০৫:২৫ পি.এম
আলিবাবা, বাইদু এবং বিওয়াইডিসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রধান চীনা কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর দেশটির সামরিক বাহিনীকে সমর্থনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই নতুন ঘটনা ওয়াশিংটন তথা বেইজিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও খারাপ করে তুলতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার, ৮ জুনের স্থানীয় সময় ফেডারেল রেজিস্টারের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সংযোজনগুলোর কথা ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে, পেন্টাগনের বছরে একবার প্রকাশিত সেই চীনা কোম্পানির তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে, যেগুলোকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ পিপলস লিবারেশন আর্মিকে সহায়তাকারী হিসাবে বিবেচনা করে।
‘১২৬০এইচ তালিকা’ (1260H List) নামে পরিচিত এই তালিকায় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সনাক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার অথবা দেশটির ‘সামরিক-নাগরিক সমন্বয়’ (Military-Civil Fusion) কৌশলের অংশ হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
সর্বশেষ হালনাগাদের ফলে, চীনের তিনটি শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান–আলিবাবা, বাইদু এবং টেনসেন্ট–এখন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, টেনসেন্টকে ২০২৫ সালে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
এদিকে, চীনের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক যানবাহন নির্মাতা বিওয়াইডি-কে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে, পেন্টাগনের তদন্তের পরিধি দেশের অন্যতম প্রধান পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং অটোমোবাইল কোম্পানির দিকে বিস্তৃত হলো।
হালনাগাদ তালিকায় দুটি প্রধান চীনা মেমরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান—চাংজিন মেমরি টেকনোলজিস এবং ইয়াংজি মেমরি টেকনোলজিস—কেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যেগুলো মার্কিন সরকারের পূর্ববর্তী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত তালিকার একটি সংস্করণে কোম্পানিগুলোর নাম সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে পরে সেটি প্রত্যাহার করা হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
পেন্টাগনের ‘১২৬০এইচ’ তালিকাভুক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। তবে, এর ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করা বা নির্দিষ্ট গবেষণা তহবিল পাওয়া কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি, এটি বিনিয়োগকারী এবং মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকাভুক্তি ভবিষ্যতে আরও কঠোর বাণিজ্য, বিনিয়োগ অথবা রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপের একটি পূর্বাভাস হতে পারে।
প্রথমবার ২০২১ সালে প্রকাশিত এই তালিকায় বর্তমানে বিমান চলাচল, সেমিকন্ডাক্টর, নির্মাণ, জাহাজ পরিবহন, যোগাযোগ, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতের ১০০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। পেন্টাগনের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম পরিচালনা করলে এবং সেটি চীনের সামরিক বা প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে সহায়তা করছে বলে মূল্যায়িত হলে, তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন