১১:০১ পি.এম
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘রিপন ভিডিও’ খ্যাত রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে একটি ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সালিশের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও অভিযুক্ত রিপনকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সালিশকারীদের পক্ষ থেকে।
এটি ঘটেছে সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে। পরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে লুকিয়ে থাকা মেয়ের পরিবারের খোঁজ পেয়ে তাদের থানায় মামলা করতে পাঠায়।
জানা গেছে, নন্দুরা গ্রামের রিপন মিয়া পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং বেশ কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে পরিচিতি অর্জন করেছেন। তিনি দেশ-বিদেশে ঘুরে কনটেন্ট তৈরি করতেন। ‘আই এম এ রিপন ভিডিও’, ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—এমন বিভিন্ন কথার কারণে তার বিরুদ্ধে দরিদ্র মা-বাবাকে না দেখার অভিযোগ উঠেছে। এজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: কর্মচারীর খোঁজে বেরিয়ে এল মুদি দোকানির মৃত্যুর ঘটনা
স্থানীয় সূত্রের তথ্য মতে, কনটেন্ট বানানোর ফাঁদে ফেলে ওই কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন রিপন। শনিবার (১ আগস্ট) তাদের আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। এরপর দুই দিন ধরে গ্রামবাসী মীমাংসা করার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে সোমবার রাতে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে সালিশের আয়োজন করা হয়।
সালিশের পরিচালনায় ছিলেন দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীসহ গ্রামের অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মীমাংসার পর রিপন নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং সালিশকারীরা ওই পরিবারকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দেয়ার নির্দেশ এবং রিপনকে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি দরিদ্র হওয়ায় এবং গ্রামের মানুষ বিচার নিয়ে আসায় আমরা গ্রামবাসী মিলে আলোচনার জন্য বসেছিলাম। সেখানে ওই পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেবে বলছিল কিন্তু পুলিশ এসে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা বলায় বিষয়টি আইনিভাবেই এগোচ্ছে।’
এদিকে এনসিপির নেতা প্রীতম সোহাগ তার একটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘উপযুক্ত প্রমাণ ও আলামতসহ পুলিশ ডেকে থানায় দিন। দলীয় অফিসে বসে ফৌজদারি অপরাধের বিচার করার দুঃসাহস দেখানোটা আইন হাতে তুলে নেয়ার মতো একটা বাজে নজির।’ এ বিষয়ে জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, ঘটনাটির খোঁজখবর নিচ্ছেন তারা।
আরও পড়ুন: সুন্দর মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বিকল্প নেই: এমপি হাজী জসিম উদ্দিন
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জানান, ‘আমরা খবর পেয়েই ওই গ্রামে গিয়ে রিপনকে আটকের চেষ্টা করছি। সে পলাতক রয়েছে। ওই গ্রামে কিশোরীর পরিবারকেও পাচ্ছিলাম না। একপর্যায়ে তাদের পেয়ে মামলা করতে থানায় পাঠাই। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
আরও পড়ুন: সংস্কৃতিমন্ত্রী: 'ক্ষুদ্র' শব্দটি নৃগোষ্ঠীর জন্য অপমানজনক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন