০৯:৪৭ পি.এম
সাভারের পৌর ছাত্রদল নেতা রনি ইসলামের স্ত্রী রিয়া মনির (১৯) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রদল নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে পৌরসভার ছায়াবিথি মহল্লার ডা. তৌহিদুজ্জামানের বাড়ির দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনির লাশ উদ্ধার করা হয় সাভার মডেল থানা পুলিশের দ্বারা।
রিয়ার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, রনি ইসলাম তার স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। নিহত রিয়া মনি নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানার রৌফ চৌধুরীর মেয়ে। তার বাবা এবং মা, দুইজনেই প্রবাসী।
আরও পড়ুন: ফেনীতে মাদক সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা সহ ৪ জন গ্রেপ্তার
স্থানীয় সূত্র ও থানা পুলিশের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সাভার পৌরসভার ছায়াবিথি মহল্লার ডা. তৌহিদুজ্জামানের ভাড়া বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে রনি এবং রিয়া সন্তানদের সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। পারিবারিক কলহের জেরেই রনির দ্বারা রিয়াকে হত্যা করা হয়েছে এবং তারপর সেটা গোপন করার জন্য পালিয়ে গেছে।
রিয়ার মামা সাদ্দাম হোসেন বলছেন, রনি ইসলাম সম্প্রতি পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ লাভ করার পর থেকে রিয়ার উপর মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে রনি রিয়াকে হত্যা করেছে এবং বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে গেছে। রনি নিজের মায়ের কাছে মোবাইল ফোনে রিয়ার হত্যার কথা বলার পর থেকেই হত্যার বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে বিকেলে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে রিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই রনি ইসলামের মোবাইল বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আত্মগোপনে আছেন।
নিহতের নানি জাহানারা বেগম বলেন, 'রিয়ার বাবা-মা দুজনেই প্রবাসী। আমাদের মেয়েকে রনি পরিকল্পিতভাবে খুন করে পালিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও রনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'
আরও পড়ুন: টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী জানান, 'খবর পেয়ে বিকেলে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।'
অন্যদিকে, রাজনৈতিক পদধারী নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পলাতক পৌর ছাত্রদল নেতা রনি ইসলামের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন