০১:৩৭ পি.এম
একটি কক্ষে এসএসসি পরীক্ষার্থী বরকে নিয়ে বধূ বেশে কাজির জন্য অপেক্ষা করছে দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী। বাইরে রান্নার আয়োজন চলে, আর বাড়ির লোকজন এ সব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আকস্মিকভাবে তখন নারী ইউএনও উপস্থিত হয়ে যান। তিনি এই বাল্যবিয়ের আসরটিকে পণ্ড করে দেন। পরে অভিভাবকদের মৌখিক স্বীকারোক্তি নেয়া হয় যে তারা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে দেবেন না।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে পৌনে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দবন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এ অভিযানের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার। উপজেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ৫ শতাধিক চারা বিতরণ ও রোপণ
স্বজনরা জানান, মেয়েটি কুমারখালীর একটি ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছেলেটি একই প্রতিষ্ঠানে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। প্রায় দেড় বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। অভিভাবকদের কাছে তারা হুমকি দিয়েছিল যে বিয়ে না হলে আত্মহত্যা করবে। ফলস্বরূপ, অনেকটা বাধ্য হয়েই অভিভাবকরা বাল্যবিয়ের আয়োজন করেছিল। তবে কাজী আসার আগে ম্যাজিস্ট্রেট আসে এবং বিয়ের আসরটি পণ্ড হয়ে যায়।
ওই ছাত্রীর বাবা জানান, ছেলে-মেয়ের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা ছিল একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুবাদে। একপর্যায়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয়ার কারণে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু প্রশাসনের হস্তক্ষেপের কারণে বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের আসর পণ্ড করে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে হবে না- এই বিষয়ে স্বীকারোক্তি নিয়ে স্বজনদের কাছে ছেলে-মেয়েকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফেনীতে পিআইবি'র মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার আরও বলেন, ‘বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন