১১:৩৩ এম
মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থাকলেও কর্মসংস্থান এবং মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যেশ্যেই নীতি সুদের হার কমানো হয়েছে। ঋণের সুদের হার কমানোর ফলে শিল্প খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদনের গতি অর্জিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে, এই উদ্যোগের বাস্তবায়নে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা।
গত এপ্রিলে, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ ছিল। পরে, মে মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছায়। জুন মাসে সামান্য হ্রাস পেয়ে তা ৯ দশমিক ১৬ শতাংশের অবস্থানে আসে। সব মিলিয়ে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় দুই বছর ধরে নীতি সুদের হার কঠোর অবস্থানে রেখেছিল।
এই কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে যায়। বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানও স্থবির হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে এসে পৌঁছায়। তবে, শেষ পর্যন্ত, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের মুদ্রানীতি ঘোষণার এক মাসের মধ্যে, মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে, নীতি সুদের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
নীতি সুদের হার কমানোর ফলে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে পারে কিনা; এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের আয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ সহনীয় করতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের আয় বৃদ্ধি অপরিহার্য। কারণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আয় বৃদ্ধি না হলে, মূল্যস্ফীতির চাপ মানুষের ওপর দ্বিগুণ প্রভাব ফেলে। একদিকে দ্রব্যমূল্য বাড়ে, অন্যদিকে আয় কমে যায়। তাই, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার জন্য মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে তাঁদের হাতে আয় পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
তবে, ঋণের সুদের হার কমলেও বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, এবং জ্বালানির সম্ভাব্য উচ্চমূল্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, জ্বালানি তেল এবং সিএনজির দাম কমতে পারে। তখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো আরও কম ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে এবং শিল্পকারখানাগুলো প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা চালুর সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য, মুদ্রানীতির সভায় মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা সৌদির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব চেয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন