ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাজিরপুরে জমে উঠেছে মাছ ধরা যন্ত্রের হাট


নাজিরপুরে জমে উঠেছে মাছ ধরা যন্ত্রের হাট

বর্ষায় নতুন পানি আসার সাথে সাথে খাল-বিল, নদ-নদীতে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীও প্রজাতি মাছের আনাগোনা। আর এসব মাছ ধরার জন্য চাই বা দুয়ারীর অথবা খাদোইন ব্যবহার করা হয়।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান ও শ্রীরামকাঠি বাজারে জমে উঠেছে এসব মাছ ধরার চাই এর হাট। সপ্তাহে দুদিন এই সকল বাজারে হাজার হাজার মাছ ধরার চাই খুচড়া ও পাইকারী দরে বিক্রী হয়ে থাকে।

জানা গেছে, নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার চাই ও দুয়ারি তৈরীর সংঙ্গে জড়িত। বছরের বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস তারা এ মাছ ধরার যন্ত্র তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন।

আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

তল্লা ও কালী জিরা বাশঁ দিয়ে এ চাই তৈরি করা হয়। একটি বাশঁ দিয়ে ৭ থেকে ৮টি চাই তৈরি করা সম্ভব। তবে একজন কারিগর একদিনে ৫ থেকে ৬ টির বেশি চাই তৈরি করতে পারে না। বাজারে এক কুড়ি চাই ৩০০০ হাজার টাকা থেকে ৪০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রী হয়ে থাকে। এ ছাড়া এক পিস চাই ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এসব চাই তৈরির জন্য একটি বাশঁ কেনেন ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে।

চাই তৈরির কারিগর সুদেব বৈরাগী জানান, তার পরিবারের সবাই মিলে বর্ষা মৌসুমের ৬ মাস চাই তৈরির কাজ করেন। বাশঁ কেনা থেকে শুরু করে সম্মপূর্ণ চাই তৈরি করতে যে কষ্ট আর খরচ হয়, সে তুলনায় লাভ বেশি হয় না। তবে এ শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

এদিকে উপজেলা মৎস্য অফিস বলেন, ‘মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রতিটি মাছের পেটেই ডিম থাকে। এই মা মাছ না ধরার জন্য জেলেদের বিভিন্ন প্রকার সচেতননতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। মাছ শিকারে জেলেরা বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র বা জাল ব্যবহার করেন। এগুলো দমনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় মাঝে মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী মাদক কারবারীকে আটক করে পুলিশে দিলো ছাত্রদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০২ এম


নারী মাদক কারবারীকে আটক করে পুলিশে দিলো ছাত্রদল

প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং লামিয়া আক্তার (১৯) নামে এক নারী মাদক কারবারীকে হাতেনাতে আটক করেছেন, এরপর পুলিশে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার টরকী বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন চাতাল থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক হওয়া মাদক কারবারী লামিয়া উপজেলার সালতা গ্রামের সামছুল হক বেপারীর মেয়ে।

উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রুবেল গোমস্তা ও পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুর রহিম জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তারা টরকী বাসষ্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন।

এরই মধ্যে তারা জানতে পারেন যে, বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন চাতালের মধ্যে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। তখন থানা পুলিশকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাদকের আস্তানায় হানা দেয়া হয়। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেখামাত্র মাদক ক্রেতারা খালে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে গেছে, তবে এক নারী মাদক কারবারিকে ২১ পুড়িয়া গাঁজাসহ আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

ছাত্রদল নেতাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই মাদক স্পটে হানা দেওয়ার পরপরই স্থানীয় একটি শক্তিশালী মাদক চক্র এসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাতে শুরু করে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে মাদক চক্রটি সেখান থেকে পালানোর মাধ্যমে রক্ষা পায়।

তবে আটক হওয়া লামিয়া আক্তার জানিয়েছেন, তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন এবং চাতালের পাশে তার আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

গৌরনদী মডেল থানার এসআই সৌমেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত লামিয়ার কাছ থেকে ২১ পুড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানায় রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পথে বাংলাদেশ–চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৩ এম


মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পথে বাংলাদেশ–চীন

চীন বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে। তবে, এই সুবিধা পাওয়ার পরও দেশটিতে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে রয়েছে; বাংলাদেশে বাণিজ্যের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এই বৈষম্য কমানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাণিজ্যঘাটতি কমানো, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়ন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি এত গুরুত্ব পাচ্ছে যে, বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) গুরুত্বও রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে চীন বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পরে এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।

এটি কারণেই মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দুই দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এফটিএ চুক্তির জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এই সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তির স্বাক্ষরের জন্য 'ভৌত বা প্রত্যক্ষ আলোচনা' শুরুর অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হতে পারে: চীনে কৃষিপণ্য, বিশেষ করে আম এবং কাঁঠাল রপ্তানির জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি বাংলাদেশী তাজা আম আমদানির ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিষয়ক) প্রয়োজনীয়তা অনুমোদন দিয়েছে। এ সফরে এ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় প্রোটোকল চূড়ান্ত ও কার্যকর হতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য এ সফরের বড় অর্জন হতে পারে চীনের বিশাল বাজারে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল স্বাক্ষর।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে: প্রধানমন্ত্রীর সফরে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা খাতে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মোংলায় নতুন আরেকটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ জোরদার করার জন্য একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় সহজ করতে বাংলাদেশে চীনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবসহ ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং চীনের ‘ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর মধ্যে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। এ ছাড়া অবকাঠামো খাতে সহায়তা হিসেবে মোংলা পোর্টের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর সংস্কার এবং নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হতে পারে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এউও)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে পারে। এর সঙ্গে ব্রিকস ও আরসিইপি জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে।

বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চীন আমাদের শতভাগ শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে যে সুযোগটি দিয়েছে তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। এখন এই সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এসেছে। আমরা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে চীনে পরিচিত হতে চাই।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বিসিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন শহরে ৩০টি আউটলেট স্থাপন, যেখানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হবে; টেকনোলজি ট্রান্সফার: চীনা প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২০টি পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন; এবং বাংলাদেশে একটি ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মাধ্যমে দুই দেশের মুদ্রা বিনিময়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলসি করার সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষাকালেও চলনবিলের নাটোর অংশে নেই পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৪ এম


বর্ষাকালেও চলনবিলের নাটোর অংশে নেই পানি

পানি চলমান থাকায় নাম হয়েছে চলনবিল। অথচ বর্ষাকালে চলনবিলে পানি নেই। বর্ষায় পানি না থাকায় একদিকে মাছের উৎপাদন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, পর্যটক হারাচ্ছে চলনবিল।

পরিবেশবিদদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননসহ অবকাঠামো নির্মাণ করায় চলনবিলের এ দশা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য, হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সমীক্ষা প্রতিবেদন পেলে চলনবিল উন্নয়নে কাজ শুরু করবে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল থেকে শুরু হয়েছে চলনবিল। বর্ষাকালের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হলেও চলনবিলের পার এলাকায় পানি নেই। গাবাদি পশু খাচ্ছে ঘাস। বর্ষাকালে এই জায়গায় পানিতে টইটুম্বুর থাকা উচিত ছিল। অথচ এবারের বর্ষায় সেই চিত্রটা পুরো উল্টো।

চলনবিলের নিচু এলাকা ইটালী, ডাহিয়া ইউনিয়নে কিছুটা পানি আসলেও সেই পানি ইউনিয়ন গুলোর ডুবন্ত সড়কগুলো ডুবাতে পারে নি। বর্ষাকালেও ডুবন্ত সড়কে যানবহন চলছে। তাই, বর্ষাকালে চলনবিল তার চীরচেনা রূপে না আসায় মাঝি ও জেলাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।

অন্য বছর বর্ষাকালে নৌকার মাঝিরা প্রতিদিন দুই আড়াই হাজার টাকা আয় করলেও এখন ২ থেকে ৩ শ' টাকা আয় করছেন। পানি না থাকায় পর্যটক না আসায় নৌকাগুলো অলস হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বর্ষায় চলনবিলে পানি না এলে মাছে উৎপাদন কমার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

শেরকোল এলাকার রাশেদ বলেন, “এক সময় এই বিলে পানি চলমান থাকায় নাম হয়েছে চলনবিল। অথচ বর্ষাকালে চলনবিলে পানি থাকে না। এমনভাবে চললে চলনবিল তার অস্তিত্ব হারাবে।”

সাতপুকুরিয়া এলাকার আরেশদ বলেন, “তাদের এলাকা চলনবিলের তলানি। অথচ চলনবিলের এই তলানি এলাকার ডুবন্ত সড়কগুলো ডোবেনি। সামান্য কিছু পানি এলেও এই পানিতে নৌকা ঠিকমতো চলে না।”

নৌকা চালক সোহেল জানান, “পানি না থাকায় চলনবিলে পর্যটক আসছে না। চলনবিলে পানি থাকলে পর্যটকরা বিল ভ্রমণ করতেন। চলনবিলের এই অবস্থার কারণে পর্যটকরা আসেন না। ফলে দিনের অধিকাংশ সময় বেকার বসে থাকতে হয়।”

পরিবেশবাদিদের মতে, চলনবিলে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও অবকাঠামো স্থাপনের জন্য চলনবিল তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

চলনবিল জীববৈচিত্র রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, পুরো চলনবিলজুড়ে অসংখ্য পুকুর করা হয়েছে। চলনবিলে যেটুকু পানি এসেছে, পুকুরের কারণে সেটি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ, রাস্তা ও অবকাঠামো স্থাপনের কারণে চলনবিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ফলে, চলনবিলে মাছের উৎপাদন কমার পাশাপাশি পর্যটক শূন্য হয়ে পড়বে।

সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, “চলনবিলের সামান্য পরিমাণ পানিতে অভয়াশ্রমের মাছগুলো চলনবিলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিলের পানি বৃদ্ধি পেলে মাছও বৃদ্ধি পাবে।”

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম বলেন, “আত্রাই ও পদ্মা নদীতে পানি না থাকায় বর্ষাকালেও পানি নেই চলনবিলে। চলনবিল নিয়ে হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের চলা সমীক্ষা প্রতিবেদন পেলে সেই অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে বিলকে আগের অবস্থায় ফেরানো হবে।”

পুরো চলনবিলের মধ্যে প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার সিংড়া উপজেলায় অবস্থিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানকে ঘিরে নীতিতে পরিবর্তন আনল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৫ এম


ইরানকে ঘিরে নীতিতে পরিবর্তন আনল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান ফুটবল দল এবং তাদের জন্য অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

মিশরের বিপক্ষে তাদের শেষ গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে, দলটি ম্যাচের দুই দিন আগে সিয়াটলে যাওয়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে, আগের দুই ম্যাচের ক্ষেত্রে যে ২৪ ঘণ্টার ভ্রমণ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, এখন ইরান এক দিন বেশি সময় পাবে।

তবে ম্যাচ শেষে, দলটিকে আবারও তাদের বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে হবে। ইরানের বিশ্বকাপ ঘাঁটি তিহুয়ানা শহরে অবস্থিত, যা মেক্সিকোর অংশ।

অর্থাৎ, মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বাড়তি প্রস্তুতির সুযোগ থাকলেও, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইরানকে আবার তিজুয়ানাতেই ফিরে যেতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%