মামুন বিল্লাহ কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা
১১:১১ পি.এম
কালীগঞ্জে স্বর্ণের লোভে তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফারজানা সুলতানা (৯)। তাকে অপহরণের পর পাশের বাড়িতে বেঁধে রেখে গলা কেটে হত্যা করে। এই ঘটনার খবর পেয়ে জনতা উত্তেজিত হয়ে ঘাতক সুমাইয়া খাতুন নামে ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ জুলাই) রাত ৯ টার দিকে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা কাশিবাটি গ্রামে। নিহত স্কুলছাত্রী কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী এবং কাজলা কাশিবাটি গ্রামের আব্দুল লতিফের কন্যা।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। জানা গেছে, নিহত স্কুলছাত্রী সকালে স্কুলে গিয়ে ক্লাসরুমে ব্যাগ রেখে সুমাইয়ার ঝাল মুড়ির দোকানে যায়। ধরি, তখন ফারজানার কানে দুটি স্বর্ণের দুল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে সুমাইয়া প্রথমে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে। পরে ফারজানাকে পাশের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার হাত পা বেঁধে ওয়ারড্রপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
এরপর সুমাইয়া তাকে জবাই করে হত্যা করে এবং ওয়ারড্রপের মধ্যে রেখে দেয়। জমিরি খোঁজ না পেয়ে ফারজানার বাবা-মা, পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী মাইকিং করে এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সন্ধ্যা ৭ টায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে সুমাইয়ার ঘর তল্লাশি করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। পুলিশ আসার পর জনতা ঘর তল্লাশি করে এবং ফারজানার লাশ দেখতে পায়। এই খবরে উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করার কর্মসূচি পালন করেছে 'আদর্শ বন্ধু ফোরাম'।
"নদী নালা খাল বিল, মাছ থাকুক অনাবিল"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মিরসরাই উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট ও ফেনী নদীতে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ফেনী নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা ভূঁইয়া মোর্শেদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সভাপতি জনাব ফখরুল ইসলাম খান (সিআইপি)।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আদর্শ বন্ধু ফোরামের পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আগামী দিনগুলোতেও সংগঠনের পরিবেশ ও জনকল্যাণমুখী কাজের এ ধারা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আদর্শ বন্ধু ফোরামের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেছেন, ‘পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলার একটি করে নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাটের স্কুল ব্যাগ প্রদান করা হবে।
এ উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তী সময়ে সারা দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাটের ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশবান্ধব পাটের স্কুল ব্যাগ প্রদানের এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে সাভারের জৈনাবাড়ীতে জুট ফাইবার বিডির ব্যাগ উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি পাইলট প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত পাটের স্কুল ব্যাগের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের ৪৯৫টি উপজেলার প্রতিটি থেকে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রতি বিদ্যালয়ে গড়ে ২০০ জন শিক্ষার্থী বিবেচনায় পাইলট পর্যায়ে ৯৯ হাজার শিক্ষার্থীকে পাটের স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।
ব্যাগ উৎপাদনের কাজে ৫৪ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে নির্বাচন করা হয়েছে এবং জেডিপিসি পিএলসির মাধ্যমে এসব ব্যাগ সংগ্রহ করা হবে।’
পাট শিল্পের রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রয়োজনীয় পাট বীজ আমদানি করতে হয়।
পাটের বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে।
একই সঙ্গে পাট চাষিদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদান এবং পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের অনেক নদী, নালা ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
ফলে কৃষকেরা সময়মতো পাট জাগ দিতে পারছেন না, যা পাটের গুণগত মান ও উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ সমস্যা সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ইতোমধ্যে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পাট চাষি ও পাট শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এই বিশ্বজয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তের পর ট্রফি প্রদানের মঞ্চে এক নজিরবিহীন এবং হাসির খোরাক জোগানো ঘটনা তৈরি করেছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। ট্রফি নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে গিয়ে তিনি তার রাজনৈতিক সমাবেশের পরিচিত ‘সিগনেচার ড্যান্স’ হুবহু নকল করে আদর্শভাবে দেখান, যা ফুটবল বিশ্বে এখন অন্যতম ভাইরাল ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফিফার সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ উঠছে, স্পেনের উদযাপনের মুহূর্তে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই সময়ে গলায় মেডেল পরা মেরিনো ট্রাম্পের দিকে এগিয়ে যান এবং ট্রাম্পের স্বাভাবিক স্টাইলের সেই আড়ষ্ট হাত নাড়ানোর নাচ অনুকরণ করা শুরু করেন। মেরিনোর এই কাণ্ড দেখে পাশে থাকা পেদ্রি ও ইয়েরেমি পিনোও নিজেদের হাসি চেপে রাখতে পারেননি এবং তারা এই মজায় যোগদান করেন।
মেরিনোর এই অঙ্গভঙ্গি ট্রাম্পের প্রতি শ্রদ্ধা কি না নিছকই ব্যঙ্গ, তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও মঞ্চে উপস্থিত সবার কাছে এটি স্পষ্ট ছিল যে সম্মানিত অতিথির চেয়ে ট্রাম্প নিজেই সেখানে এক কৌতুকের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
ট্রাম্প পুরো টুর্নামেন্টে কেবল ফাইনাল ম্যাচটিতেই উপস্থিত ছিলেন এবং ট্রফি হস্তান্তরের পর খেলোয়াড়দের একান্তে উদযাপনের সুযোগ না দিয়ে তিনি জোরপূর্বক বিজয়ী দলের ফটোসেশনে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। স্প্যানিশ স্কোয়াডের কেউই তখন তার এই উপস্থিতিকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে নেয়নি। বোর্হা ইগলেসিয়াস ট্রাম্পকে অত্যন্ত শীতলভাবে অভিবাদন জানান, যেখানে বাকি খেলোয়াড়দের পুরো মনোযোগ ছিল শুধুমাত্র ট্রফির দিকে। এর ঠিক কিছুক্ষণ আগেই রানার্স-আপ মেডেল নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ট্রাম্পের বাড়িয়ে দেওয়া হাত এড়িয়ে যান এবং করমর্দনের জন্য অস্বীকৃতি জানান।
পুরো আয়োজনে ট্রাম্পের অতিরিক্ত ক্যামেরায় মুখোর স্বভাবের মাঝে মেরিনোর এই নাচ অন্তত সেই অস্বস্তিকর পরিবেশকে একটি বিনোদনমূলক মুহূর্তে রূপ দিতে পেরেছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত খেলে দুটি গোল করা মেরিনো মাঠের লড়াই শেষের উদযাপনের মঞ্চে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভাইরাল তারকায় পরিণত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফাইনালে হারের পরে মেজাজ হারিয়ে স্পেনের দুই ফুটবলার এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে নিয়ে মেরেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার লেয়ান্দ্রো পারেদেস। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বেশ কয়েকজন সদস্যকে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি রেফারির প্রতিবেদন, ম্যাচের আনুষ্ঠানিক নথিপত্র ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করবে, এর আগে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণ করবে। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারেন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস; যিনি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর সহিংস আচরণের দায়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন।
পরাজয়ের পরপরই বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে ম্যাচ শেষে রেফারি তাকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। ম্যাচ-পরবর্তী বিশৃঙ্খলার সময় স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির সঙ্গে তর্কে জড়ানোর অভিযোগে ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও শাস্তির মুখে পড়তে পারেন; বিশৃঙ্খলার সময় দানি ওলমোর সঙ্গে তার বাগবিতন্ডায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেন যখন বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরছিল, তখন লিওনেল স্কালোনির দলের কয়েকজন সদস্য অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। যে আচরণটি ফাইনালের পরপরই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জয়ের পর মেসিদের ফকল্যান্ড ইস্যুতে একটি ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টিও ফিফা খতিয়ে দেখছে। ফেররান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের জয়সূচক গোলের সুবাদে স্পেন ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করলেও, টুর্নামেন্টের উত্তপ্ত সমাপ্তি ও তার জেরে সৃষ্ট শাস্তিমূলক পরিস্থিতির দিকে এখন সবার নজর। ফিফা তদন্ত শেষ না করা পর্যন্ত শাস্তির প্রকৃত মাত্রা অস্পষ্টই থাকছে; তবে ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি রায় ঘোষণার আগে ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ