০৭:৩৯ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ৪ আগস্ট থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে। দেশটির ওপর পরিকল্পিত ‘বড় ধরনের’ সামরিক হামলা স্থগিত ঘোষণা করার একদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেছেন।
স্থানীয় সময় রোববার, ৩ আগস্ট, এয়ার ফোর্স ওয়ানে উপস্থিত সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) হামলার ব্যাপকতা বুঝতে পেরেছিল, কারণ তারা প্রস্তুতি দেখতে পেয়েছিল। আমরা এখন আলোচনার মাধ্যমে এগোচ্ছি। আগামীকাল বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে।’
এর আগে ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মিত্ররা তাকে হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের বিষয়ে ইরান এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘনিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন, কিন্তু পরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে চুক্তির জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা রাখছেন না। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই প্রস্তুত... আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাকে সামরিক হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছে, কারণ তাদের বিশ্বাস একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। হরমুজ নিয়ে একটি চুক্তি হবে, আর পারমাণবিক ইস্যুতেও সমঝোতা হবে।’
আরও পড়ুন: মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট
এদিকে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানান তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, আলোচনা ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে এবং চুক্তি চূড়ান্ত হতে বেশি সময় লাগবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ওমানের সঙ্গে নতুন একটি নৌপথ নির্ধারণ নিয়ে খুব শিগগিরই সমঝোতা হতে পারে। নতুন রুট উভয় দেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে সম্মান করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই সমঝোতার অর্থ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়া নয়। হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে গ্রহণযোগ্য ও নিরাপদ কাঠামো তৈরিই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন: সরকারের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন