প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি সেমিনারে তার বক্তৃতার সময় বলেন, বিগত দিনগুলোতে যাদেরকে গুম করা হয়েছে, তাদের প্রথমে বৈদ্যুতিক মেশিন দিয়ে ইলেক্ট্রোকিউট করা হতো, অথবা ১০ কেজি ওজনের হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলা হতো। এর ফলস্বরূপ অনেকের মাথার খুলি ফেটে গিয়ে তারা মারাও যেতেন। এছাড়াও অনেককে অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করা হতো। যারা এমন পরিস্থিতিতে মারা যেতেন, তাদের লাশ নদী, খাল ও বিলে ফেলে দেওয়া হতো।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সেমিনারে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং এসব বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা যখন গুম-খুন নিয়ে তদন্তে গিয়েছি, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এবং আসামিদের সঙ্গে কথা বলেছি, তখন বিষয়টির বিভৎসতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বলা যায়, এর মধ্য দিয়ে যে না গেছে, সে এগুলো বুঝতে পারবে না। কিছুতে যেভাবে নিখোঁজ হয়ে যাবেন, যেমন বাসা থেকে, অফিস থেকে কিংবা রাজপথ থেকে, কালো পোশাক, সাদা পোশাকধারী বা যে কেউ কথা বলতে বলতে এক টানে আপনাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়েছে। এর আগে আপনি কিছু বুঝতে পারার আগেই আপনি নিখোঁজ হয়ে যাবেন।
সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সালেহ হাসান নকীবসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
তিনি আরও বলেন, গুমের শিকারদের ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে গোপন বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে যা দেখেছি বা শুনেছি, সেই বিবরণের ভিত্তিতে হরর সিনেমা বানান যাবে।
সন্ধ্যার পর থেকে নির্যাতন শুরু হতো। যেমন আঙুলে সূচ ফোটানো, যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, আঙুল কেটে ফেলা, কব্জি কেটে ফেলা, চোখ তুলে নেওয়া, জীবিত অবস্থায় মুখের মাংস তুলে নেওয়ার মতো নির্যাতন চালানো হতো। এসবের ছবি তুলে টাঙিয়ে রাখা হতো। অন্যদের সেই ছবি দেখিয়ে বোঝানো হতো, ‘তুই জঙ্গি, না হলে তোরও এই অবস্থা করা হবে।’ সঙ্গেই সেখানে লোহার মই ছিল। যেখানে মানুষের হাত-পা বেঁধে যন্ত্রের সাহায্যে ঘোরানো হতো।
এরপর যারা স্বীকার করতেন, তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হতো। আর যারা স্বীকার করতেন না, অথবা ভুলক্রমে যাদের তুলে আনা হয়েছিল, তাদের চোখ-মুখ বেঁধে মাঠে ফেলে রাখা হতো। এটি ছিল তাদের ভাগ্য ভালো বলে মনে করা হত। কিন্তু যাদের এমন ভাগ্য ছিল না, তাদের চোখ-মুখ বেঁধে বিভিন্ন নদীতে নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর মাথায় গুলি করে, পেট কেটে, সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।
বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব, রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমেদ মেহেদী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন