১১:৫৪ পি.এম
বরিশাল মহানগরীতে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে বিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা শাখার বিশেষ আভিযানিক দল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, চিহ্নিত মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত করা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বিএমপি মিডিয়া সেলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা শাখার বিশেষ আভিযানিক দল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে।
বরিশাল নগরীতে মাদকদ্রব্যের বিস্তার এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ, মাদক ব্যবসার বিস্তার রোধ এবং নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এমন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা পুলিশের আকস্মিক চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযানকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনা প্রতিরোধে কাজ করছে পুলিশ।
বিশেষ করে মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএমপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিরসনে বরিশাল মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধীদের শনাক্তকরণ, মাদকবিরোধী তৎপরতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কার্যক্রম চলছে।
আরও পড়ুন: শিবগঞ্জে পুলিশের অভিযান: ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজন গ্রেপ্তার
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ করে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পারিবারিক সচেতনতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করাও প্রয়োজন।
বরিশাল মহানগর পুলিশের চলমান এ অভিযান নগরীর নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, তা পর্যবেক্ষণ করছেন নগরবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান যেন সাময়িক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়।
মাদকমুক্ত, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ বরিশাল মহানগরী গড়ে তুলতে বিএমপির এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন