ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্সের দুর্ভাগ্য: অনিচ্ছাকৃত ফাউল, পেনাল্টির গোলে এগিয়ে স্পেন


ফ্রান্সের দুর্ভাগ্য: অনিচ্ছাকৃত ফাউল, পেনাল্টির গোলে এগিয়ে স্পেন

ফুটবল বিশ্ব এখন ডালাসের সেমিফাইনালের দিকে তাকিয়ে আছে। যেখানে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। ম্যাচের প্রথমার্ধের মধ্য দিয়ে চরম নাটকীয়তার সাক্ষী রয়েছে দর্শকরা এবং লা রোহারা ১-০ ব্যবধানে লিড নিয়েছে। ২২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল নিখুঁত ফিনিশিং করে দলের জন্য গোল করেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই পরাশক্তির মধ্যে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের উত্তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে ডালাস স্টেডিয়ামে। তবে প্রথমার্ধের ২০তম মিনিটে ঘটে গেল ম্যাচটির টার্নিং পয়েন্ট। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে, নিজের ডি-বক্সের ভেতরে স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের মুভমেন্ট সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। ইয়ামাল আচমকা গতি বাড়িয়ে ভেতরে ঢুকলে, বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে দিনিয়ের পা স্প্যানিশ তারকার পায়ে সরাসরি আঘাত করে। রেফারি সঙ্গেসঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

রিপ্লেতে দেখা যায়, ফরাসি ডিফেন্ডার দিনিয়ের এই ফাউলটি বরং ইচ্ছাকৃত নয়; মূলত বলের দখল নিতে গিয়ে তিনি অসাবধানতাবশত এই সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। কিন্তু ফুটবলের চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী, ফাউলটি যদিও অনিচ্ছাকৃত, তবুও ফরাসিদের খেসারত দিতে হয়েছে। বলা যায়, ম্যাচের এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফ্রান্সের কপাল খুব খারাপ। এই পেনাল্টির ফলে গোল হজম করার পর, ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে খেলছে কিলিয়ান এমবাপ্পের দল।

আরও পড়ুন: রৌমারীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৫ জন নিহত, একই পরিবারের ৪ সদস্য

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫২ এম


চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। এজন্য তারা আগামী কয়েক দশকে বিপুল অংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন ভাবছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যকে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হতে পারে এই লক্ষ্য পূরণে। এই তথ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদন, প্রযুক্তি, গবেষণা, সফটওয়্যার অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিকল্প সৃষ্টি করতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ১৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ইউরোজোনের জন্য প্রয়োজন ৯.১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার।

ইওয়াই-পার্থেননের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, আগামী ২৫ বছরে তিন অঞ্চলের গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৯৪০ বিলিয়ন ডলার বা ৯৪ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এটি জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে চলমান বিনিয়োগের উপরে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তুলনা হিসেবে বলা হয়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল। এইদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অতিরিক্ত ব্যয় প্রয়োজনীয়তার পরিমাণ বর্তমানে চলমান বার্ষিক বাজেটের প্রায় দ্বিগুণের সমান।

ইওয়াই-পার্থেননের কর্মকর্তা ও যুক্তরাজ্যের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ম্যাটস পারসনের ভাষ্য, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থানীয়করণ করা সহজ হবে না। কারণ এতে করদাতা ও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপশি আংশিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোই একটি বাস্তবসম্মত পথ হবে। প্রথমে ব্যয় তুলনামূলক কম থাকবে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা বাড়তে পারে।

বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু অর্থ ব্যয় করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। উন্নত উৎপাদন, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন, ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহে এখনও চীনের আধিপত্য রয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের পরিশোধিত লিথিয়াম ও কোবাল্টের ৬০ শতাংশের বেশি এবং ব্যাটারি-গ্রেড গ্রাফাইট ও বিরল খনিজের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করবে চীন। ফলে এসব কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি করা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য জটিল হয়ে দাঁড়াবে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির ফলে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গাড়ি শিল্পে উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। যদিও পরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল, তবুও বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বিরল খনিজ মজুদ নিয়ে পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ফরাসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, ‘বড় অংকের বিনিয়োগ করলেও পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে দ্রুত চীন থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। কারণ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানের নিয়ন্ত্রণ এখনও চীনের হাতে রয়েছেন।’

ইওয়াই-পার্থেননের হিসাব অনুযায়ী, চীনে উৎপাদিত অনেক পণ্যের কারখানা পর্যায়ের খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় ২০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত কম। সুতরাং, চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে। এর ফলে ভোক্তা মূল্যেও প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে পণ্যের দাম ১ থেকে ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এতে মূল্যস্ফীতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিরোধ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা পশ্চিমা দেশগুলোকে নতুন শিল্পনীতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। তবে চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে সময়, বিপুল অর্থ, এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাজুল ইসলাম

কারো ভাগ্য ভালো হলে জেলে পাঠানো হতো, বাকিদের লাশ মিলত নদীতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০২ এম


কারো ভাগ্য ভালো হলে জেলে পাঠানো হতো, বাকিদের লাশ মিলত নদীতে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তিনি সেমিনারে তার বক্তৃতার সময় বলেন, বিগত দিনগুলোতে যাদেরকে গুম করা হয়েছে, তাদের প্রথমে বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে ইলেক্ট্রোকিউট করা হতো, অথবা ১০ কেজি ওজনের হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলা হতো। এর ফলস্বরূপ অনেকের মাথার খুলি ফেটে গিয়ে তারা মারাও যেতেন। এছাড়াও অনেককে অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করা হতো। যারা এমন পরিস্থিতিতে মারা যেতেন, তাদের লাশ নদী, খাল ও বিলে ফেলে দেওয়া হতো।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সেমিনারে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং এসব বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা যখন গুম-খুন নিয়ে তদন্তে গিয়েছি, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এবং আসামিদের সঙ্গে কথা বলেছি, তখন বিষয়টির বিভৎসতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বলা যায়, এর মধ্য দিয়ে যে না গেছে, সে এগুলো বুঝতে পারবে না। কিছুতে যেভাবে নিখোঁজ হয়ে যাবেন, যেমন বাসা থেকে, অফিস থেকে কিংবা রাজপথ থেকে, কালো পোশাক, সাদা পোশাকধারী বা যে কেউ কথা বলতে বলতে এক টানে আপনাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়েছে। এর আগে আপনি কিছু বুঝতে পারার আগেই আপনি নিখোঁজ হয়ে যাবেন।

সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সালেহ হাসান নকীবসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

তিনি আরও বলেন, গুমের শিকারদের ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে গোপন বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে যা দেখেছি বা শুনেছি, সেই বিবরণের ভিত্তিতে হরর সিনেমা বানান যাবে।

সন্ধ্যার পর থেকে নির্যাতন শুরু হতো। যেমন আঙুলে সূচ ফোটানো, যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, আঙুল কেটে ফেলা, কব্জি কেটে ফেলা, চোখ তুলে নেওয়া, জীবিত অবস্থায় মুখের মাংস তুলে নেওয়ার মতো নির্যাতন চালানো হতো। এসবের ছবি তুলে টাঙিয়ে রাখা হতো। অন্যদের সেই ছবি দেখিয়ে বোঝানো হতো, ‘তুই জঙ্গি, না হলে তোরও এই অবস্থা করা হবে।’ সঙ্গেই সেখানে লোহার মই ছিল। যেখানে মানুষের হাত-পা বেঁধে যন্ত্রের সাহায্যে ঘোরানো হতো।

এরপর যারা স্বীকার করতেন, তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হতো। আর যারা স্বীকার করতেন না, অথবা ভুলক্রমে যাদের তুলে আনা হয়েছিল, তাদের চোখ-মুখ বেঁধে মাঠে ফেলে রাখা হতো। এটি ছিল তাদের ভাগ্য ভালো বলে মনে করা হত। কিন্তু যাদের এমন ভাগ্য ছিল না, তাদের চোখ-মুখ বেঁধে বিভিন্ন নদীতে নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর মাথায় গুলি করে, পেট কেটে, সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব, রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমেদ মেহেদী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ বছর পর জানা গেল সেনেগাল দলের চিকিৎসক একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৯ এম


১০ বছর পর জানা গেল সেনেগাল দলের চিকিৎসক একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ

এবারের ফিফা বিশ্বকাপে কোনো রকমে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকালেও সেনেগাল খুব বেশিদূর এগোতে পারেনি। সাদিও মানের নেতৃত্বে থাকা দলটি বাদ পড়েছে রাউন্ড অব ৩২ পর্ব থেকে।

ব্যর্থ বিশ্বকাপ অভিযান শেষে সেনেগাল দল দেশে ফেরার পর ওই দলে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কোচ পাপে থিয়াওসহ পুরো কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ)।

এবার সেনেগাল দলের দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এফএসএফ সভাপতি আব্দুলায়ে ফল জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা ডাক্তার আব্দেরহমানে ফেদিওর মূলত একজন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ; ক্রীড়া চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুলায়ে ফল বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি জানতে পেরেছি যে, জাতীয় দলের চিকিৎসক একজন গাইনোকোলজিস্ট। আমি আগে এটি জানতাম না।’

আব্দুলায়ে ফল আরো দাবি করেন, বিষয়টি জানার পর খেলোয়াড়দের চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তার ভাষায়, ‘কয়েকজন খেলোয়াড় চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে আস্থাহীনতায় ভুগছিল।

এ কারণেই বিশ্বকাপের সময় অতিরিক্ত স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে হয়।’

সেনেগাল দলের চিকিৎসক ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর। 

তবে ফেডারেশন সভাপতির এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছে সেনেগালিজ অ্যাসোসিয়েশন অব স্পোর্টস মেডিসিন। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর শুধু স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নন; তার ক্রীড়া চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ক্রীড়া জীববিজ্ঞানে বিশেষ ডিপ্লোমা রয়েছে।

সংস্থাটি আরো যোগ করেছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বহু চিকিৎসক তাদের মূল বিশেষায়নের পাশাপাশি স্পোর্টস মেডিসিনে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় দলের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন।

তাহলে কেবল ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওরের মূল বিশেষায়ন গাইনোকোলজি হওয়াকে অযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।

বিবৃতিতে ফেডারেশন সভাপতির মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্নকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বিষয়টি এখন দুই পক্ষের ভিন্ন দাবির কারণে বিতর্কে রূপ নিয়েছে। একদিকে ফেডারেশন সভাপতির অভিযোগ, অন্যদিকে স্পোর্টস মেডিসিন অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওরের স্পোর্টস মেডিসিনে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য জানা যায়নি। ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর ২০১৭ সালের শুরুর দিকে সেনেগাল জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছেন এবং এই সময়ে তিনি তিনটি ফিফা বিশ্বকাপ ও পাঁচটি আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে দলের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে প্রশ্নের মুখে লাইসেন্স ও তদারকি; সরকারি হাসপাতালের পাশেই নতুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৮ এম


বাকেরগঞ্জে প্রশ্নের মুখে লাইসেন্স ও তদারকি; সরকারি হাসপাতালের পাশেই নতুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একেবারে পাশেই একটি নতুন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম শুরুকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হাসপাতালের নিকটবর্তী স্থানে নতুন প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন ও কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে প্রচলিত বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে একের পর এক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ও মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে তারা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা উন্নত ও আধুনিক করা। তাই সরকারি হাসপাতালের সংলগ্ন এলাকায় নতুন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে আইন, নীতিমালা ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনুমোদন, লাইসেন্স ও কার্যক্রমের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%