ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লুটপাটের উদ্দেশ্যেই অতীতে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল: অর্থ উপদেষ্টা


লুটপাটের উদ্দেশ্যেই অতীতে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অতীতে অনেক প্রকল্প জনস্বার্থের পরিবর্তে লুটপাটের উদ্দেশ্যে নেওয়া হতো।

ফলে দেশের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা ও সদর উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে মাদকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী-শাশুড়িকে মারধর ও হত্যার হুমকি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ড. তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) নিম্ন বাস্তবায়ন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল।

এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যরা জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে যেসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন, সেগুলো দ্রুত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের হাতে ১৩.৭ কেজি হরিণের মাংসসহ চামড়া জব্দ

সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়ার সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৯১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে শোকজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে শোকজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেনকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ শোকজ নোটিশ জারি করেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়সাল হোসেনের বিরুদ্ধে জাবি শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আছে। এ ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে নোটিশে বলা হয়েছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে এগোনোর সময় ফয়সাল হোসেনের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এছাড়া, একই দিনের পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের সহ-সভাপতি ও বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ জিতুকে সঙ্গে নিয়ে ফয়সাল হোসেন ক্যাম্পাসে শোডাউন দেন। দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে থেকে বিএনপি’র কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারিত না থাকলেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ ছাত্রনেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, এই ধরনের ঘটনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফয়সাল হোসেনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি’ তৈরির দায়ে মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


‘জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি’ তৈরির দায়ে মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ঢাকা, ৭ আগস্ট, ২০২৬ : শিশু-কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে ‘জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি’ (পাবলিক নিউস্যান্স) তৈরি করার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যের আদালত মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছে। শিশুর ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। এর পাশাপাশি তারা শিশুদের জন্য প্ল্যাটফর্ম দুটির কিছু ফিচার সীমিত করার নির্দেশও দিয়েছে। নিউ মেক্সিকোর আদালত বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। ইতিমধ্যে গত মার্চে একই মামলায় মেটাকে শিশু-কিশোরদের প্ল্যাটফর্মে যৌন শিকারিদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য দায়ী সাব্যস্ত করে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। সান ফ্রান্সিসকো থেকে এএফপি জানায়, মেটা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে। তবে এ সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোও শিশুদের ক্ষতি এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে মামলা করেছে। আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় এ ধরনের একটি বড় মামলার বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস বলেছেন, ‘আজকের রায় সেই সব অভিভাবকের জন্য বিজয়, যারা তাদের সন্তানদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে এটি সেই সব শিশুরও বিজয়, যারা আরও নিরাপদ অনলাইন পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলা সবসময়ই শিশুদের সুরক্ষা, পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানিকে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ বন্ধ করার জন্য ছিল।’ যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে ‘জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনা এটিই প্রথম এবং শিশুদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে হাজারো মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অর্থ পাঁচ বছরে একটি মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা তহবিলে প্রদান করতে হবে। বাকি অর্থ শিশু-কিশোরদের সম্ভাব্য অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি এবং আদালতের নির্দেশিত পরিবর্তন বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শনে সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত ফিচারগুলোর ওপর সংগৃহীত তথ্য বিচারক ব্রায়ান বিডশাইড তার রায়ে বলেন, অটোপ্লে, ইনফিনিট স্ক্রলিং, ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শন, পুশ নোটিফিকেশন এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক কনটেন্ট সুপারিশের মতো ব্যবহারকারীর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা ফিচারগুলো কিশোর-কিশোরীদের ওপর বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে। তিনি ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য পুশ নোটিফিকেশন এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময় মাসে ৯০ ঘণ্টা অর্থাৎ গড়ে দিনে প্রায় তিন ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। স্কুল চলাকালীন সময়ে নির্দিষ্ট ধরনের নোটিফিকেশন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। আদালত কর্তৃক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘লাইক’ সংখ্যা প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে এবং নিউ মেক্সিকোতে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়াও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে বছরে দুটি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে মেটাকে। মেটা তাদের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে এএফপিকে জানিয়েছে, ‘আমরা এ রায়ের সঙ্গে একমত নই এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করব।’ প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, ‘অনলাইনে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় আমাদের কার্যক্রম নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী এবং প্রকৃত তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’ সামনের আরও মামলা প্রসঙ্গে, চূড়ান্ত শুনানিতে প্রসিকিউটর লিন্ডা সিঙ্গার জুরিদের বলেন, মেটা শিশু-কিশোরদের জন্য ঝুঁকির বিষয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ গবেষণার তথ্য গোপন করেছে। একই সঙ্গে তাদের অ্যালগরিদম প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের কিশোরদের পোস্ট করা কনটেন্টের দিকে চালিত করেছে। গত মার্চ মাসে আদালত নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের দায়ে মেটাকে দোষী সাব্যস্ত করার পরে, আদালতের মতে, শিশুদের জন্য তাদের পণ্যগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই ধরনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্য বর্তমানে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক কিশোর মেটা, ইউটিউব, টিকটক এবং স্ন্যাপের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় পৌঁছানোর পরে বিচার শুরুর কয়েক দিন আগে তার মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানসিক স্বাস্থ্যগত ক্ষতি নিয়ে প্রথম ‘বেলওয়েদার’ মামলার রায় গত মার্চে হয়। সে সময় লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি জুরি ২০ বছর বয়সী এক নারীর পক্ষে মেটা ও গুগলকে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এছাড়া গত মে মাসে মেটা, স্ন্যাপ, টিকটক এবং ইউটিউব কেন্টাকির একটি স্কুল জেলার সঙ্গে একই ধরনের মামলায় গোপন সমঝোতায় পৌঁছায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুণগত মান বজায় রেখে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


গুণগত মান বজায় রেখে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ

ঢাকা, ৭ আগস্ট, ২০২৬ : গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বাইপাইলে এক সমন্বয় সভা শেষে বাসসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধান করা এবং এটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন।’

রউফ তার বক্তব্যে জানান, প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সার্ভিস লেন অংশের নির্মাণকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই সেখান থেকে দুটি সার্ভিস লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি নির্মাণকাজের কারণে জনদুর্ভোগ কমাতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নির্দেশনার পাশাপাশি বলেন, ‘কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রেখেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই এক্সপ্রেসওয়ের নির্বাচিত কয়েকটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

দেশের দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর। রাজধানী ঢাকা ও দেশের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

দেশের প্রথম ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়িত হলেও, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বিদেশি ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন হচ্ছে।

চীনের চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে এবং অর্থায়ন করছে চায়না এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অংশের দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার হবে। এর সঙ্গে সাথে একটি ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার এবং ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

এছাড়া, প্রকল্প এলাকায় ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ডাক্ট নির্মাণের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যদি প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়, তাহলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরাসরি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা আন্তঃসীমান্ত সড়ক যোগাযোগকে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এ এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-তেঁতুলিয়া এবং ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে নির্বিঘ্নভাবে সংযোগ স্থাপন করবে। এর ফলে দেশের সড়ক পরিবহন নেটওয়ার্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত হারে টোল পরিশোধ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ হাজার টন আবর্জনা খুঁজেও মিলল না অভিনেত্রীর মাথা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ পি.এম


১১ হাজার টন আবর্জনা খুঁজেও মিলল না অভিনেত্রীর মাথা

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ভারতের চেন্নাইয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে খণ্ড-বিখণ্ড এক নারীর দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় তামিলনাড়ু পুলিশ একটি জটিল তদন্তের সম্মুখীন হয়।

প্রায় ১১ হাজার ৭০০ টন আবর্জনা খুঁজেও নিহতের মাথা এবং বাঁ হাত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে ডান হাতে থাকা দুটি ট্যাটুর সূত্র ধরে শেষ পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের পরিচয় ছিল ৩৭ বছর বয়সি উদীয়মান তামিল অভিনেত্রী সন্ধ্যা।

পুলিশ জানায়, পল্লীকরনাই ডাম্পইয়ার্ডের কাছাকাছি একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে প্রথমে একটি কাটা হাত ও দুটি পা উদ্ধার করা হয়। পরে আদিয়ার নদীর তীরসহ চেন্নাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাড়গোড়, শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ এবং দেহের অন্যান্য অংশ উদ্ধার হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন, সব দেহাবশেষ একই নারীর এবং তাকে হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছে।

তবে নিহতের মাথা ও বাঁ হাত না থাকায় চেহারা কিংবা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ ঘটনায় উপপুলিশ কমিশনার মুথুসামীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। পল্লীকরনাই ডাম্পইয়ার্ডে প্রায় ১১ হাজার ৭০০ টন আবর্জনা তল্লাশি চালিয়ে দেহের আরও কিছু অংশ উদ্ধার হলেও মাথা এবং বাঁ হাতের সন্ধান মেলেনি।

পরে উদ্ধার হওয়া ডান হাতে আঁকা শিব-পার্বতী এবং একটি ড্রাগনের ট্যাটু তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। ঠিক সেই সময় থুথুকুডির এক নারী থানায় এসে জানান, তার ৩৭ বছর বয়সি মেয়ে সন্ধ্যা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ। তিনি জানান, মেয়ের স্বামী বালাকৃষ্ণন দাবি করেছিলেন, সন্ধ্যা ১৯ জানুয়ারি থুথুকুডির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কখনোই সেখানে পৌঁছাননি।

নিহতের হাতের ট্যাটু, একটি বিশেষ তিল এবং অলংকার দেখে সন্ধ্যার মা মেয়েকে শনাক্ত করেন। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ সন্ধ্যার স্বামী ও তামিল চলচ্চিত্র নির্মাতা বালাকৃষ্ণনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। শুরুতে তিনি দাবি করেন স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বালাকৃষ্ণন জানান, ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি রাতে পরকীয়ার সন্দেহের কারণে তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তিনি ঘরে থাকা একটি কুড়াল দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেন। পরদিন তিনি মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে চেন্নাইয়ের বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

তদন্তে দম্পতির বাসা থেকে রক্তের দাগ, দেহ বহনে ব্যবহৃত একই ধরনের প্লাস্টিকের বস্তা এবং দেহ খণ্ডিত করতে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গভীর রাতে মোটরসাইকেলে করে প্লাস্টিকের বস্তা বহনের সিসিটিভি ফুটেজও জব্দ করে পুলিশ।

পুলিশি তদন্তে আরও জানা যায়, থুথুকুডির বাসিন্দা সন্ধ্যা ও বালাকৃষ্ণনের দাম্পত্যজীবন দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক সহিংসতা ও আর্থিক সংকটে জর্জরিত ছিল। ২০১৮ সালে সন্ধ্যা পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছিলেন। অন্যদিকে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় লোকসানের কারণে বালাকৃষ্ণন আর্থিক চাপে ছিলেন। এই সময় অভিনয়জগতে নতুন করে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করা সন্ধ্যাকে নিয়ে তার মধ্যে পরকীয়ার সন্দেহ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

তদন্তকারীরা ঘটনার পুনর্গঠন করতে এবং অধিকাংশ দেহাবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, হত্যার কয়েক বছর পরও সন্ধ্যার মাথা এবং বাঁ হাত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ধারণা, পরিচয় গোপন করতেই ওই দুটি অংশ আলাদাভাবে গুম করে দেওয়া হয়েছিল। তবে একটি হাতের ট্যাটু এবং মায়ের দেওয়া তথ্যই শেষ পর্যন্ত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%