০৯:৩৭ পি.এম
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি মাইক্রোবাসের তেলের ট্যাংকের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় প্রস্তুত করা গোপন চেম্বারে লুকানো ৪০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন ব্যক্তি মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ২৯ লাখ টাকা।
এ সময় মাদক পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত কালো রঙের একটি নোহা মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়।
আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে বারইয়ারহাট ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— খুলনা সদর থানার আদমপাড়া এলাকার মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রবি (৪০), নেহালপুর এলাকার মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে গাড়িচালক মো. আলাউদ্দিন শেখ (২৮) এবং জিন্নাহপাড়া এলাকার মৃত আনসার আলী সিকদারের ছেলে মো. মোশারফ শিকদার জাম্বু (৩৫)।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের জানা যায় যে, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মহাসড়কের ঢাকামুখী অংশে বারইয়ারহাট ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।
পরে চেকপোস্টের দিকে আসা কালো রঙের এক্স নোহা স্কয়ার হাইব্রিড মাইক্রোবাসটি থামিয়ে তা তল্লাশি করা হয়। এ সময় গাড়ির চালক সহ যাত্রীবেশে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, পুলিশ গাড়ির পেছনের সিটের নিচে প্লেনশিট দিয়ে ঢেকে রাখা তেলের ট্যাংকের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় তৈরি গোপন চেম্বারের সন্ধান পায়।
সেখান থেকে স্কচটেপে মোড়ানো ছয়টি বান্ডেল ও লাল ক্রসটেপ দিয়ে মোড়ানো ১৪টি বান্ডেল থেকে মোট ৪০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ২০০ গ্রাম ভাঙা ইয়াবা বা ইয়াবার গুঁড়াও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে, মাদক পরিবহনের জন্য মাইক্রোবাসটি খুলনার রূপসা ব্রিজ এলাকা থেকে কক্সবাজারের কলাতলী বিচ এলাকায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পলাতক শাহাবুদ্দিন গাড়িটি আলাউদ্দিন শেখের কাছ থেকে বুঝে নেন।
পরে শাহাবুদ্দিন ও রবিউল মিলে গাড়ির তেলের ট্যাংকের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় গোপন চেম্বার তৈরি করে সেখানে ইয়াবাগুলো লুকিয়ে রাখেন। আসলে ইয়াবাভর্তি গাড়িটি গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ইয়াবাগুলো ঢাকায় অবস্থানরত রানা বেগ ও রনি নামের দুই ব্যক্তির কাছে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে নারীকে পিটিয়ে দুই দাঁত ভাঙার অভিযোগ, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের দাবি; পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বারইয়ারহাট ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে থেকে ৪০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন