০১:১১ এম
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তুলে ধরেছেন, বেহাত হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আইনি লড়াইকে আরও জোরদার করা হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন রিট মামলা, চাকরি সংক্রান্ত মামলা, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল মামলা এবং আদালত অবমাননা সম্পর্কে মামলাসমূহের দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বিশেষ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অতীতের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে আহমেদ আযম খান জানান, বিভিন্ন কারণে সরকারি মামলাগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়নি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। তিনি বলছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের দক্ষ আইন কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করার জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
মন্ত্রী বলেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস, সলিসিটর উইং এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় সৃষ্টি হবে। ফলে বর্তমান আইনি জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হবে।
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং বিভিন্ন মহলের যুক্তিসংগত কারণে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সম্পদ বেহাত হয়েছে। বর্তমান সরকার এবং মন্ত্রণালয় এসব সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে কঠোরভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
মন্ত্রী অব্যাহতভাবে জানান, রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্পদ হলো জনগণের সম্পদ। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেহাত হওয়া সকল সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং এ ব্যাপারে কোনরকম আপসের সম্ভাবনা নেই।
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা প্রণয়নের জন্য তিনি বলেন, এই জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তথ্যনির্ভর ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অতীতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, তা গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করার প্রসঙ্গে, বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়, অথচ তালিকাভুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান আরো সুদৃঢ় হবে।
দেশের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক এবং কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইন শাসন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আমরা একটি উন্নত এবং মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার
এই কর্মশালায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞ সলিসিটর, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের আইন কর্মকর্তাগণ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সকলেই অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন