০২:১১ পি.এম
সোমবার দুপুরে আচমকাই অস্ট্রেলিয়াজুড়ে লাখ লাখ নাগরিকের মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ ও ট্যাবলেটে একযোগে উচ্চ শব্দে বেজে ওঠে জরুরি সাইরেন। একই সঙ্গে প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে ডিভাইসগুলোতে প্রবল কম্পন শুরু হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় ক্ষণস্থায়ীভাবে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। তবে স্ক্রিনে ভেসে ওঠা বার্তায় স্পষ্ট করে জানানো হয়, এটি ছিল দেশটির নতুন জাতীয় জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ‘অসঅ্যালার্ট’-এর প্রথম দেশব্যাপী পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর দুইটায় অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি সময় অঞ্চলে একযোগে এই পরীক্ষা কার্যকরী করা হয়। নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া ও কুইন্সল্যান্ডে এটি দুপুর দুইটা, দক্ষিণ ও নর্দার্ন টেরিটরিতে দুপুর দেড়টা এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় দুপুর ১২টায় বার্তাটি পৌঁছায়। তবে, পর্দায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল—এটি একটি পরীক্ষামূলক বার্তা এবং এটি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে কারো কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ফেডারেল সরকারের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (নেমা) জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর থেকে অসঅ্যালার্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান খুদে বার্তাভিত্তিক (এসএমএস) সতর্কতা ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন এই ব্যবস্থা সেল ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চলেছে। এর ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ থাকলেও নির্দিষ্ট এলাকার বিপুলসংখ্যক ডিভাইসে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্যভাবে সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানল, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, জননিরাপত্তাজনিত হুমকি, জৈব নিরাপত্তা সংকট এবং জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা প্রদান করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রায় ১৬০ মিটার পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিকভাবে বার্তা পাঠানোর ক্ষমতাও থাকবে এই প্রযুক্তির।
এখনও পরীক্ষার সময় সব ডিভাইসে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে পারেনি। নেমা জানিয়েছে, এটিকে পরীক্ষার ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। পুরোনো বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস, সফটওয়্যার হালনাগাদ না থাকা, মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা, ডিভাইস বন্ধ থাকা, বিমান মোড চালু থাকা কিংবা স্থানীয় টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে সাময়িক সমস্যার কারণে কিছু ব্যবহারকারী বার্তাটি নাও পেতে পারেন।
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার নয়টি এলাকায় সীমিত পরিসরে অসঅ্যালার্টের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এবারের দেশব্যাপী পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে অক্টোবরে পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা চালুর আগে বিভিন্ন ডিভাইস, নেটওয়ার্ক এবং অঞ্চলে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে।
বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে অসঅ্যালার্টের বার্তায় ঘটনার ধরন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, ঝুঁকির মাত্রা, করণীয়, বার্তাপ্রেরণকারী সংস্থা এবং বিস্তারিত তথ্যের উৎস উল্লেখ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা মোবাইল ফোন সাইলেন্ট বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে থাকলেও বিশেষ শব্দের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন