১২:৪৪ এম
দিনাজপুরের হাকিমপুরে একটি দাখিল মাদরাসায় চাকরি দেওয়ার নামে ৩৪ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা সুপার ও সভাপতির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার কারণে হাকিমপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে পুলিশ মাদরাসা সুপারকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গোবিন্দপুর গুমড়া দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসার সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক (২৭) এবং মাদরাসার সুপার মো. মোজাহার আলী (৪৯)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে চাকরি প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়ার।
এজাহারে বলা হয়েছে, চাকরি প্রার্থীরা মো. শাকিল বাবু, মো. মিনহাজ উদ্দিন, মো. রাশেদুজ্জামান লিফাত ও মোছা. মোন্তানা আক্তার মিতু বিধি মোতাবেক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিরাপত্তাকর্মী, নৈশ্য প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নির্বাচিত হন। তবে তারা অভিযোগ করেছেন যে, চাকরিতে যোগদানের আগে ও পরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে চাকরিতে যোগদান ও পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত করা হবে না বলে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লিখিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে আমির হামজার তাফসির মাহফিল সম্পন্ন, রাজনৈতিক উত্তেজনা উপেক্ষা
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মাদরাসা মাঠ থেকে শাকিল বাবু ও রাশেদুজ্জামান লিফাতকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে লোহার রড দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং বিশেষ করে টাকা দাবি করা হয়।
পরে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নগদ অর্থ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে শাকিল বাবু ২৫ ডিসেম্বর ৮ লাখ টাকা, মিনহাজ উদ্দিন ২৬ ডিসেম্বর ৬ লাখ টাকা, রাশেদুজ্জামান লিফাত ২৮ ডিসেম্বর ১০ লাখ টাকা এবং মোন্তানা আক্তার মিতুর স্বামী ১০ লাখ টাকা দেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন যে, টাকা দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা আরও টাকা দাবি করতে থাকে এবং এমপিওভুক্তি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. শাহিনুর ইসলামকে জানানো হলে তিনি পরামর্শ দেন আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করার। পরে ভুক্তভোগীরা হাকিমপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: লালপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৯০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
এ ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানিয়েছেন, মামলায় অভিযুক্ত ২ নাম্বার আসামি মাদরাসা সুপার মোহাম্মদ মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তারপূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন