ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মাগুরায় মধুমতী নদীতে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার


মাগুরায় মধুমতী নদীতে অজ্ঞাত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় মধুমতী নদীতে একটি অজ্ঞাত তরুণীর লাশ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে দশটার দিকে নদীর তীরে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ লাশটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত তরুণীর বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে পারে।

মহম্মদপুর থানার ওসি এম শামিম আহমেদ এ বিষয়ে জানান, খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নৌ পুলিশ ও পিবিআইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া এবং তদন্তের স্বার্থে থানা পুলিশ তাদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে।

আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে বরিশাল নগরীতে ডিবি পুলিশের আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান

নৌ পুলিশ ও পিবিআই টিম লাশ উদ্ধার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের বিকাশে সচেতনতা ও চিকিৎসার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


শিশুদের বিকাশে সচেতনতা ও চিকিৎসার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ডা. শাহাদাত হোসেন

শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক, মানসিক ও বাক্বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবক, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিশুদের কথা বলতে বিলম্ব বা স্পিচ ডিলে সমস্যার পেছনে শারীরিক, স্নায়বিক, শ্রবণজনিত, গঠনগত ও বিকাশগত বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এসব সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সাহিক চট্টগ্রাম অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ), চট্টগ্রাম শাখা এবং সাহিক চট্টগ্রাম সাব-সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্পিচ ডিলে ইন চিলড্রেন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, শিশুদের জন্মকালীন জটিলতা ও মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে বিকাশগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রসবকালীন ব্যবস্থাপনায় আরো সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

সাহিক-এর কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রশাসক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিশু, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্নায়বিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা দিয়ে আসছে। এ ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে আরো সমৃদ্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু স্নায়ুরোগ ও বিকাশ বিশেষজ্ঞ ডা. আনজির আনোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ধালী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিপিএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ এ চৌধুরী (আরজু)। সভাপতিত্ব করেন সাহিক চট্টগ্রাম সাব-সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল আলীম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিপিএ চট্টগ্রাম শাখার সদস্য ডা. বেলাল উদ্দিন।

সেমিনারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের শিশু বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির কাছে জাপান সফরের চুক্তি ও সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


রাষ্ট্রপতির কাছে জাপান সফরের চুক্তি ও সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সাম্প্রতিক জাপান সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাকে স্বাগত জানান।

পরে একান্ত বৈঠকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার আলোচনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

এ সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক জাপান সফরের অন্যান্য দিক যেমন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় তারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রপতি এ সফরে দুদেশের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে জাপানি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে।

বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে আসায় রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, একান্ত সচিব-২ সহ বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ামতপুরে ২০ কোটি টাকার সংযোগ সড়কে বালুর বদলে মাটি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


নিয়ামতপুরে ২০ কোটি টাকার সংযোগ সড়কে বালুর বদলে মাটি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে বালুর পরিবর্তে মাটি ও ইটের টুকরো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, রাতের আঁধারে এসব মালামাল দিয়ে সড়কের দুই পাশ ভরাটের চেষ্টা করা হয় এবং স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দাবি করেছেন যে, ঠিকাদারকে আগেই ওই মালামাল ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কীভাবে ওই মালামাল প্রকল্প এলাকায় এলো, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

‎

উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বটতলী বাজার থেকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বরিয়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটির দুই পাশে প্রশস্তকরণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানা এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

‎

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর গভীর রাতে সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে মাটির সঙ্গে ইটের টুকরো মিশিয়ে ভরাটের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা বাধা দেন। একপর্যায়ে মাটিবোঝাই কয়েকটি গাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয় এবং কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।

‎

এ বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কের অন্য পাশের ডব্লিউএমএম (WMM) কাজের নিচের অংশে মাটির পরিমাণ বেশি থাকায় তিনি ঠিকাদারকে ওই পাশের মালামাল গ্রহণ করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপরও ঠিকাদার দুই গাড়ি মালামাল নিয়ে এসেছিলেন। পরে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তিনি নিজের মুঠোফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও সাংবাদিকদের দেখান।

‎

তবে প্রকৌশলীর বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠেছে, ঠিকাদারকে আগেই নিষেধ করা হয়ে থাকলে এরপরও কীভাবে ওই মালামাল প্রকল্প এলাকায় আনা হলো? নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মালামাল আনার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আর সড়কের দুই পাশে ইতোমধ্যে ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

‎

অন্যদিকে, কাজের অনিয়ম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি সাংবাদিককে বালু না মাটি, তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখার কথা বলেন। পরে প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রতিনিধি মুঠোফোনে সাংবাদিককে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ও কল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।

‎

বরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিদুল অভিযোগ করে বলেন, সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে কাদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

‎

একই গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, কাজের সময় নিয়মিত পানি দেওয়া হয়নি। যেখানে খোয়া দেওয়ার কথা, সেখানে ভাটার শক্ত মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ভরাটের জন্য নর্দমা থেকে মাটি তুলে আনা হচ্ছে।

‎

প্রায় ২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিষেধ করার পরও যদি ঠিকাদার নিম্নমানের মালামাল নিয়ে আসেন, তাহলে প্রকল্পের কাজের সার্বিক মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৫ বছরে সেন্টমার্টিনে চালু হয়নি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


৩৫ বছরে সেন্টমার্টিনে চালু হয়নি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, যা পর্যটনের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানে বিদ্যুতের সংকট দীর্ঘকাল ধরে বিরাজমান। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দ্বীপের সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল হয়নি। এর ফলে প্রায় ১১ হাজার মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে একটি বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে, ওই প্রকল্প থেকেও দিনে-রাতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা।

এদিকে, পর্যটন মৌসুমের প্রেক্ষাপটে গত ১ নভেম্বর থেকে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি না করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এক সময় সন্ধ্যা হলে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোয় আলোকিত হতো সেন্টমার্টিন। ১৯৮১ সালে স্থাপিত কেন্দ্রটির জেনারেটর ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আর সচল করা হয়নি। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

যেখানে একসময় বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, এখন সেখানে নীরবতা বিরাজ করছে। শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রই নয়, এর আওতাধীন সরকারি রেস্টহাউসেও নেই নিজস্ব বিদ্যুৎ সরবরাহ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করেই চলছে সেটি।

সেন্টমার্টিন বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কেয়ারটেকার তাতু বড়ুয়া সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে জেনারেটরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটর কক্ষটি এখন পরিত্যক্ত। সরকারি রেস্টহাউসটি সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্লু মেরিন এনার্জি।

বেসরকারি প্রকল্পেও চাহিদা মিটছে না

দ্বীপের চিত্র সময়ের সঙ্গে বদলেছে। জনসংখ্যা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল-রিসোর্ট এবং পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় পুরো দ্বীপ এখন নির্ভরশীল বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর।

২০১৯ সালে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু করে ব্লু মেরিন এনার্জি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে তাদের গ্রাহকসংখ্যা ৮০০-এর বেশি। তবে প্রকল্পের ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প থেকে সিস্টেম লস বাদ দিয়ে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৩৮ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই বিদ্যুৎ দিয়ে ৮০০-এর বেশি গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, দ্বীপে কয়েক শ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বা টমটম রয়েছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়েছে। তার অভিযোগ, টমটমের ব্যাটারি চার্জের বড় একটি অংশ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে নেয়া হয়। এছাড়া প্রায় ৬০০টি বাসাবাড়ির মিটার থেকে আরও কয়েক শ বাসাবাড়িতে অবৈধ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে কর্মীদের মারধরের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রকল্পের ব্যাটারির অবস্থাও ভালো নয় বলে জানান রফিকুল ইসলাম। তার ভাষ্য, ১০ বছর মেয়াদি ব্যাটারিগুলো সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যেই অচল হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ব্যাটারি নষ্ট হওয়ায় নতুন ব্যাটারি আমদানির জন্য চীন থেকে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। এগুলো আসতে আরও দেড় মাস সময় লাগতে পারে।

জেনারেটরের খরচে বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে রফিকুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, সম্প্রতি টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন অনেক কমে যায়। এছাড়া সফ্‌টওয়্যার বা সার্ভারের ত্রুটির কারণে কখনো কখনো উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। তখন উচ্চক্ষমতার দুটি জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়।

তিনি বলেন, পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল-রিসোর্ট এবং ২০০টির বেশি রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট চালু হবে। তখন দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৭০০ থেকে ৮০০ কিলোওয়াটে পৌঁছাতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ১৮০ কিলোওয়াট। বাকি চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালাতে হবে।

রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে ডিজেল পরিবহনে লিটারপ্রতি আরও ৪০ টাকা খরচ হয়। এসব ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেননি বলে দাবি করেন রফিকুল ইসলাম। তার মতে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে দ্বীপে আরও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হলে সরবরাহের চাপ কমবে।

দাম ও মিটার চার্জ নিয়ে অভিযোগ

বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি মিটারে রিচার্জ ও বিভিন্ন চার্জ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। তাদের দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও প্রতিবার রিচার্জের সময় বিভিন্ন খাতে টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন বলেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের আগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। তখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছিল প্রায় দুই টাকা। ঘূর্ণিঝড়ে সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি আর সংস্কার করা হয়নি। সে সময় চাহিদা কম থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, রিসোর্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের প্রয়োজন বেড়েছে। তাই সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা জরুরি।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে এক ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। মিটারে কখনো ৭০০, কখনো ২০০ টাকা রিচার্জ করতে বলা হয়। মাসে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করেও কীভাবে টাকা খরচ হচ্ছে, তা গ্রাহকদের কাছে পরিষ্কার নয়।

আরেক বাসিন্দা আকতার কামালের অভিযোগ, প্রতি এক হাজার টাকা রিচার্জে প্রায় ৩০০ টাকা মিটার চার্জ হিসেবে কেটে নেয়া হয়। মাসে যতবারই রিচার্জ করা হোক, প্রতিবারই এই চার্জ দিতে হয়। এর সঙ্গে সরকারি কর যুক্ত হয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত খরচ ৬০ থেকে ৬২ টাকায় দাঁড়ায় বলে দাবি করেন তিনি।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুতের দাম জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আকতার কামাল। তার মতে, এ বিষয়ে গ্রাহকদের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর দাবি

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, পর্যটন মৌসুমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হলেও সে অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ে না। ব্লু মেরিন এনার্জির মালিকপক্ষ প্রতিবছর ব্যাটারি সরবরাহের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফয়েজুল ইসলামের ভাষ্য, সম্প্রতি বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে এক মাসের মধ্যে ব্যাটারি সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তার মতে, ব্যাটারি সরবরাহ করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির উচিত নিজেদের ব্যবস্থাপনায় বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া। সরকার চাইলে সৌরবিদ্যুৎ বা পিডিবির মাধ্যমে দ্বীপের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সূর্যের আলো ব্যবহার করে দিনে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। কোনো ধরনের সেবা না বাড়িয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দ্বীপবাসী মেনে নেবে না।

ফয়েজুল ইসলামের দাবি, সরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ কিংবা বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পাশাপাশি দ্বীপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা পিডিবির

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেডের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ শিহাব সময় সংবাদকে বলেন, প্রকল্পটি চালুর সময় মূলত বাসাবাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা বিবেচনায় অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ইজিবাইক, মিশুক, হোটেল-রিসোর্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়ায় রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যটন মৌসুমে বাড়তি চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণি সময় সংবাদকে বলেন, নানা কারণে সেন্টমার্টিনের অচল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল করা সম্ভব হয়নি। তবে সেখানে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে বলে আশা করছেন তারা।

৩৫ বছর ধরে অচল সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, অন্যদিকে ব্যয়বহুল বেসরকারি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা-সব মিলিয়ে সেন্টমার্টিনের প্রায় ১১ হাজার বাসিন্দার জন্য বিদ্যুৎ এখন বড় সংকট। নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানালেও কবে নাগাদ এর সুফল মিলবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তাই সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান দ্বীপবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%