ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিভাগীয় কমিশনারের নাম ভাঙিয়ে কমলনগর ঘাটে মোক্তারের রাজত্ব


বিভাগীয় কমিশনারের নাম ভাঙিয়ে কমলনগর ঘাটে মোক্তারের রাজত্ব

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মাতাব্বরহাট ও মতিরহাট খেয়াঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে এবং তাঁদের নাম ভাঙিয়ে ইজারাদার মোহাম্মদ মুক্তার হোসেন ঘাটটিতে একচ্ছত্র অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও মাঝিমাল্লাদের চরম ক্ষুব্ধ অবস্থার কারণে ইজারাদারের নানাবিধ অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং ইজারা শর্ত ভঙ্গের কারণে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ মুক্তার হোসেন একটি দোকান পরিচালনা করার সুবাদে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এই কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে তিনি ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ১০% মূল্য বৃদ্ধি হারে এই আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটের ইজারা নেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও জেলা পরিষদের চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ঘাটটি কোনোভাবেই তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া বা হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু সরকারি এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইজারাদার মুক্তার হোসেন ঘাটটি অন্য একজনের কাছে ২২ লক্ষ টাকায় বিক্রি বা উপ-ইজারা দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এই বিষয়ে ইজারাদার মোহাম্মদ মুক্তার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অকপটে নিয়ম লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করে বলেন, "বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমাকে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য এই ঘাট ভাড়া দিয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "যার কাছে ঘাট হস্তান্তর করেছি, তিনি আমাকে ১২ লক্ষ টাকা দিলেও এখনো বাকি টাকা পরিশোধ করেননি।" সরকারী নিয়ম-নীতির প্রসঙ্গে তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, "এগুলো কেবল কাগজেই হয়। আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকেই এভাবে চলে আসছে।" চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত ও ফিটনেস সার্টিফিকেটধারী ৪টি করে মোট ৮টি যাত্রীবাহী নৌযান থাকার কথা। প্রতিটি নৌযানের গায়ে নাম লেখা এবং কমপক্ষে ২ জন করে দক্ষ মাঝিমাল্লা বা সারেং থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মাতাব্বরহাট খেয়াঘাটে কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। বর্তমানে মোট তিনটি ছোট এবং ঝুঁকিপূর্ণ নৌকাই আন্তঃবিভাগ পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী: রাসিক প্রশাসক

যাত্রী উঠানামার জন্য ঘাটে নেই কোনো সিঁড়ি কিংবা জেটি। বর্ষার এই মৌসুমে নদী উত্তাল থাকার সময়েও বিআইডব্লিউটিএ-এর সংকেত অমান্য করে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকাগুলো চলছে। একেকটি ছোট নৌকায় বর্তমানে ২০-৩০ জন যাত্রী, ৫০টিরও বেশি দুধের ক্যান (প্রতি ক্যান ৫০ লিটার) এবং প্রচুর মালামাল বোঝাই করে মাঝেরচর, ভোলা, মদনপুর কিংবা বাঘারহাটের উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছেড়ে যাচ্ছে। নৌকায় যাওয়ার জন্য যাত্রী জামাল উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, "আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পার হই। নৌকায় ওঠার কোনো সিঁড়ি নেই, কাদা-পানি ভেঙে উঠতে হয়।" বাইরের অবস্থা খুবই খারাপ; ঘাটে কোনো গণশৌচাগার বা যাত্রী ছাউনি নেই এবং চারপাশ মল-মূত্র আর আবর্জনায় সয়লাব হয়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী ঘাটে কোনো নৌযান চলাচল করবে তার তালিকা জেলা পরিষদে জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও মুক্তার হোসেন তা করেননি। অভিযোগ রয়েছে যে, জেলা পরিষদের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে আসছে। অনুসন্ধানী দল জেলা পরিষদে এই আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটের নথি তলব করার সময় সেখানে কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখতে এক মাসের সময় চেয়েছে। অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএ-এর পরিবহন পরিদর্শক আব্দুর রহমান জানান, "বর্ষার সংকেত চলাকালীন সময়েও এই ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানগুলো দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।" তিনি বলেন, "আমরা বহুবার নিষেধ করা এবং সতর্ক করার পরেও ইজারাদার পক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।" দ্বৈত কর্তৃত্ব, ইজারাদারের খামখেয়ালিপনা এবং প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার নীরবতায় মাতাব্বরহাট খেয়াঘাটটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই অবৈধ ঘাট বিক্রি বন্ধ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে গার্মেন্টসকর্মীর আত্মহত্যা: ‘পরকীয়া নয়, পারিবারিক বিরোধই কারণ’ দাবি স্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


নেছারাবাদে গার্মেন্টসকর্মীর আত্মহত্যা: ‘পরকীয়া নয়, পারিবারিক বিরোধই কারণ’ দাবি স্ত্রীর

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামে ঘটে যাওয়া গার্মেন্টসকর্মী সজল কুমার দেউরীর আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন মোড় এসে উপস্থিত হয়েছে। ঘটনার ১৩ দিন পর নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার দাবি করেছেন যে, আত্মহত্যার পেছনে কোনো পরকীয়ার বিষয় ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ও মানসিক চাপই হচ্ছে এ ঘটনার মূল কারণ। একইসঙ্গে নিহতের মা ও ছোট ভাইও জানিয়েছেন, তাঁরা কখনো পরকীয়ার কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতেন না।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ হল যে, সজল কুমার দেউরীর মৃত্যুর পর একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরকীয়ার বিষয়টিকে ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও, প্রতিহিংসা থেকে একটি কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার বলেন, “আমার সঙ্গে আমার স্বামীর সুসম্পর্ক ছিল। ঘটনার সাত-আট দিন আগে আমার দেবর ও শাশুড়ির সঙ্গে আমার স্বামীর জায়গা-জমি ও ঘর ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি চলছিল। সেই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এ আত্মহত্যা ঘটে। এখানে পরকীয়ার বিষয়টি এনে প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “এক সময় আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। আমার স্বামীর চাকরির সুবাদে সংসারের অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু দেবর সুজিত কুমার দেউরী এবং জা রাত্রি রানীর পক্ষ নিয়ে শাশুড়ি প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করতেন। আমার স্বামী কখনই সংসার আলাদা করতে চাননি।”

রঞ্জিতা রানীর অভিযোগ হল যে, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে মিথ্যা পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে তাঁর স্বর্ণালংকার ও ভ্যানিটি ব্যাগের মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে গেলে তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

নিহতের ছোট ভাই সুজিত কুমার দেউরী বলেন, “আমার বড় ভাই আমার কাছে বাবার মতো ছিলেন। মা আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বড় ভাই তখনই এটি করতে চাননি। এই নিয়ে কয়েকদিনের জন্য সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল।”

পরকীয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শোভন আমার বন্ধু। আমরা একই ক্লাসে পড়াশোনা করেছি। তাঁকে সন্দেহ করার কোনো কারণ আমি দেখিনি। তাদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো আমাদের চোখে কোনো আপত্তিকর বিষয় পড়েনি। শোভনও আমাদের বাড়িতে তেমন আসত না।”

নিহতের মা লক্ষ্মী রানী দেউরী বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব আমার বড় ছেলে নিয়েছিল। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে সে আত্মহত্যা করবে, তা আমি কখনো ভাবিনি। পরকীয়ার বিষয়টি আমার ছেলের মৃত্যুর পর শুনেছি। মৃত্যুর আগে এমন কোনো বিষয় আমাদের নজরে আসেনি।”

তিনি আরো জানান, ছোট নাতনির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার ইচ্ছা করছেন না।

উল্লেখ্য, নিহত সজল কুমার দেউরী নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জুন সোমবার সকালে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কলে স্ত্রী রঞ্জিতা রানী ও মা লক্ষ্মী রানী দেউরীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এদিকে, ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে, কিন্তু আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলা-উপজেলার হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


জেলা-উপজেলার হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটিতে শুরুতে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চিকিৎসকরা বিভিন্ন স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা এবং চলমান অনেক বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার কর্তৃক নেয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, রাজধানী কেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। সকাল সোয়া ১০টায় ঢামেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ লাখ টাকার বিরোধে ভাগ্নেকে হত্যার অভিযোগ মামার বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


১০ লাখ টাকার বিরোধে ভাগ্নেকে হত্যার অভিযোগ মামার বিরুদ্ধে

বগুড়া শহরে আরিফ শেখ (৩৫) নামের একাধিক মামলার আসামিকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে মামা ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার মূল কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

 

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার সময় শহরের কলোনি লতিফপুর এলাকায় অবস্থিত প্রীতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিফ শেখ একই এলাকার আজিজ শেখের সন্তান। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, আরিফের সঙ্গে টাকাসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তার কিছু নিকটজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে শুক্রবার বিকেলে একদল দুর্বৃত্ত আরিফকে খুঁজতে থাকে। পরে রাতে লতিফপুর এলাকায় তাকে একা পেয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে চলে যায়। রাত ১টার দিকে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন।

আরিফের বোন রুমি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের মামা বাদলের কাছে ১০ লাখ টাকা পেত আরিফ। মামা এই টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। এই টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সেলিম, জীবন, নাহিদসহ আরও কয়েকজন আরিফকে হত্যা করেছে। মামা লোক ভাড়া করে আমার ভাইকে হত্যা করিয়েছেন।’

হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেছেন, ‘খবর পাওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার মূল কারণ পুলিশ জানে না। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেলের বাজারে অস্থিরতা, পাকিস্তানে বাড়তে পারে জ্বালানির দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


তেলের বাজারে অস্থিরতা, পাকিস্তানে বাড়তে পারে জ্বালানির দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকার কারণে পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১৩ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ১৪ রুপি বাড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন জ্বালানি মূল্যের নির্ধারণের পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে, ২৮ জুন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও পাকিস্তান সরকার পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের ওপর পেট্রোলিয়াম শুল্ক বাড়িয়েছিল। তবে সেই সময় খুচরা জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাই-স্পিড ডিজেলের ওপর শুল্ক প্রতি লিটার ৬.৫৭ রুপি বাড়িয়ে ৭৯.৫৪ রুপি করা হয়েছে। একই সময়ে, পেট্রোলের ওপর শুল্ক ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৬৬.৬৪ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকলে পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আরো বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। পাকিস্তানে কেরোসিন তেলের ওপর পেট্রোলিয়াম শুল্ক প্রতি লিটার ২০.৩৬ রুপি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও সেই সুবিধা সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি।

সরকার আগামী সপ্তাহের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুল্ক কাঠামোতে এই পরিবর্তন আনা হয়। তবে কেরোসিন তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে সরকার। দেশটির তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (ওজিআরএ) কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ৬.৮৫ রুপি কমিয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, কেরোসিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২৩৩.৯০ রুপি থেকে কমে ২২৭.০৫ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেট্রোলিয়াম শুল্ক বৃদ্ধি শুধুমাত্র পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। কেরোসিন তেলের ওপর শুল্কে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোক্তাদের পেট্রোল ও ডিজেলের জন্য আগের মতোই খুচরা মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তবে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%