১১:০৯ এম
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে আট মাসের মিশনে মহাকাশে গেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী অনিল মেনন। এই মিশনে তিনি মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে মানবদেহের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করবেন।
নাসার এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে দীর্ঘমেয়াদি মানব অভিযানগুলিকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলা। মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে পেশিশক্তি, হৃদ্যন্ত্র, হাড়ের ঘনত্ব, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করবেন অনিল মেনন ও তার সহকর্মীরা।
অনিল মেননের বাবা শঙ্করন মেনন ভারতের কেরালার পালাক্কড় জেলার ওট্টাপালামের বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ইউক্রেনীয় নাগরিক এলিজাবেথ স্যাময়লেঙ্কোকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তান অনিল মহাদেবন স্যাময়লেঙ্কো মেননের জন্ম হতে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে।
আরও পড়ুন: এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল
মহাকাশে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অনিল মেনন পেশায় একজন চিকিৎসক। সেখানেই তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ইউএস স্পেস ফোর্সের ফ্লাইট সার্জন এবং দক্ষ পাইলট হিসেবে কাজ করছেন। পরবর্তীতে তিনি নাসার মহাকাশচারী হওয়ার জন্য নির্বাচিত হন।
এই অভিযানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তার সঙ্গে একটি রুশ মহাকাশচারী রয়েছেন। আট মাসব্যাপী এই মিশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানগুলি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আশা করছে নাসা।
অনিল মেননের সাফল্যে গর্বিত কেরালার পালাক্কড় জেলা। এই জেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম রয়েছে। কিংবদন্তি অভিনেতা ও তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম. জি. রামচন্দ্রন, কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ শশী থারুরের পারিবারিক শিকড়ও এই জেলায় পাওয়া যায়। এছাড়া প্রখ্যাত কথাকলি শিল্পী রামনকুট্টি নায়ার এবং ভারতের গগনযান কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত মহাকাশচারী প্রশান্ত বালাকৃষ্ণণ নায়ারও পালাক্কড়ের বাসিন্দা।
অনিল মেননের এই মহাকাশ মিশন শুধু ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ২,৪৪৬ মামলা করেছে ডিএমপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন