০২:১৪ এম
পানি চলমান থাকায় নাম হয়েছে চলনবিল। অথচ বর্ষাকালে চলনবিলে পানি নেই। বর্ষায় পানি না থাকায় একদিকে মাছের উৎপাদন কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, পর্যটক হারাচ্ছে চলনবিল।
পরিবেশবিদদের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননসহ অবকাঠামো নির্মাণ করায় চলনবিলের এ দশা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য, হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের সমীক্ষা প্রতিবেদন পেলে চলনবিল উন্নয়নে কাজ শুরু করবে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল থেকে শুরু হয়েছে চলনবিল। বর্ষাকালের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হলেও চলনবিলের পার এলাকায় পানি নেই। গাবাদি পশু খাচ্ছে ঘাস। বর্ষাকালে এই জায়গায় পানিতে টইটুম্বুর থাকা উচিত ছিল। অথচ এবারের বর্ষায় সেই চিত্রটা পুরো উল্টো।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে দুর্গাপূজার বিসর্জনে নিরাপত্তা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান
চলনবিলের নিচু এলাকা ইটালী, ডাহিয়া ইউনিয়নে কিছুটা পানি আসলেও সেই পানি ইউনিয়ন গুলোর ডুবন্ত সড়কগুলো ডুবাতে পারে নি। বর্ষাকালেও ডুবন্ত সড়কে যানবহন চলছে। তাই, বর্ষাকালে চলনবিল তার চীরচেনা রূপে না আসায় মাঝি ও জেলাদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।
অন্য বছর বর্ষাকালে নৌকার মাঝিরা প্রতিদিন দুই আড়াই হাজার টাকা আয় করলেও এখন ২ থেকে ৩ শ' টাকা আয় করছেন। পানি না থাকায় পর্যটক না আসায় নৌকাগুলো অলস হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বর্ষায় চলনবিলে পানি না এলে মাছে উৎপাদন কমার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
শেরকোল এলাকার রাশেদ বলেন, “এক সময় এই বিলে পানি চলমান থাকায় নাম হয়েছে চলনবিল। অথচ বর্ষাকালে চলনবিলে পানি থাকে না। এমনভাবে চললে চলনবিল তার অস্তিত্ব হারাবে।”
সাতপুকুরিয়া এলাকার আরেশদ বলেন, “তাদের এলাকা চলনবিলের তলানি। অথচ চলনবিলের এই তলানি এলাকার ডুবন্ত সড়কগুলো ডোবেনি। সামান্য কিছু পানি এলেও এই পানিতে নৌকা ঠিকমতো চলে না।”
আরও পড়ুন: মেধার শক্তিতে আগামী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে: এ কে এম সলিমুল্লাহ সেলিম
নৌকা চালক সোহেল জানান, “পানি না থাকায় চলনবিলে পর্যটক আসছে না। চলনবিলে পানি থাকলে পর্যটকরা বিল ভ্রমণ করতেন। চলনবিলের এই অবস্থার কারণে পর্যটকরা আসেন না। ফলে দিনের অধিকাংশ সময় বেকার বসে থাকতে হয়।”
পরিবেশবাদিদের মতে, চলনবিলে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও অবকাঠামো স্থাপনের জন্য চলনবিল তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।
চলনবিল জীববৈচিত্র রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, পুরো চলনবিলজুড়ে অসংখ্য পুকুর করা হয়েছে। চলনবিলে যেটুকু পানি এসেছে, পুকুরের কারণে সেটি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ, রাস্তা ও অবকাঠামো স্থাপনের কারণে চলনবিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ফলে, চলনবিলে মাছের উৎপাদন কমার পাশাপাশি পর্যটক শূন্য হয়ে পড়বে।
সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, “চলনবিলের সামান্য পরিমাণ পানিতে অভয়াশ্রমের মাছগুলো চলনবিলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিলের পানি বৃদ্ধি পেলে মাছও বৃদ্ধি পাবে।”
আরও পড়ুন: বানারীপাড়ায় সেফটি ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম বলেন, “আত্রাই ও পদ্মা নদীতে পানি না থাকায় বর্ষাকালেও পানি নেই চলনবিলে। চলনবিল নিয়ে হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের চলা সমীক্ষা প্রতিবেদন পেলে সেই অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে বিলকে আগের অবস্থায় ফেরানো হবে।”
পুরো চলনবিলের মধ্যে প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার সিংড়া উপজেলায় অবস্থিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন