ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যাংকের চলতি হিসাবের লিয়েন তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ ব্যাংক


ব্যাংকের চলতি হিসাবের লিয়েন তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : ব্যাংকগুলোর জন্য টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্র্যান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে যে অর্থ লিয়েন (অবরুদ্ধ) রাখার ব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ ছিল, সেটি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনার আলোকে, গত ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালের বিভিন্ন নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সিকিউরিটি বন্ধক রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রদান করা হতো। ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন রেখে এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতো।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

পরবর্তীতে, ১৯৯৯ সালের নির্দেশনার মধ্যে বলা হয়েছিল যে, কোনো ব্যাংকের জন্য অনুমোদিত টিটি ডিসকাউন্টিং সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে লিয়েন রাখতে হবে। উল্লেখ্য, এ অর্থ ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়নি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস সহজলভ্য রয়েছে। ফলে চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা আর অনুভূত হচ্ছে না।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে এ সুবিধা ব্যবহারকারী ব্যাংকের সংখ্যা খুবই কম। বহু ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা ব্যবহার না করলেও অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ অর্থ লিয়েন অবস্থায় অবস্থান করত। সুতরাং, ওই অর্থ সিআরআর হিসাবে গণনা না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক অনুপাত বজায় রাখতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বাতিল করা হবে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার স্থান ও তারিখ এখনও অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার স্থান ও তারিখ এখনও অনিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে থাকা প্রত্যক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে এখনও কোনও তারিখ বা স্থান চূড়ান্ত হয়নি, এমনটি জানিয়েছে পাকিস্তান সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিকেলে ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রেখে নতুন আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিলেও, তেহরানের পক্ষ থেকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বিষয়ে সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আলোচনার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করতে ইসলামাবাদ ও দোহা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনও পর্যায়ভিত্তিক আলোচনা চলছে না। তবে মধ্যস্থতাকারী সূত্রে জানা গেছে, আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ এবং দোহা বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি আগামী এক বা দুই দিনের भीतर তেহরান সফরে যেতে পারেন। দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা আদান-প্রদান হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল চলতি সপ্তাহের মধ্যে কোন না কোন শুভ সমাধানের আশা করছেন।

গত ১৭ জুন, দুই দেশের মধ্যে ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার অধীনে ৬০ দিনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি সহ একাধিক জটিল বিষয়ের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত এই সমঝোতার ভবিষ্যৎকে কিছুটা অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। প্রত্যক্ষ আলোচনায় বসার আগে প্রথম ধাপে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ন্যূনতম বোঝাপড়া তৈরি করা যায়। তবে প্রথম পর্বের প্রত্যক্ষ আলোচনায় পরমাণু বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকছে না।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার প্রাথমিক লক্ষ্য হবে যুদ্ধবিরতি জোরদার করা এবং গত ৯ জুলাইয়ের পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া। পাকিস্তান ও কাতারের তৈরি করা একটি ডি-এসকেলেশন ফর্মুলা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় ইরান উন্মুক্ত করে দেবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে এবং চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচলে কোনো ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না। এছাড়া, দক্ষিণ লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনার প্রধান এজেন্ডা হিসেবে স্থান পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাড়ে চার বছর ও ২৪৬ ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট নিলেন রশিদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


সাড়ে চার বছর ও ২৪৬ ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট নিলেন রশিদ খান

ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০২৬ : সাড়ে চার বছরের দীর্ঘ সময় ও ২৪৬ ম্যাচ খেলার পর অবশেষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৫ উইকেট নিলেন আফগানিস্তানের স্পিনার রশিদ খান।

যেমনটি জানা যায়, চলমান দা হান্ড্রেড বা ১০০ বলের টুর্নামেন্টের ১৮তম ম্যাচে গতরাতে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ২০ বলে ১৭ রানে ৫ উইকেট অর্জন করেন এমআই লন্ডনের হয়ে খেলা রশিদ। তার অনন্য ও দুর্দান্ত পারফরমেন্সের সুবাদে ৪৫ রানে বিজয়ী হয় এমআই লন্ডন।

এর আগের সময় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন রশিদ। সেই সময়ে মাঝে ২৪৬টি ম্যাচ খেললেও ইনিংসে ৫ উইকেট বা তার বেশি উইকেটের দেখা পাননি এই ডান-হাতি স্পিনার।

২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বিগ ব্যাশের ১১তম আসরের ৪৪তম ম্যাচে ব্রিজবেন হিটের বিপক্ষে ছিল রশিদের অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স। বল হাতে ৪ ওভারে ১৭ রানে ৬ উইকেট শিকার করে ছিলেন রশিদ। এটি আজও রশিদের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। উল্লেখ্য, রশিদের সেরা বোলিং ফিগারের ম্যাচে বিজয় অর্জন করে অ্যাডিলেড ৭১ রানে।

এটি ১০০ বলের ক্রিকেট হলেও আনুষ্ঠানিক রেকর্ডে দা হান্ড্রেডকে টি-টোয়েন্টির সংগ্রহে বিবেচনা করা হয়।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে উইকেট শিকারের তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছেন রশিদ। তার ঝুলিতে রয়েছে ৭৩৬ উইকেট, ৫৪৭ ম্যাচ খেলে। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার সুনিল নারাইন, যার উইকেট সংখ্যা ৬৪৬, যা তিনি ৬০৭ ম্যাচে অর্জন করেছেন।

উল্লেখ্য, উইকেট শিকারের তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আরেক ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ডোয়াইন ব্রাভো। সাবেক এই পেসার ৫৮২ ম্যাচে ৬৩১ উইকেট শিকার করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় বিশাল ইয়াবা কারখানার সন্ধান পেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


ঢাকায় বিশাল ইয়াবা কারখানার সন্ধান পেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে রাসায়নিক কারখানার আড়ালে পরিচালিত আরেকটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-২। অভিযানে ১৯ হাজার পিস প্রস্তুত ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারখানার মালিক নাসির হোসেন (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবান ফ্যাক্টরি সড়ক এলাকায় মদিনা কমপ্লেক্সে অভিযানে উদ্ধার হওয়া কারখানার সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকা থেকে ফয়সাল ইসলাম মিঠু নামে এক মাদক কারবারিকে ১১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মদিনানগর এলাকার মদিনা কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘নাছির কেমিক্যাল ইন্ড্রাজট্রিজ লি’ নামের কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ইয়াবা তৈরির যন্ত্রপাতি, বিপুল পর amount of কাঁচামাল ও ১৯ হাজার পিস প্রস্তুত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে কারখানার মালিক নাসির হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক আরও বলেন, নাসির হোসেন রাসায়নিক কারখানার আড়ালে প্রায় ১০ বছর ধরে ইয়াবা উৎপাদন করে আসছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ইয়াবা তৈরিতে দক্ষ কারিগর ও কেমিস্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি কারখানাটি কিনে সেখানে গোপনে ইয়াবা উৎপাদন করতেন ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর মাত্র চার দিন আগে গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকায় আরেকটি ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায় র‍্যাব-১০। ওই অভিযানে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূল সম্ভব: আসাদুল হাবিব দুলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ পি.এম


সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই মাদক ও বাল্যবিবাহ নির্মূল সম্ভব: আসাদুল হাবিব দুলু

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খুবই জরুরি হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজকে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন ব্যবসা সহ সকল ধরনের সামাজিক অপরাধমুক্ত করা। এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি উল্লেখ করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে যদি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তবে এসব অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

লালমনিরহাটে নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

বাসস : উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আপনি কী ধরনের সম্পর্ক দেখতে পান?

মন্ত্রী : উন্নয়ন শুধুমাত্র রাস্তা, সেতু, স্কুল-কলেজ অথবা ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যদি একটি এলাকায় মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ বিস্তার লাভ করে, তাহলে সেখানে প্রকৃত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয় না। মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাসস : বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ কী বলে মনে করেন?

মন্ত্রী : যুবসমাজের জন্য মাদক একটি বড় হুমকি। এর সঙ্গে জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং দাদন ব্যবসাও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অনেক পরিবারে অশান্তি, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে এসব সামাজিক অপরাধের প্রভাব রয়েছে। ফলে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাসস : এসব সমস্যা মোকাবিলায় আপনি কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন?

মন্ত্রী : শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করা হবে না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ী, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষার্থী সহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বাসস : ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ সংগঠনের লক্ষ্য কী?

মন্ত্রী : দীর্ঘ বিরতির পর গত ৪ জুলাই ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং দাদন ব্যবসার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

বাসস : সংগঠনটির কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা হচ্ছে?

মন্ত্রী : ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, রাজনৈতিক প্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলি স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে।

বাসস : এই উদ্যোগের প্রাথমিক ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

মন্ত্রী : ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি আমরা। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে। অনেকেই সামাজিক অপরাধ থেকে সরে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছি।

বাসস : এই আন্দোলন কি শুধু লালমনিরহাটে সীমাবদ্ধ থাকবে?

মন্ত্রী : না, আমার প্রত্যাশা, এটি জাতীয় পর্যায়ে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে। দেশের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ এবং যৌতুকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন একটি নিরাপদ, মানবিক এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বাসস : সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

মন্ত্রী : সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খাল পুনঃখনন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষকদের সহায়তা এবং নারীর ক্ষমতায়ন সহ অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে উন্নয়নের সুফল টেকসই করতে সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।

বাসস : তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

মন্ত্রীর উত্তর : তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হয়েছে এবং পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমি আশাবাদী।

বাসস : এই পরিস্থিতিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে আপনার বার্তা কী?

মন্ত্রী : একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে উন্নয়ন ও সামাজিক মূল্যবোধকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, দাদন ব্যবসা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি নিরাপদ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%