ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে আইনি লড়াই জোরদার করা হবে: আহমেদ আযম খান


মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে আইনি লড়াই জোরদার করা হবে: আহমেদ আযম খান

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান তুলে ধরেছেন, বেহাত হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আইনি লড়াইকে আরও জোরদার করা হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন রিট মামলা, চাকরি সংক্রান্ত মামলা, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল মামলা এবং আদালত অবমাননা সম্পর্কে মামলাসমূহের দ্রুত ও কার্যকর নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বিশেষ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অতীতের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে আহমেদ আযম খান জানান, বিভিন্ন কারণে সরকারি মামলাগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়নি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। তিনি বলছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের দক্ষ আইন কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করার জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

মন্ত্রী বলেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস, সলিসিটর উইং এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় সৃষ্টি হবে। ফলে বর্তমান আইনি জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হবে।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং বিভিন্ন মহলের যুক্তিসংগত কারণে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সম্পদ বেহাত হয়েছে। বর্তমান সরকার এবং মন্ত্রণালয় এসব সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে কঠোরভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

মন্ত্রী অব্যাহতভাবে জানান, রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্পদ হলো জনগণের সম্পদ। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেহাত হওয়া সকল সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং এ ব্যাপারে কোনরকম আপসের সম্ভাবনা নেই।

মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা প্রণয়নের জন্য তিনি বলেন, এই জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তথ্যনির্ভর ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অতীতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছে, তা গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত ও আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট

তিনি বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করার প্রসঙ্গে, বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অনেক অযোগ্য ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়, অথচ তালিকাভুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান আরো সুদৃঢ় হবে।

দেশের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক এবং কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইন শাসন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আমরা একটি উন্নত এবং মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার

এই কর্মশালায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞ সলিসিটর, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের আইন কর্মকর্তাগণ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সকলেই অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৫ এম


প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি জানান যে, দেশে ও বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলোর সমাধানে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রম মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার ভিত্তিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।’

বুধবার জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় এ কথা বলেন। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, টাস্কফোর্সের কাজ ভিন্ন হতে পারে, তবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা গেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সেখানে আলোচনা করা সম্ভব হবে। এছাড়া, বিমানবন্দরসহ সব ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, শ্রম ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী কমিটিও গঠন করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিদেশে কর্মসংস্থানকে ‘আদম ব্যবসা’ হিসেবে কলঙ্কিত করা হয়েছিল এবং মানবপাচার ও অর্থপাচারের সঙ্গে অনেকেই জড়িত ছিলেন। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ১০০ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পাসপোর্ট সেবা সহজ করার জন্য সরকার বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব নির্দেশনা বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে— পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট প্রদান, অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধ, কল সেন্টার ও হেল্পলাইন চালু করা এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণ।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্য ই-পাসপোর্ট সুবিধা চালু করা হয়েছে, যা পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। মোবাইল এনরোলমেন্ট কিটের মাধ্যমে ই-পাসপোর্টের আবেদন ও সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের কাছে দ্রুত পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিদেশে অন্যান্য বাংলাদেশ মিশনেও ই-পাসপোর্ট সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে প্রবাসীরা পাসপোর্ট পেতে কিছু সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন। সরকার দ্রুত সেগুলো সমাধানের জন্য চেষ্টা করছে।

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বহু বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টাকালে অনেক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করায় তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে সমাধান করতে পারবে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকার প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ব্যবহার করলেও তাদের জন্য কার্যকর কিছু করেনি। বর্তমান সরকার প্রবাসীদের সব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। অবৈধ অভিবাসন রোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালু করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

প্রস্তাব উত্থাপন করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে বছরে প্রায় ১.৬৮ লাখ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসে।

তিনি প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স হিরো’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহবান জানান এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা তদারকির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান।

তিনি দেশ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুধু আর্থিক রেমিট্যান্স নয়, আমাদের প্রয়োজন মেধার রেমিট্যান্স। মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশত্যাগ জাতির জন্য বড় ধরনের মেধা ক্ষয়।’

আলোচনায় আরও অংশ নেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, বরকত উল্লাহ বুলু, এম মাহবুবুল আলম, মনিরুল হক চৌধুরী ও এম নাজিবুর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২০ এম


ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও আইনের শাসন, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধিত্বের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে, সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনপ্রিয়তার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো ন্যায়, যুক্তি ও আইনের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায়, মৃত্যুদণ্ড বিলোপের প্রশ্নটি অত্যন্ত জটিল। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের ঘটনায় সমাজে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে অপরাধের ধরন যাই হোক না কেন, প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়, দ্রুত তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা সত্ত্বেও সরকার আইনের মৌলিক নীতিমালা থেকে বিচ্যুত হয়নি। কারণ ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রত্যেক অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় লিগ্যাল এইড কমিটি শক্তিশালী করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, মামলা জট কমাতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি হ্রাস করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও মধ্যস্থতা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনা খরচে আইনগত সেবা প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক মামলা প্রো বোনো ভিত্তিতে পরিচালনার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে। বাংলাদেশও একদিন মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আরও অগ্রসর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার ক্রমবিকাশের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ একরামুল হক, সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ-এর পরিচালক অধ্যাপক  ড. শাহনাজ হুদা ও প্রফেসর মাহবুবর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২৭ এম


দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অনুমোদন

সালের জুন-আগস্ট মেয়াদে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ২৬তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে গ্যাস অয়েল, জেট এ-১ ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল এবং অকটেন আমদানির জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ চারটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাব কমিটির সামনে উত্থাপন করে।

অনুমোদিত প্রস্তাবের আওতায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড প্যাকেজ-১ এর অধীনে আনুমানিক ৭ হাজার ৬৭২ দশমিক ৬৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ০.০০৫ শতাংশ সালফারযুক্ত গ্যাস অয়েল এবং জেট এ-১ ফুয়েল সরবরাহ করবে।

একই ক্যাটাগরির জ্বালানি সরবরাহের আরেকটি প্যাকেজ (প্যাকেজ-২) আনুমানিক ৬ হাজার ৭১১ দশমিক ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড থেকে আমদানি করা হবে।

এছাড়া, কমিটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১ হাজার ৯০০ দশমিক ০৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্যাকেজ-৩ এর আওতায় ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

পাশাপাশি, প্যাকেজ-৪ এর অধীনে আনুমানিক ৭৪৮ দশমিক ৯৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাসোলিন ৯৫ (অকটেন) সরবরাহের জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে নির্বাচন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, দুটি পৃথক সরবরাহকারীর কাছ থেকে ডিজেল এবং বিমান জ্বালানি (এভিয়েশন ফুয়েল) সংগ্রহ করার ফলে সরবরাহ চেইন বহুমুখী হবে এবং জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

এই আমদানির মূল উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো এবং দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইইউ ও এসিইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ এম


ইইউ ও এসিইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের বৈঠক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং এসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজ (এসিইউ)-এর দুটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। দুপুরবেলায় বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউ’র পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাত বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি নিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা এই খাতে আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন সরকারী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের চলমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরা ছাড়াও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের কাজের তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘সরকার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কর্মীদের উন্নত সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’ এছাড়া অভিবাসন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের নীতিগত উদ্যোগের কথা তিনি উল্লেখ করেন। ইইউ প্রতিনিধিদলে হেনরিক নিয়েলসেন, আলেকসান্দ্রা ডোমানস্কা, বাইবা জারিনা এবং জুরাতে স্মালস্কিতে মেরভিল উপস্থিত ছিলেন। এরপর এসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিস্তার এবং কমনওয়েলথভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে পারস্পরিক সংযোগ জোরদার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মাহদী আমিন বাংলাদেশের শিক্ষা খাত উন্নয়নে সরকারের নীতি ও রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলবে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ এসিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে তাদের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। এসিইউ প্রতিনিধিদলে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল প্রফেসর কলিন রিওর্ডান, দক্ষিণ এশিয়ায় এসিইউ’র রিজিওনাল এনগেজমেন্ট লিড ইকিতা পোখরনা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ ফেরহাত আনোয়ার, রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাওল্যান্ড, ডেপুটি রেজিস্ট্রার অ্যাডভোকেট ফারহান হক এবং ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মশিয়ার রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%