প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিটানিয়া গ্রামে ঘটে যাওয়া গার্মেন্টসকর্মী সজল কুমার দেউরীর আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন মোড় এসে উপস্থিত হয়েছে। ঘটনার ১৩ দিন পর নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার দাবি করেছেন যে, আত্মহত্যার পেছনে কোনো পরকীয়ার বিষয় ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ও মানসিক চাপই হচ্ছে এ ঘটনার মূল কারণ। একইসঙ্গে নিহতের মা ও ছোট ভাইও জানিয়েছেন, তাঁরা কখনো পরকীয়ার কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতেন না।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ হল যে, সজল কুমার দেউরীর মৃত্যুর পর একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরকীয়ার বিষয়টিকে ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়াও, প্রতিহিংসা থেকে একটি কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদার বলেন, “আমার সঙ্গে আমার স্বামীর সুসম্পর্ক ছিল। ঘটনার সাত-আট দিন আগে আমার দেবর ও শাশুড়ির সঙ্গে আমার স্বামীর জায়গা-জমি ও ঘর ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটি চলছিল। সেই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এ আত্মহত্যা ঘটে। এখানে পরকীয়ার বিষয়টি এনে প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “এক সময় আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। আমার স্বামীর চাকরির সুবাদে সংসারের অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু দেবর সুজিত কুমার দেউরী এবং জা রাত্রি রানীর পক্ষ নিয়ে শাশুড়ি প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ করতেন। আমার স্বামী কখনই সংসার আলাদা করতে চাননি।”
রঞ্জিতা রানীর অভিযোগ হল যে, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে মিথ্যা পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে তাঁর স্বর্ণালংকার ও ভ্যানিটি ব্যাগের মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি জানান, শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে গেলে তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
নিহতের ছোট ভাই সুজিত কুমার দেউরী বলেন, “আমার বড় ভাই আমার কাছে বাবার মতো ছিলেন। মা আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বড় ভাই তখনই এটি করতে চাননি। এই নিয়ে কয়েকদিনের জন্য সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল।”
পরকীয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শোভন আমার বন্ধু। আমরা একই ক্লাসে পড়াশোনা করেছি। তাঁকে সন্দেহ করার কোনো কারণ আমি দেখিনি। তাদের সম্পর্ক নিয়ে কখনো আমাদের চোখে কোনো আপত্তিকর বিষয় পড়েনি। শোভনও আমাদের বাড়িতে তেমন আসত না।”
নিহতের মা লক্ষ্মী রানী দেউরী বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব আমার বড় ছেলে নিয়েছিল। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে সে আত্মহত্যা করবে, তা আমি কখনো ভাবিনি। পরকীয়ার বিষয়টি আমার ছেলের মৃত্যুর পর শুনেছি। মৃত্যুর আগে এমন কোনো বিষয় আমাদের নজরে আসেনি।”
তিনি আরো জানান, ছোট নাতনির ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার ইচ্ছা করছেন না।
উল্লেখ্য, নিহত সজল কুমার দেউরী নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ জুন সোমবার সকালে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও কলে স্ত্রী রঞ্জিতা রানী ও মা লক্ষ্মী রানী দেউরীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে, ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে, কিন্তু আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন