পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায় এবং অন্তত আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে পেকুয়া উপজেলার ৯৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এরপর মাতামুহুরীতে ৮৫ শতাংশ, চকরিয়ায় ৮০ শতাংশ, কুতুবদিয়ায় ৬৫ শতাংশ এবং মহেশখালীতে ৫০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। অন্যদিকে রামু উপজেলার ৩৫ শতাংশ, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২৫ শতাংশ করে এবং ঈদগাঁও উপজেলার ৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একজন নিখোঁজ রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উখিয়ায়। সেখানে পাহাড়ধসে ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এরপর চকরিয়ায় ছয়জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য জানায়, নয় দিনের বৃষ্টি ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেকুয়ায়।

উপজেলাটিতে ৪৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে।এরপর চকরিয়ায় ৩০০টি, কুতুবদিয়ায় ২৫০টি, মহেশখালীতে ২০০টি এবং মাতামুহুরীতে ১৯০টি, টেকনাফে ১০০টি, উখিয়ায় ৫০টি, ঈদগাঁওয়ে ৩০টি, রামুতে ২৫টি এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৮টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ জানায় জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, মৎস্য খাতে প্রায় ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় জেলার ১০ উপজেলার ৬১টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৯১৮টি পুকুর ও ৪৫৩টি চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়গুলোর মোট আয়তন প্রায় ২ হাজার ৪৪০ হেক্টর। তিনি বলেন, এসব পুকুর ও ঘের থেকে ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন মাছ, ৩৮৫ মেট্রিক টন চিংড়ি, ৩ কোটি ৫৬ লাখ মাছের পোনা এবং ২ কোটি ২১ লাখ চিংড়ির পোনা নষ্ট হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, পানবরজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিসহ ৪ হাজার ২১১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে রয়েছে, চকরিয়ায় ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর, কুতুবদিয়ায় ১ হাজার ১২০ হেক্টর, পেকুয়ায় ৫০০ হেক্টর, রামুতে ৩৪০ হেক্টর, মহেশখালীতে ২৩৭ হেক্টর, টেকনাফে ১৪০ হেক্টর, কক্সবাজার সদরে ৮৮ হেক্টর, ঈদগাঁওয়ে ৭৫ হেক্টর এবং উখিয়ায় ৫০ হেক্টর।

জেলার নয় উপজেলায় মোট ৪৩ হাজার ২১০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চকরিয়ায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন, পেকুয়ায় ৭ হাজার ২০ জন, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৪১৫ জন, রামুতে ৪ হাজার ৮৭৫ জন, মহেশখালীতে ৪ হাজার ৩২০ জন, টেকনাফে ৩ হাজার ১২০ জন, ঈদগাঁওয়ে ১ হাজার ৩০৪ জন, কক্সবাজার সদরে ১ হাজার ১৬৬ জন এবং উখিয়ায় ১ হাজার ১৩৮ জন কৃষক রয়েছেন।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, এটি প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব। বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে যাচাই শেষে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর আওতাধীন ৩৮০ দশমিক ২৯৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে টানা বৃষ্টিতে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ৪৪টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী পূর্বপাড়া এলাকায় প্রায় ২৫ মিটার বেড়িবাঁধ ও একটি সেতুর অংশ ভেঙে গেছে। বৃষ্টি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।

জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চকরিয়ায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০টি সেতু-কালভার্ট, মাতামুহুরীতে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট, এবং পেকুয়ায় ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অপরদিকে টানা নয় দিনের ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারে মোট ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলায়। এই দুই উপজেলায় ১৫টি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আঃ মান্নান জানান, ৯ দিনে জেলার ৬১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত এলাকার মানুষদের ৭৭৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৯৮ মেট্টিক টন চাল ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনই হবে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষকের ফসল, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সরকার।

সোমবার রাতে কক্সবাজারে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি এখন থেকেই পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, স্লুইস গেটগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত না হওয়ায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি পাহাড়ধস রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুম এখনো প্রায় দেড় মাস বাকি থাকায় আবারও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।

তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি এবং দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। তবে আরও ভালো সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে একই এলাকায় একাধিকবার সহায়তা পৌঁছানো কমবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তরাও দ্রুত সহায়তা পাবেন। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সমন্বয় আরও জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো-কোনো ক্ষুধার্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।

একই সঙ্গে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

ত্রাণ বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো সেখানে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হলেও বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে বেশি সময় লাগছে। সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেনাবাহিনীর স্পিডবোট ব্যবহার করে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সীমিত নৌযানের কারণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থার সম্পদ সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দ্রুততম সময়ে সব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানো। তবে ভৌগোলিক ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব এলাকায় একই সময়ে সহায়তা পৌঁছানো সবসময় সম্ভব হয় না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারের বন্যা ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে চাওয়া হয়েছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


কক্সবাজারের বন্যা ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে চাওয়া হয়েছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কক্সবাজার সদর উপজেলায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের তিনি উল্লেখ করেন যে, আগামী সাত দিনের মধ্যে কক্সবাজার জেলায় বন্যায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানাতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এসময় বলেন, বর্তমানে সরকারের মূল অগ্রাধিকার হলো বন্যাকবলিত এলাকার পুনর্বাসন কার্যক্রম। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরবাড়ি মেরামত, কৃষকের ফসলের ক্ষতি, গবাদিপশু ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

এ সময়, পাহাড়ে অবৈধভাবে যারা বসবাস করছেন, তাদের জন্য বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলেও জানান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%