১১:১০ এম
ডিমের খোসা পোলট্রি-শিল্পের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি প্রাকৃতিকভাবে ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, সালফার, কপার এবং প্রোটিন প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই পাউডার পোলট্রি, মাছ, গবাদি পশুর খাদ্য এবং জমিতে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভেটি গ্রামের বেলাল মোল্লা স্থানীয় একটি হ্যাচারিতে দিনমজুরের কাজ করতেন। তিনি হ্যাচারি থেকে ডিমের খোসা বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়ার কাজ করতেন। স্থানীয় একটি এনজিও কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে ডিমের খোসা থেকে মূল্যবান পাউডার তৈরি করা সম্ভব। এটির বাণিজ্যিক চাহিদাও রয়েছে। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন তার সেখান থেকেই শুরু হয়।
২০২৪ সালে তিনি সেই সংস্থার কাছ থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে তাদের পরামর্শে একটি ছোট ডাইস মেশিন কিনেন। এরপর তিনি একটি ক্ষুদ্র কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু হয় পরিত্যক্ত পচা ডিম ও ডিমের খোসা সংগ্রহের কাজ। তিনি নিজেই সংগ্রহ করে শুকিয়ে ডাইস মেশিনে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে পাউডার তৈরি করতে থাকেন। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তিনি দিনমজুর হিসেবে দুই-চারজন লোককে কাজে লাগান। বর্তমানে তার ফ্যাক্টরিতে ১২ জন কর্মী কাজ করছেন। প্রত্যেকেই এখান থেকে আয় করে নিজেদের সংসার চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্যসম্পদ
সম্প্রতি তার কারখানায় একটি নতুন মেশিন যুক্ত হয়েছে। তিনি ভাড়ায় আরো দুটি মেশিন নিয়েছেন। বর্তমানে চারটি মেশিনে উৎপাদন চলছে। তিনি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার একটি নতুন মেশিন কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে পরিত্যক্ত ও বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া ডিমের খোসা সংগ্রহ করছেন। রাতে শহরের রেস্টুরেন্ট এবং বিভিন্ন বেকারি ফ্যাক্টরি থেকে ফেলে দেওয়া খোসা সংগ্রহের কাজ চলছে। মধ্যরাত পর্যন্ত এই খোসা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান। বেলাল মোল্লার অনুকরণে আরো দুই-একজন উদ্যোক্তা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় জাকস ফাউন্ডেশনের সদস্যরা তাকে সহায়তা করছেন বলে বেলাল জানান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মনজু আলম সরকার আমার দেশকে বলেন, "এই পাউডার মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে জৈব সার হিসেবে গাছের পুষ্টি জোগায়। এটি ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়, মাটির অম্লতা কমায় এবং খনিজ সরবরাহ করে।" তিনি আরও জানান, "গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডিমের খোসায় প্রাকৃতিকভাবে কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা ফসলের পোকা দমনে সহায়ক।" অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) কামরুল হাসান জানান, উদ্যোক্তা বেলাল মোল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তিন দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানান, "জয়পুরহাট জেলা একটি পোলট্রি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায়, এখানকার হ্যাচারিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ ডিমের খোসা বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো। বর্তমানে এই ফেলে দেওয়া খোসা সংগ্রহ করে মেশিনে গুঁড়া করার মাধ্যমে পোলট্রি বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে।"
এই সফল উদ্যোগটির মূল কারিগর হলেন জয়পুরহাটের ভেটি গ্রামের উদ্যোক্তা বেলাল উদ্দীন মোল্লা। তিনি ফ্যাক্টরির আয় থেকে তার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চালাচ্ছেন। তার দুই ছেলে এবং এক মেয়ে স্কুল ও মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। বেলালের লক্ষ্য পোলট্রিশিল্পকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়া।
আরও পড়ুন: শ্রেষ্ঠ যুব উদ্যোক্তা আলেম আমিনুল, শিক্ষকতার সঙ্গে হাঁসের খামার চালাচ্ছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন