০৯:৩৩ এম
আবহাওয়াভিত্তিক তীব্র সংকট ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পামচাষিরা চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। কৃষকরা রপ্তানি ও পরিবহনব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার কারণে শত শত টন তাজা পাম বিক্রি করতে না পেরে পচিয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।
চলতি মাসের শুরুতে ৩৩ বছর বয়সী পামচাষি সুপেন্দি সাত মেট্রিক টন তাজা পাম ফল নিয়ে সাঙ্গাউ শহরের একটি পাম তেলের মিলে যান। চার দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তাকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের তেল রাখার সব ট্যাংক এখন কানায় কানায় পূর্ণ, নতুন করে ফল কেনার মতো কোনো জায়গা নেই। সুপেন্দি একা নন, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের হাজার হাজার ক্ষুদ্র কৃষক আজ একই সংকটের মুখোমুখি। সময়মতো ফল বিক্রি করতে না পারার কারণে তাদের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হচ্ছে, ফলে জীবিকার প্রধান পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক দেশ এবং এই কালিমান্তান প্রদেশ থেকেই দেশটির মোট উৎপাদনের প্রায় ১১ শতাংশ আসে। তবে ‘সুপার এল নিনো’র ফলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে এলাকার প্রধান পরিবহন পথ কাপুয়াস নদী শুকিয়ে গেছে। নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিশাল বিশাল বালুচর ভেসে উঠেছে। এর ফলে পাম তেলবাহী নৌযানগুলো চরে আটকে পড়েছে। নদীপথ বন্ধ থাকায় ট্রাকে করে তেল পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তা অত্যন্ত ধীরগতির এবং খরচ প্রায় তিন গুণ বেশি। নদীর মাধ্যমে যেখানে হাজার হাজার টন পরিবাহিত হতো, সেখানে ট্রাকে করে দিনে মাত্র সামান্য পরিমাণ তেল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভোটার তালিকায় মৃত ঘোষণা, তবু প্রতিবছর ভোট দিচ্ছেন কামতা প্রসাদ
পরিবহনসংকটে রপ্তানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় পাম তেলের মিলগুলোর ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে এসেছে। পশ্চিম কালিমান্তানের ৫০টি পাম তেল মিলের মধ্যে অন্তত ১৩টি বড় মিল উৎপাদনে বাধ্য হয়ে কাটছাঁট করেছে। মিলগুলোর মজুদ ট্যাংক পূর্ণ থাকায় তারা তাজা পাম ফল কেনা কমিয়ে বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে চতুর্থ প্রান্তিকে পাম তেল উৎপাদন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ফসল বিক্রি করতে না পারায় কৃষকরা মারাত্মক আর্থিক অনটনে পড়েছেন। আয় না থাকায় কৃষকরা পামগাছের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছেন না। অনেকেই সার প্রয়োগের পরিমাণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা ভবিষ্যতের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ দ্বিগুণ দূরত্ব অতিক্রম করে অর্ধেকেরও কম দামে ফল বিক্রি করছেন। আবার অনেক চাষি সংসার চালাতে পিঠা, কেক ও ডোনাট বানিয়ে রাস্তায় বিক্রি করছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত অক্টোবরে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও এ বছর তা পিছিয়ে নভেম্বরে যেতে পারে। ফলে নদীর পানি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে। শুধু পাম তেলশিল্পই নয়, এই শুষ্ক আবহাওয়া অঞ্চলজুড়ে গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল এবং ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছে, যা প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: হুথিদের ঠেকাতে সৌদির পাশে ব্রিটেনের সামরিক সহায়তা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন